শাহরাস্তিতে ১০ মাস পর কবর থেকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক (ভারপ্রাপ্ত) সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল মজুমদারের মরদেহ উত্তোলন করা হয়েছে।
চলতি বছরের ৪ঠা ফেব্রুয়ারি নিহতের স্ত্রী ফাতেমা কামাল বাদী হয়ে শাহরাস্তি মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করলে পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে এ মরদেহ উত্তোলন করা হয়।
মঙ্গলবার (৩রা জুন,২৫) দুপুরে উপজেলার সূচিপাড়া উত্তর ইউপির শোরসাক গ্রামের মজুমদার বাড়ির কবরস্থান এলাকায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নিরুপম মজুমদার এর উপস্থিতিতে শাহরাস্তি মডেল থানা পুলিশ সুরতহাল কার্যক্রম সম্পন্ন করেন।
এ সময় চেয়ারম্যানের কবর থেকে মরদেহ উত্তোলনের সংবাদে স্থানীয় অধিবাসী ও উৎসুক জনতা এসে ভিড় জমায়।
পুলিশ, মামলার নথি, নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে , ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সোমবার রাতে চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল দুর্বৃত্ত কর্তৃক হামলা শিকার হন। পরের দিন অর্থাৎ ৬ই আগস্ট মঙ্গলবার তার গৃহের পশ্চিম পাশের ডোবা থেকে মরদেহ উদ্ধার করে স্বজনরা দাফন দেয়।
নিহতের স্ত্রী মামলার বাদী ফাতেমা কামাল দাবি করেন, ঘটনার দিন তার নিহত স্বামীকে একদল দুর্বৃত্ত তাদের বাড়িতে ঢুকে হামলা চালিয়ে হত্যা করে।
এ বিষয়ে নিহতের ভাই হুমায়ূন কবির মজুমদার জানান, ওই রাতে আমিও হামলার শিকার হই। আমার ভাইয়ার (চেয়ারম্যান) এমন করুন মৃত্যুর এবং তার প্রকৃত রহস্য উন্মোচন করাই দাবি। তবে রহস্য উন্মোচন করতে গিয়ে কোন নিরঅপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখারও অনুরোধ জানান। ওই সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিরুপম মজুমদার জানান, আদালতের নির্দেশে ওই ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তফা কামালের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করে মৃত্যুর কারণ নির্ণয় করার জন্যে চাঁদপুর মর্গে প্রেরণ করা হয়।
শাহরাস্তি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল বাসার জানান, বাদীর আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালতের নির্দেশে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে মরদেহ উত্তোলন করে চাঁদপুর মর্গে ময়না তদন্তের জন্য প্রেরণ করা হয়েছে।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, শাহরাস্তি মডেল থানার এসআই আল-আমিন, এসআই মনিরুজ্জামান, আনসার সদস্যবৃন্দসহ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সদস্যবৃন্দ এবং এলাকাবাসি।

মোঃ মাসুদ রানা