চাঁদপুর শহরে ধর্মীয় ভাবগাম্ভির্যের মধ্যদিয়ে ও আনন্দঘন উদ্দিপনার মাধ্যমে পবিত্র ঈদুল আযহার প্রধান নামাজের জামাত সকাল ৮টায় পৌর ঈদগাহে অনুষ্ঠিত হয়েছে। চাঁদপুর পৌরসভার ব্যবস্থাপনায় ২০টি স্থানে পবিত্র ঈদুল আযহার নামাজের জামাতের আয়োজন করা হয়েছে।
এ নামাজের জামাতে ইমামতি করেন,বাহাদুরপুর দরবার শরীফের পীর হাজী শরিয়তউল্লাহ্(রা:) ৭ম পুরুষ পবিত্র ঈদুল আযহার নামাজের জামাতের ইমাম.পীর হাফেজ মাওলানা আবদুল্লাহ্ মোহাম্দ হাসান। নামাজের পূর্বে চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মহোসিন উদ্দিন বলেন,সবাইকে জানাই ঈদ মোবারক। এ পবিত্র ঈদের মাঠে ২য়বারের জন্য নাজাজ পড়তে আসায় খোদার কাছে শুকরিয়া জানাই। সবাইকে ঈদ মোবারক।
তিনি বলেন,কোরবানীর অর্থ হচ্ছে, ত্যাগ শিকার করার। লোভলালসা বাদদিয়ে সবাইর উর্দ্ধে থেকে ত্যাগ শিকার করারই হচ্ছে প্রকৃত পক্ষে আল্লাহ্র আদেশে কোরবানী দেওয়া। একটি পশুকে জবাইর মাধ্যমে কোরবানী দিয়ে মনের মধ্যের শয়তানি বাদ দিতে হবে।
তিনি বলেন,আমরা কি কোনবানী করি তা’ সঠিক হচ্ছে,কিনা। তা’বুঝতে হবে। কোরবানীর গোসত গরীবের হক,গরীবকে সে গোসতো চাওয়া মাত্র দিতে হবে। গোসতো চাইলে গুচ্ছ তাচিচ্ছল বাদ দিতে হবে। এ কোরবানীর গোসতো গরীবের হক। তা’তার অধিকার তাকে দিতে হবে। তিনি আরো বলেন, প্রকৃত অর্থে এ কোরবানীর মাধ্যমে আমাদের সামাজিক বন্ধন সৃষ্টি হয়। কোরবানীর মাধ্যমে সামাজিক বন্ধন সৃষ্টি হয় রাজা ও প্রজার মধ্যেও দুরুত্ব দূর হয়। শুধু গরীবরা আপনাদের খোজখবর নিবে সারা বছর। আপনাদেরও উচিত এ কোরবানীর সময় তাদের পাশে গিয়ে তাদের খোজখবর রাখা।

জেলা প্রশাসক মহোসিন উদ্দিন পৌর নাগরিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা কোরবানীর পশুর বর্জ যত্রতত্র ফেলবেন না। তিনি অভিভাবকদের উদ্দেশে বলেন,এ পবিত্র ঈদের দিন আপনাদের সন্তানদের শামলিয়ে রাখবেন,তারা যেন হোন্ডা ও মটর সাইকের দ্রুত গতিতে না’চালায় এবং নদীতে যেন না’নামে। তারা বেপরোয়া গতীতে হোন্ডা চালিয়ে ও নদীতে নেমে অকালে মারা যায়। তা’হতে দিবেন’না। এ বিষযে সকল অভিভাবক সচেতন হবে। তা’ হলে আপনার সন্তান নিরাপদে জীবন যাপন করতে পারবে।
তিনি আরো বলেন,কোরবানীর সময় গরীব আসে। কিন্তু কিছুলোক আছে যারা আসেনা বা বলতে পারেনা তাদের খোজখবর নিয়ে তাদেরকে গোসতো পৌছে দেওয়া আপনার কর্তব্য ও উচিত বলেন তিনি সকলের প্রতি আহবান জানান। তিনি বলেন,পশু কোরবানীটি সিমাবব্ধ না’রেখে তা’সকলে মধ্যে পৌছে দিবেন। তিনি বলেন,আমরা প্রসাশনের পক্ষ থেকে প্রতিটি মাদ্রাসায় বিনা মূল্যে লবন দিয়েছি। আপনারা আপনাদের পশুর চামড়াটা বাসায় ফেলে না’রেখে মাদ্রাসায় এতিমদের জন্য দেওয়ার আহবান জানান এবং প্রতিটি চামড়ায় ৮ কেজি করে লবন দিয়ে সংরক্ষন করে রাখার জন্যও বলেন।
পবিত্র ঈদুল আযহার নামাজের জামাতের ইমাম.হাফেজ মাওলানা আবদুল্লাহ্ মোহাম্দ হাসান বলেন,আমার পক্ষ থেকে কালেক্টরেট সমজিদের ইমাম মাওলানা মোশারক হোসেন,পবিত্র কোরবানী সম্পর্কে যে তাৎপর্যের বয়ান দিয়েছেন,তা’সকলকে পালন করার আহবান জানান।
তিনি বলেন কোরবানীর পশু আল্লাহ্র জন্য কোরবানী দিতে হবে। অন্য উদ্দেশ্যে কোরবানী হলে হবেনা বলে সকলের প্রতি দৃস্টি দেওয়ারও আহবান জানান।
পবিত্র ঈদুল আযহার নামাজের পূর্বে কোরআন ও হাদীস থেকে কোরবানীর তাৎপর্য নিয়ে ও নামাজের উপর ব্যাপক আলোাকপাত করেন, কালেক্টরেট জামে সমজিদের ইমাম ড.মোহাম্মদ হযরত মাওলানা মোশারক।
এ ছাড়া চাঁদপুর পুলিশ লাইনস্ ময়দানে ১ম জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে ও ২য় জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল ৮টা ৩০মিনিটে। অন্যদিকে চাঁদপুর আউটার স্টেডিম মযদানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল ৭টা৩০মিনিটে,শহরের চিশতীয়া জামে মসজিদ সংলগ্ন হাসান আলী উচ্চ বিদ্যালয মাঠে সকাল ৮টায় ও সকার ৯টায়,পুরান বাজার মধুসূধন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সকাল ৭টা ৩০মিনিটে,বাবুর হাট ঈদগাহ ময়দানে সকাল সকাল ৭টা৩০মিনিটে,জেলা কারাগার জামে মসজিদ ময়দানে সকাল ৮টায় ও সকাল ৮া ৩০মিনিটে। এ ছাড়া ও শহর ও শহরতলীর প্রধান প্রধান স্থানে পবিত্র ঈদুল আযহা নামাজের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিনিধি