চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে পৌরসভার একটি সরকারি পাম্প ঘর দখল করে ব্যক্তিগত মাছ চাষের কাজে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা রাধা কান্ত রাজুর বিরুদ্ধে। সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হচ্ছে—উক্ত ঘরে ব্যবহৃত বিদ্যুতের বিল পরিশোধ করে আসছে পৌরসভা, অথচ এর পূর্ণ সুবিধা ভোগ করছেন একজন ব্যক্তি!
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হাজীগঞ্জ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বলাখাল জে.এন. উচ্চ বিদ্যালয় ও কারিগরি কলেজ সংলগ্ন দীঘিটি কয়েক বছর আগে লিজ নেন আওয়ামী লীগ নেতা রাধা কান্ত রাজু। এরপর থেকেই দীঘির পাশে অবস্থিত পৌরসভার মালিকানাধীন সরকারি পাম্প ঘরটিও দখল করে নেন তিনি।
এই ঘরের মাধ্যমে ভূ-গর্ভস্থ পানি উত্তোলন করে দীঘিতে সরবরাহ করা হয়, যার মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে মাছ চাষের বিশাল কর্মযজ্ঞ। অথচ এই পানির পাম্প চালাতে ব্যবহৃত উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বৈদ্যুতিক সংযোগের বিল দিচ্ছে হাজীগঞ্জ পৌরসভা—অর্থাৎ জনগণের অর্থে।
সম্প্রতি সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, পাম্প ঘরের ভেতরে রাখা হয়েছে মাছের খাবার, আসবাবপত্র এবং রাজুর কর্মচারীরা সেখানে দীর্ঘদিন ধরে অবস্থান করছেন। স্থানীয়রা জানান, তারা প্রায়ই সেখানে মাছ চাষের কার্যক্রম পরিচালনা করতে দেখেন রাজুর লোকজনকে।
প্রথমে বিদ্যুৎ ব্যবহার এবং পাম্প ঘর দখলের বিষয়টি স্বীকার করলেও, পরে মুঠোফোনে রাধা কান্ত রাজু জানান: “আমি ঘর ব্যবহার করি, কিন্তু বিদ্যুৎ বিল দেয় পৌরসভা। সরকার থেকে সবাই তো কিছু না কিছু সুবিধা নেয়, আমি তো আর বড় কিছু নেইনি। এই ঘরটাই ব্যবহার করেছি। তবে ৫ আগস্টের আগ পর্যন্ত করেছি, এখন আর করি না।”
হাজীগঞ্জ পৌরসভার ওয়াটার প্ল্যানিং প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান বলেন, “পাম্প ঘরটি অনেক দিন ধরেই পরিত্যক্ত ছিল। তাই বিষয়টি তেমন গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়নি।” এই মন্তব্যে প্রশাসনিক অবহেলার বিষয়টিও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, “এটি শুধু একটি ঘর দখল নয়, এটি জনগণের সম্পদ ও অর্থের অপব্যবহার। পৌরসভার বিদ্যুৎ ব্যবহার করে ব্যক্তি ব্যবসা চালানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত জেলা প্রশাসন কিংবা পৌর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো তদন্ত শুরু হয়নি। তবে স্থানীয় জনগণ, নাগরিক সমাজ ও সুশীল মহল দোষীদের চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।

নিজস্ব প্রতিনিধি