একটি সকাল কেবল একটি অনুষ্ঠানের শুরু ছিল না- সেটি ছিল আনন্দ, মানবিকতা আর সমতার এক অপূর্ব মিলনমেলা। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মুখে হাসি ফুটিয়ে “আপন” যেভাবে দেশজ ফল উৎসব আয়োজন করেছে, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় এবং সমাজের প্রতিটি দায়িত্বশীল নাগরিকের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস।
আম, কাঁঠাল, লিচু থেকে শুরু করে বিলুপ্তপ্রায় নুইন্না, ডেউয়া, কাউ কিংবা সফেদার মতো ফল যখন একসাথে সাজানো হয় শিশুদের জন্য, তখন সেটা শুধুই উৎসব নয়- এটি হয়ে ওঠে ভালবাসা ছড়িয়ে দেওয়ার এক নিঃস্বার্থ প্রয়াস। আর সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য ছিল, সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির শিশুদের এক কাতারে দাঁড় করিয়ে তাদের জন্য সাম্যের পরিবেশ তৈরি করা।
এই আয়োজনের কথা আমি জানতে পারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক থেকে। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক, আমার স্নেহের ছোট ভাই, কবি, লেখক ও গণমাধ্যমকর্মী আশিক বিন রহিমের একটি পোস্ট হৃদয় ছুঁয়ে যায়। যদিও স্বশরীরে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার সৌভাগ্য আমার হয়নি- আর হবেই বা কিভাবে, সংগঠনের কর্ণধার রোটারিয়ান ডা. রাশেদা আক্তার বা আশিক কেউই আমন্ত্রণ জানায়নি কখনো। এবারো তার ব্যতিক্রম হয়নি। তবুও তাতে আমার কোনো দুঃখ নেই।
কারণ, এই আয়োজনটি এতটাই প্রাণবন্ত ও অর্থবহ ছিল যে, দূর থেকে দেখেও তাতে হৃদয় মিশিয়ে দেওয়া যায়। আমন্ত্রণ না পেলেও আমি ছিলাম- ভালোবাসায়, অনুভবে, এবং আপন-এর সকল মানবিক প্রয়াসে চুপিচুপি পাশে। এমন কাজের জন্য পাশে দাঁড়াতে আমন্ত্রণ লাগে না, লাগে কেবল হৃদয়ের সাড়া।

অনুষ্ঠানের প্রতিটি মুহূর্ত ছিল শিশুর মনোজগতের জন্য এক আশ্চর্য জাগরণ। খেলাধুলা, খুনসুটি, গান আর ছড়ার মাঝে তারা খুঁজে পেয়েছে ভালোবাসার ছায়া, নির্ভরতার পরশ। এমন একটি আয়োজনে শুধু শিশুরাই নয়, আমন্ত্রিত অতিথিরাও পেয়েছেন মানবিকতা পুনরাবিষ্কারের সুযোগ।
কৃতজ্ঞতা “আপন” পরিবারের প্রতি- বিশেষ করে সংগঠনের প্রতিটি সদস্য, উপদেষ্টা ও আয়োজকদের, যাদের নিরলস পরিশ্রমে এমন একটি ব্যতিক্রমী ও হৃদয়গ্রাহী অনুষ্ঠান সম্ভব হয়েছে। ‘আপন’ প্রমাণ করেছে-ভালোবাসা দিয়ে গড়া সমাজেই শিশুদের জন্য ভবিষ্যৎ সবচেয়ে সুন্দরভাবে গড়ে ওঠে।
আমরা চাই, ‘আপন’-এর এই পথচলা আরও সুদূরপ্রসারী হোক। দেশের প্রতিটি অঞ্চলেই এমন মানবিক আয়োজন ছড়িয়ে পড়ুক।
ধন্যবাদ আপন, তোমাদের জন্যই সমাজে এখনও আলোর আশা টিকে আছে।
যারা ডাকে না, তারাও পাশে থাকে- হৃদয়ের বাঁকে বাঁকে।
মানবিকতার পাশে দাঁড়াতে কখনো আমন্ত্রণ লাগে না।

আহমেদ শাহেদ