মেয়েকে লাল শাড়িতে সাজিয়ে সুপাত্রের হাতে তুলে দেবেন এই ছিল ফরিদগঞ্জ উপজেলার দেলোয়ার হোসেনের স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন নিয়েই ভাগনেকে সঙ্গে করে ছুটে গিয়েছিলেন সম্ভাব্য পাত্রপক্ষের বাড়ি দেখতে। অন্যদিকে, ঘরে অপেক্ষায় ছিলেন তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী সুখবর নিয়ে স্বামী ফিরবেন, এই আশায়। কিন্তু স্বপ্নভঙ্গ হলো হঠাৎই। পথেই থেমে গেলো দেলোয়ারের জীবন। পাত্রপক্ষ দেখে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেলেন তিনি।
বুধবার (২৫ জুন) বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে ফরিদগঞ্জ-চাঁদপুর আঞ্চলিক সড়কের কালিরবাজার চৌরাস্তা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত দেলোয়ার হোসেন রূপসা উত্তর ইউনিয়নের পশ্চিম রূপসা গ্রামের গাইনের বাড়ির বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম আবদুল লতিফ।
দেলোয়ারের ভাগনে সোহেল জানান, ‘মামার বড় মেয়ে লামিয়ার জন্য পাত্র দেখতে আমরা মোটরসাইকেলে করে নয়ারহাট গিয়েছিলাম। ফেরার পথে ফরিদগঞ্জ লাইফ জেনারেল হাসপাতালের সামনে পৌঁছালে একটি বালুবাহী ট্রাক আমাদের মোটরসাইকেলটিকে চাপা দেয়। মামা গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান।’
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী যুবক আরমান বলেন, ‘চাঁদপুরগামী একটি বালুবাহী ট্রাক মোটরসাইকেলটিকে চাপা দেয়। এতে পেছনে বসা আরোহী ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।’
নিহতের পরিবার জানায়, দেলোয়ার হোসেন এক সময় সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন। চার বছর আগে দেশে ফিরে তিনি কৃষিকাজে যুক্ত হন। তাঁর দুই মেয়ে—বড় মেয়ে লামিয়া এ বছর এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে এবং ছোট মেয়ে অনিয়া সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে। নিহত দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী বর্তমানে অন্তঃসত্ত্বা।
দুর্ঘটনার পর ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আবু তাহের ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়।

এস. এম ইকবাল