ঢাকার উত্তরায় প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তে নিহত মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক মাহেরীন চৌধুরীর দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ জুলাই) বিকেল ৪টার দিকে বগুলাগাড়ি স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে নামাজে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
পারিবারিক সূত্র জানায়, মরহুম মোহিতুর রহমান চৌধুরী ও ছাবেরা চৌধুরী দম্পত্তির বড় সন্তান মাহেরীন চৌধুরী। তারা দুই ভাই ও দুই বোন।
মাহেরীনের জন্ম ১৯৭৯ সালের ৬ জুন। তিনি ১৯৯৫ সালে ঢাকার শাহিন স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি ও ১৯৯৭ সালে একই প্রতিষ্ঠান থেকে এইচএসসি পাস করেন। এরপর তিতুমীর কলেজ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স শেষ করেন।
শিক্ষাজীবন শেষে তিনি ২০০২ সালে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষকতা পেশায় যোগ দেন।
২০০৮ সালে শরিয়তপুর নড়িয়া উপজেলার চর আত্রাই গ্রামের মনছুল হেলালের সঙ্গে বিয়ে হয়। স্বামী ঢাকার একটি কম্পনির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। তাদের রয়েছে দুই ছেলে সন্তান।
মেহেরীনদের বাড়ির কেয়ারটেকার আব্দুস ছামাদ জানান, মাহেরীনের বাবা মোহিতুর রহমান চৌধুরী প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের খালাতো ভাই ছিলেন।
তার মায়ের নাম ছিল রওশন আরা। সেদিক থেকে মাহেরীন চৌধুরী প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ভাতিজি।
বগুলাগাড়ি স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) মহুবর রহমান বলেন, ‘আমাদের প্রতিষ্ঠানে তিনি চলতি বছরের ২৮ এপ্রিল এডহক কমিটির সভাপতি হন। তিনি ২২ জুন প্রতিষ্ঠানে এসে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক দিকনির্দেশনা দেন। ২৮ জুলাই অর্ধবার্ষিকী পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ ও অভিভাবকদের নিয়ে মতবিনিময় সভায় তার উপস্থিত হওয়ার কথা ছিল।
সোমবার ওই দুর্ঘটনার আগে দুপুর ১২টার দিকে মুঠোফোনে আমার সঙ্গে সবশেষ কথা হয়। এ সময় ওই অনুষ্ঠানে আসতে পারবেন না বলে আমাকে জানিয়েছিলেন।’
প্রতিবেশী আব্দুস সাত্তার (৪৫) বলেন, ‘মাহেরীন চৌধুরীরা গ্রামের বাড়িতে থাকেন না ঠিকই। কিন্তু বিভিন্ন ঈদে বাড়িতে আসেন। শীতের সময় শীতবস্ত্র বিতরণসহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন।’

প্রিয় চাঁদপুর ডেস্ক