প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ১ আগস্ট, ২০২৫ । ৬:৩৭ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

অর্ধশতাব্দী পেরিয়ে এখনও জরাজীর্ণ শাহরাস্তি দৈয়ারা মাদরাসায় টিনের ঘরেই পাঠদান

মোঃ মাসুদ রানা

দেশ স্বাধীন হওয়ার মাত্র ছয় বছরের মাথায়, ১৯৭৭ সালের জানুয়ারিতে চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তি উপজেলার চিতোষী পশ্চিম ইউপির দৈয়ারা গ্রামে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান “দৈয়ারা দারুছ সুন্নাত মবিনিয়া নেছারিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসা”।

শিক্ষানুরাগী ও জনহিতৈষী ব্যক্তিদের আর্থিক সহায়তা ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে যাত্রা শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ ৪৮ বছর পরেও আজও প্রতিষ্ঠানটি পাকা ভবন না পেয়ে জরাজীর্ণ টিনশেড ঘরে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

আজও শিক্ষা কার্যক্রম চলছে মাত্র সাতটি জরাজীর্ণ দোচালা টিনের ঘরে। বর্ষাকালে শ্রেণিকক্ষে বৃষ্টির পানি ঢুকে বই-খাতা ভিজে যায়। গ্রীষ্মে ভয়াবহ গরমে বর্ষায় শিক্ষার্থীদের পাঠগ্রহণ প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বর্ষা মৌসুমে শ্রেণিকক্ষে বৃষ্টির পানি ঢুকে বই-খাতা ভিজে যাচ্ছে। দোচালা টিনের ঘরগুলোর ভেতরে প্রখর রোদে ও গরমে শিক্ষার্থীদের টিকে থাকা কষ্টকর হয়ে পড়েছে।

মাদরাসার সুপারিনটেনডেন্ট আবু নোমান মোঃ আব্দুর রহমান জানান, “শাহরাস্তি উপজেলার মধ্যে এই মাদরাসাটি সবচেয়ে বেশি অবহেলিত। দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্টদের নিকট বহু আবেদন করা হলেও কেউ উদ্যোগ নেয়নি।

প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪০০-এর বেশি। কর্মরত আছেন ১১ জন শিক্ষক, অথচ ৯টি শিক্ষক পদের এখনো অনুমোদন মেলেনি। মাদরাসার নামে ১ একর ২২ শতাংশ জমি থাকলেও নেই একটি আধুনিক ভবন। ৪৮ বছরেও পাকা কোনো শ্রেণিকক্ষ না থাকায় শিক্ষার্থী ও শিক্ষক উভয়েই মানবেতর পরিবেশে পাঠদান ও পাঠগ্রহণে বাধ্য হচ্ছেন।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি মাদরাসা কর্তৃপক্ষ স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার বরাবর একটি আধুনিক বহুতল ভবন বরাদ্দ চেয়ে আবেদন দাখিল করেন। এখনো সেই আবেদন অনুত্তরিত।

দীর্ঘদিন ধরে আলোকিত জ্ঞানচর্চা অব্যাহত রাখা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটি আজ উন্নয়ন ও দৃষ্টিপাতের বাইরে রয়ে গেছে। স্থানীয়রা প্রশ্ন তুলেছেন- একটি প্রতিষ্ঠিত দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কেন এতটা বঞ্চনার শিকার?

জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন এবং সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলের দ্রুত হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।

এছাড়া প্রতিষ্ঠানটিতে নতুন ভবনসহ পর্যাপ্ত সরকারি সহায়তা না পেলে ভবিষ্যতে এর টিকে থাকা অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে।

Editor and Publisher: Mohammad Abdul Qayyum Khan. Acting Editor: Saiful Islam Sifat. Executive Editor: Md. Masud Rana.

Editorial and Commercial Office: Bhuiyan Bhaban, (2nd Floor), Adjacent to Chandpur Government College, Chandpur. News Room: Medina Super Market (2nd Floor), Ramganj Road, Bishwa Road, Hajiganj, Chandpur.

প্রিন্ট করুন