শাহরাস্তি জেনারেল হাসপাতালে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারে গাফিলতির অভিযোগে উম্মে হাসনা রিপা (২৯) নামে চার সন্তানের জননীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। ওই মৃত্যুকান্ডে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ জনতা হাসপাতাল এলাকায় বিক্ষোভ ও ভাঙচুর চালায়।
বর্তমানে ওই প্রতিষ্ঠানটি তালাবদ্ধ রয়েছে এবং বন্ধ রয়েছে চিকিৎসাসেবা।
নিহত রিপা পৌরসভার পূর্ব নিজমেহার মহল্লার কবিরাজ বাড়ির প্রবাসী মো. দিদার হোসেনের স্ত্রী। গত ২৬ জুন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের (অব.) জুনিয়র কনসালটেন্ট ও শাহরাস্তি জেনারেল হাসপাতালের এমডি, গাইনী চিকিৎসক ডা. তানজিনা সুলতানার অধীনে সিজারিয়ানের মাধ্যমে তিনি সন্তান প্রসব করেন।
৩০ জুন ছাড়পত্র দেওয়া হলেও এরপর থেকে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে।
এরপর ২৬ জুলাই রিপাকে ঢাকার পদ্মা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং ২৭ জুলাই তাকে রিলিজ দেওয়া হয়। পরে আবার অবনতি হলে ২৮ জুলাই ভর্তি করা হয় শাহরাস্তি উয়ারুক মেডিল্যাব হাসপাতালে। সেখানে তার অবস্থার আরও অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (ঢামেকে) স্থানান্তর করা হয়।
রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের সময় চিকিৎসকের অসাবধানতায় রোগী রিপার জরায়ু ও মূত্রথলি কেটে ইনজুরি হয়, যা পরবর্তীতে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণসহ মারাত্মক জটিলতায় রূপ নেয়। ব্যথা ও জটিলতা বাড়তে থাকলে তাঁকে একাধিকবার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। শেষমেশ গত ১ আগস্ট শুক্রবার দিবাগত রাত আড়াইটায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সিজারের ৩৮ দিনের মাথায় তাঁর মৃত্যু হয়।
শনিবার সকালে ওই মৃত্যুর খবর এলাকায় পৌঁছালে শতাধিক জনতা শাহরাস্তি জেনারেল হাসপাতাল ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু করে এবং হাসপাতালের গেইট, জানালা ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
সরজমিনে গেলে দেখা যায়, রিপার মা, মেয়ের কফিনের পাশে দাঁড়িয়ে তার রেখে যাওয়া ৩৮দিনের অবুঝ শিশুটি কোলে নিয়ে অঝোর ধারায় কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার মেয়ে রিপা চারটা ছোট বাচ্চা রেখে গেলো।
এটা ডাক্তার না, কসাই! ওই মেয়ে হারা মায়ের কান্নায় উপস্থিত জনতাকে আরও ক্ষুব্ধ করে তোলে। এদিকে এলাকার একাধিক পরিবার হাসপাতালের বিরুদ্ধে আগে থেকেই চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ করে আসছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম জানান, আমরা ক্ষতিগ্রস্ত, বাকরুদ্ধ ।
এ বিষয়ে শাহরাস্তি স্বাস্থ্য পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডাঃ আকলিমা জাহান বলেন, এই পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোন অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ এলে উর্ধ্বতন কর্মকতাদের সঙ্গে পরামর্শ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শাহরাস্তি থানার ওসি মো. আবুল বাসার জানান, “ঘটনার পর পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।”
অভিযোগের বিষয়ে ডা. তানজিনার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।
এদিকে, হাসপাতালের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীরা। তারা বলেন, “ভুল চিকিৎসা যেন আর কাউকে প্রাণ হারাতে না হয়। প্রশাসনের এখনই ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।”

অনলাইন ডেস্ক