শাহরাস্তিতে বলশিদ মহিলা মডেল আলিম মাদরাসার পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন জেলা ওলামা লীগের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম। এ খবর প্রকাশ্যে আসতেই স্থানীয়ভাবে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
সভাপতির পদ থেকে তার অব্যাহতির দাবিতে ইতোমধ্যে বিদ্যোৎসাহী সদস্য মো. মনিরুজ্জামান, অভিভাবক সদস্য মো. খোরশেদ আলম ও সদস্য আয়েশা বেগম পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। এদিকে( ৮- সেপ্টেম্বর) সোমবার বিকেলে অনিয়ম ও অস্বচ্ছতার অভিযোগে আজ স্থানীয়রা এক মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, অনিয়ম ও প্রভাব খাটিয়ে গোপনে এ কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত ও কমিটি বাতিলের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজিয়া হোসেনের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন।ওই প্রতিষ্ঠানটি টিকিয়ে রাখতে মাদরাসাটির নাম বিগত সময়ে তিনবার পরিবর্তন করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রথমে এর নামকরণ করা হয় প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ আমিনুল ইসলামের মায়ের নামে ফজিলতের নেছা মহিলা মাদরাসা।
পরবর্তীতে রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ের লক্ষ্যে বিগত সরকারের সময়ে নাম বদলে রাখা হয় শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব মহিলা মাদরাসা। বর্তমানে আবার নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে বলশিদ মডেল মহিলা আলিম মাদরাসা। তবে প্রধান ফটকে এখনও আগের নামফলক ঝুলতে দেখা যায়।
অভিযোগকারী বাবুল হোসেন পাটোয়ারী জানান, সভাপতি আমিনুল ইসলাম একাধিক মাদরাসার দায়িত্ব একসাথে সামলাচ্ছেন। কয়েক বছর আগে তিনি আহমেদনগর আলিম মাদরাসায় অধ্যক্ষ হিসেবে যোগ দিলেও বলশিদ মহিলা মাদরাসার কার্যক্রমও তার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
এ ছাড়া তার স্ত্রী নাজমা বেগম অফিস সহকারী পদে থেকে বাড়িতে বসেই হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরিবারের আরও পাঁচজন সদস্য এই মাদরাসায় চাকরি করছেন।সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের কক্ষে তালা ঝুলছে। শিক্ষক মিলনায়তন খোলা থাকলেও উপস্থিত শিক্ষক সংখ্যা সীমিত।
মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষক ঝর্ণা আক্তার জানান, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ উপজেলা মিটিংয়ে, অফিস সহকারী ছুটিতে। ঘোষিত কমিটির বিষয়ে তিনিও নিশ্চিত নন। সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা তোফাজ্জল হোসেন বলেন, “অধ্যক্ষের কক্ষের চাবি সভাপতির কাছে থাকে। কমিটির রেজুলেশন ও সদস্যদের তালিকাও তার কাছেই রয়েছে।
গত ০৭ সেপ্টেম্বর নতুন করে যোগদান করা মাদ্রাসা সুপার মনিরুজ্জামান জানান, আমি নতুন যোগদান করেছি।বিস্তারিত জেনে জানাবো।
”শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজিয়া হোসেন বলেন, “কমিটি নিয়ে অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।স্থানীয়দের দাবি, অনিয়ম ও অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় এ কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাদের দাবি, অভিযোগ যাচাাই শেষে বিদ্যমান কমিটি বাতিল করে জনগণের মতামতের ভিত্তিতে একটি স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য কমিটি গঠন করতে হবে।
অভিযোগের বিষয়ে সভাপতি মাও. আমিনুল ইসলাম বলেন, “মাদরাসার নাম দুইবার পরিবর্তন হয়েছে, তিনবার নয়। আমার মায়ের নাম মরিয়ম, তার নামে নামকরণ করা হয়নি। আরেকটি প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ হয়েও এখানে সভাপতি হওয়া নিয়মসিদ্ধ। তিন সদস্যের পদত্যাগ তাদের ব্যক্তিগত বিষয়।
ম্যানেজিং কমিটি গঠনের অনিয়ম প্রসঙ্গে অভিভাবক প্রতিনিধি খোরশেদ আলম বলেন, “একদিন অফিসে গিয়ে আমাকে হঠাৎ অভিভাবক সদস্য হিসেবে স্বাক্ষর করতে বলা হয়। পরে বুঝতে পারি এটি পরিকল্পিত কৌশল। তাই আমি অনাস্থা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, “অসৎ উদ্দেশ্যে গোপনে এই কমিটি ও সুপার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আমি এ বিষয়ে কিছুই জানতাম না।”মানববন্ধনে বক্তারা স্পষ্ট করে জানান, সভাপতি আমিনুল ইসলাম ও সুপার মনিরুজ্জামানের অপসারণ না হলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন।
ওই সময় এলাকাবাসীর সর্বস্তরের জনগণের অংশ গ্রহনে মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন,ওই সময় উপস্থিত ছিলেন, স্থানীয় এলাকাবাসী সৈয়দ আহমেদ দুলাল, কামরুল আহসান মজুমদার, মমতাজ উদ্দিন ভূঁইয়া, শাহ আলম খান, বাবুল হোসেন পাটোয়ারী, গিয়াস উদ্দিন মিয়াজী, লিপন, মনির হোসেন, রুহুল আমিন পাটোয়ারী, কিরণ মুন্সি,মোশারেফ মেম্বার, হেলাল মুন্সী, সাগরসহ বহু অভিভাবক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

অনলাইন ডেস্ক