শাহরাস্তিতে দীর্ঘ ৭ বছর ধরে চিকিৎসার অভাবে অবশেষে আত্মহননের পথ বেছে নিলেন মেধাবী তরুণ দীপ্ত চন্দ্র দাস (২২)।
বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার টামটা দক্ষিণ ইউনিয়নের কুলশি (দোপা বাড়ি) গ্রামে নিজ ঘরে গলায় ফাঁস দিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালে হাজীগঞ্জ–রামগঞ্জ সড়কে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন দীপ্ত। তার ডান পায়ে রিং বসানো হলেও অর্থাভাবে তা অপসারণ করা সম্ভব হয়নি। উন্নত চিকিৎসার আশায় ঢাকাসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ছুটে বেড়ালেও প্রতারণার শিকার হন তিনি। বাবার সামান্য জমিজমা বিক্রি, এনজিও ঋণ ও আত্মীয়–স্বজনের ধার-দেনাতেও চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে না পারায় গভীর হতাশায় ভুগছিলেন দীপ্ত।
পরিবারের অভিযোগ, চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে গিয়ে পুরো পরিবার চরম আর্থিক সংকটে পড়ে। সর্বস্ব হারিয়েও ছেলের চিকিৎসা করাতে না পেরে কোনো আশার আলো দেখেননি তারা। মৃত্যুর দিনও চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার কথা ছিল দীপ্তর।
ঘটনার দিন প্রথমে দীপ্তর নানী গিরি বালা বিষয়টি টের পেয়ে চিৎকার করলে পরিবারের সদস্যরা ছুটে এসে দরজা ভেঙে ঝুলন্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করেন। পরে খবর পেয়ে শাহরাস্তি থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
স্থানীয়রা জানান, দীপ্ত ছিলেন এলাকার প্রিয় ও মেধাবী যুবক। চিকিৎসা অবহেলা, দায়িত্বশীলদের উদাসীনতা এবং চরম আর্থিক সংকট তার অকাল মৃত্যুর পথ ত্বরান্বিত করেছে। এ ঘটনায় গ্রামবাসীর অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন— “অসহায়দের প্রতি সমাজপ্রতিদের কোনো দায়বদ্ধতা নেই কি?” সম্ভাবনাময় এক জীবনের এমন মর্মান্তিক সমাপ্তি পরিবারসহ পুরো গ্রামবাসীকে শোকে স্তব্ধ করে দিয়েছে।
শাহরাস্তি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আবুল বাশার জানান, এ ঘটনায় একটি ইউডি মামলা রুজু করা হয়েছে এবং মরদেহের ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

মোঃ মাসুদ রানা