শাহরাস্তিতে স্বাস্থ্য সহকারীদের ছয় দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকাল কর্মবিরতি শুরু করেছেন।
শনিবার (৫ অক্টোবর) সকাল থেকে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ হেলথ এসিস্ট্যান্ট এসোসিয়েশন, শাহরাস্তি উপজেলা শাখার নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা এ কর্মসূচি পালন শুরু করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ই.পি.আই) সহ তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনাকারী স্বাস্থ্য সহকারী, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও স্বাস্থ্য পরিদর্শকরা ছয় দফা দাবির বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন। তারা তাদের যে দাবিগুলো নিয়ে আন্দোলনের নেমেছেন তা হল, স্বাস্থ্য সহকারীদের দাবীকৃত নিয়োগ বিধি সংশোধন, ইন সার্ভিস ট্রেনিং প্রদান, ১৪তম গ্রেডে আপগ্রেডেশনসহ মোট ছয় দফা দাবি বাস্তবায়ন।একই সঙ্গে তারা বলেন, এই দাবিগুলোর বাস্তবায়ন না হওয়ায় তারা ই.পি.আই কার্যক্রম, আসন্ন টিসিভি টিকাদান ক্যাম্পেইনসহ সকল কার্যক্রম বর্জনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। সংগঠনের শাহরাস্তি উপজেলা
সভাপতি রুহুল আমিন বলেন, ১৯৭৭ সালের নিয়োগ বিধিতে আমাদের ১৬তম গ্রেডে অন্তর্ভুক্ত করা হলেও তা আজও বাস্তবায়ন হয়নি। ১৯৯৮ সালে তৎকালীন সরকার টেকনিক্যাল স্কেল ঘোষণা করলেও সেটিও কার্যকর হয়নি।
২০১৮ সালে আমরা ১৮ দিন কর্মবিরতিতে ছিলাম। তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম আশ্বাস দিলে কর্মস্থলে ফিরেছিলাম, কিন্তু প্রতিশ্রুতি আজও বাস্তবায়িত হয়নি। তিনি আরও বলেন, “২০২৫ সালের মে মাসে জাতীয় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে আন্দোলন করেও কোনো সুরাহা পাইনি। এবার আমাদের দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক, স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও শাহরাস্তি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের স্বাস্থ্য সহকারীরা।
উল্লেখ্য, সারাদেশের মতো শাহরাস্তিতেও এই কর্মবিরতির ফলে তৃণমূল পর্যায়ের টিকাদান ও জনস্বাস্থ্য কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অনেক ঠিকা সেবা গ্রহণকারী বিভিন্ন বয়সী মানুষ এসে বিড়ম্বনার শিকার হতে দেখা গেছে। এতে জনদুর্ভোগ পৌঁছেছে চরমে।

মোঃ মাসুদ রানা