চাঁদপুরের “হাজীগঞ্জ উন্নয়ন ফোরাম”-এর আয়োজনে এক বর্ণাঢ্য সুধী সমাবেশ ও ভোজসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ঢাকার ইমানুয়েল’স কনভেনশন সেন্টারে এটি অনুষ্ঠিত হয়।
এতে সভাপতিত্ব করেন হাজীগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার উল্লাহ পাটোয়ারী।
পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত ও দোয়া পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় ওলামা দলের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ মাওলানা মোঃ নজরুল ইসলাম তালুকদার।
ওই অনুষ্ঠানের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদান করেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য ও হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি বিএনপি সমন্বয়ক আলহাজ্ব লায়ন ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন- “স্বাধীনতা যুদ্ধের শহীদ বীর সেনানী, ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের প্রতি আমি গভীর শ্রদ্ধা জানাই।
বিশেষভাবে স্মরণ করছি স্বাধীনতার ঘোষক, রণাঙ্গনের অগ্রদূত, বাংলাদেশের সর্বাধিক জনপ্রিয় প্রেসিডেন্ট ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোকে।”
তিনি বলেন, “আমি আপনাদের মতোই একজন সাধারণ মানুষ, আমি রাষ্ট্র ও সমাজ মেরামতের স্বপ্ন নিয়ে ১৯৭৯ সাল থেকে বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছি এবং আজও একজন কর্মী হিসেবেই কাজ করে যাচ্ছি।” তিনি গত ২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিএনপি কর্মীদের ভূমিকা স্মরণ করে বলেন,“সেই কঠিন সময়ে আমাদের কর্মী-সমর্থকেরা শুধু হাজীগঞ্জ বা শাহরাস্তি নয়, বরং সারাদেশের মানুষকে রক্ষা করেছিলেন।
আমরা সংখ্যালঘুদের মন্দির ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান রক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছি।” হাজীগঞ্জের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন,“আমরা চাই ব্যবসা-বাণিজ্য, সামাজিক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার পরিবেশ বজায় থাকুক। আজকের এই সুধী সমাবেশে হাজীগঞ্জের কৃতি সন্তানদের উপস্থিতি আমাদের গৌরবান্বিত করেছে। তাঁরা রাষ্ট্রীয় ও প্রশাসনিক বিভিন্ন স্তরে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।”
তিনি অতীতের সংসদ সদস্যদের গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করে বলেন,“হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি আসনে যারা সাংসদ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে মরহুম এম. মতিন স্যার , মেজর অব. রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম, আব্দুর রব, ডাঃ ছাত্তার, আব্দুল ওয়াদুদ প্রমুখের অবদান আমরা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করি।”ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তিনি বলেন,“যদি বিএনপি আবারও রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পায়, তবে গতানুগতিক শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন করা হবে।
আমাদের নেতা তারেক রহমানের ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়িত হলে দল-মত নির্বিশেষে সকল নাগরিকের অধিকার ও সুযোগ নিশ্চিত হবে। বাংলাদেশ তখন সুখী ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে পৃথিবীতে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে।”
তিনি সকল অতিথি, কৃতি সন্তান ও অংশ গ্রহণকারীদের ধন্যবাদ জানিয়ে তাঁদের দীর্ঘায়ু ও মঙ্গল কামনা করে বক্তব্য শেষ করেন।
এ সময় হাজীগঞ্জ ও শাহরাস্তি উপজেলার কৃতি সন্তান, প্রশাসনের সাবেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, শিল্পপতি ও সমাজসেবকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য- শফিউল আলম স্বপন, সভাপতি, চাঁদপুর জেলা সমিতি ও মুক্তিযোদ্ধা; রাশেদা বেগম হীরা, সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ সম্পাদক; আনোয়ার হোসেন, সভাপতি, কেন্দ্রীয় কৃষক দল; কামাল উদ্দিন চৌধুরী, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য, বিএনপি; কাজী রফিকুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য, বিএনপি; মোস্তফা খান সফরী, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য, বিএনপি; ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) নাসির হোসেন, পরিচালক, বারডেম হাসপাতাল; মুক্তিযোদ্ধা মোস্তাক আহম্মেদ চৌধুরী, সাবেক এমডি, ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেড; ডঃ মাহবুবুর রহমান, ইসলামী চিন্তাবিদ ও সাবেক অধ্যক্ষ, ফরিদপুর আলিয়া মাদ্রাসা; হাজী আবুল বাশার, চেয়ারম্যান, ইউনিপিল টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রিজ লিঃ; আব্দুল করিম, চেয়ারম্যান, নাদিয়া ফার্নিচার লিঃ; এম. এ. কাইয়ুম চৌধুরী, সিনিয়র এডভোকেট, সুপ্রিম কোর্ট; প্রফেসর ডাঃ নিজাম উদ্দিন চৌধুরী, কিডনি বিশেষজ্ঞ, বিআরবি হাসপাতাল; প্রফেসর ডাঃ মোরশেদ আলম, ডেন্টাল সার্জন; প্রফেসর ডাঃ আহসান উল্লাহ তালুকদার, নাক, কান, গলা বিশেষজ্ঞ; মোঃ ফারুক হোসেন, সাবেক সচিব, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার; মাহবুবুর রহমান খোকন, সাবেক সচিব (অব.), বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী; অমল্য কুমার দেবনাথ, সাবেক অতিরিক্ত সচিব, বিপিপিএ; মোঃ শহীদ উল্লাহ মিয়াজি, সাবেক অতিরিক্ত সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয়; ডঃ আব্দুল হক, সাবেক মহাপরিচালক, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড; আলী আকবর, সাবেক রেজিস্ট্রার, সুপ্রিম কোর্ট ও পরিচালক, স্টক এক্সচেঞ্জ অথরিটি; জামাল হোসেন মজুমদার, সাবেক অতিরিক্ত সচিব (ইআরডি) ও হাজীগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের সভাপতি; হুমায়ুন আহম্মেদ, সাবেক অতিরিক্ত সচিব ও আইনজীবী, সুপ্রিম কোর্ট; আহসান হাবিব, সাবেক অতিরিক্ত সচিব ও সাবেক জেলা প্রশাসক; মোঃ বিল্লাল হোসেন, সাবেক অতিরিক্ত সচিব; ডঃ শাহ মিরন, অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; মোঃ বশির আহাম্মেদ, অতিরিক্ত ডিআইজি ও পরিচালক, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর; আবু ইউসুফ, উপসচিব (অব.) বিজি প্রেস; শাহ মোঃ সোহেল খোরশেদ, সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট, মার্কেন্টাইল ব্যাংক; জাবের মোঃ শোয়েব, সিনিয়র সহকারী সচিব, শিক্ষা মন্ত্রণালয়; এ.কে.এম. সোহরাওয়ার্দী, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, গণপূর্ত অধিদপ্তর; বাবু রুহিদাস বণিক, সভাপতি, বাংলাদেশ বনফুল সংঘ ও হাজীগঞ্জ পূজা উদযাপন কমিটি; মোঃ মজিবুর রহমান মোহন চৌধুরী, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী; ব্যারিস্টার রহিমা হক, এড. বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ও প্রতিষ্ঠাতা “আইন সেবা”।
বিশেষ করে বিশিষ্ট দানবীর, সমাজসেবক, শিল্পপতি এবং শাহরাস্তি উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব আয়েত আলী ভূঁইয়া ও উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি, দানবীর, শিক্ষা অনুরাগী, রাজনৈতিক সংগঠক মোঃ আবু ইউসুফ পাটোয়ারী রুপনসহ রাজনৈতিক, প্রশাসনিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গে উপস্থিতি পরিপূর্ণ এক ঐতিহাসিক মিলনমেলায় পরিণত হয় অনুষ্ঠান আঙ্গিনা।

মোঃ মাসুদ রানা