চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে স্ত্রীকে মাদক মামলায় ফাঁসানোর ষড়যন্ত্র করতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত নিজেই ফেঁসে গেলেন স্বামী মীর হোসেন। উপজেলার টামটা উত্তর ইউপির বলশীদ দৈলবাড়ি এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে।
ভুক্তভোগী নারী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাত সাড়ে তিনটার দিকে রুহুল আমিন নামে এক ব্যক্তি জাতীয়
জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে জানায় যে দৈলবাড়ি এলাকায় একজন নারী মাদক ব্যবসায় জড়িত, তার ঘরে মাদক রয়েছে এবং তাকে নজরবন্দি করে রাখা হয়েছে। খবর পেয়ে শাহরাস্তি মডেল থানা পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আফসানা আক্তার নামে এক নারীর বসতঘর তল্লাশি শুরু করে।
তল্লাশির এক পর্যায়ে তথ্যদাতা রুহুল আমিন খাটের নিচে মাদক রয়েছে বলে জানায়। এতে পুলিশের সন্দেহ হলে তারা খাটের নিচ থেকে ৩৩ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করে। পরে রুহুল আমিন ও তার সহযোগী সোহাগকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, আফসানা আক্তারের স্বামী মীর হোসেনের প্ররোচনায় স্ত্রীকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে ওই ইয়াবা ঘরে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে রুহুল আমিন (২২) ও সোহাগ (২৪)কে আটক করে। এ ঘটনায় আফসানা আক্তারের স্বামী মীর হোসেন (৩৮), সহযোগী জহির (৩৪) ও তারেক (৩৫)সহ মোট পাঁচজনকে আসামি করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
শাহরাস্তি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আবুল বাসার, পিপিএম (বার) বলেন, “এটি অত্যন্ত জঘন্য ও ন্যক্কারজনক অপরাধ। মাদক দিয়ে স্ত্রীকে ফাঁসানোর চেষ্টা মানবিক ও আইনগতভাবে সমান অপরাধ। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
ওসি (তদন্ত) অলি উল্লাহ জানান, “গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে শাহরাস্তি থানায় এফআইআর নং-১২, তারিখ ১৬ অক্টোবর ২০২৫; জি.আর. নং-১৬১; ধারা ৩৬(১) ধারার ১১(ক)/৪১, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮-এর অধীনে মামলা রুজু করা হয়েছে।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মীর হোসেন ও তার স্ত্রী আফসানা আক্তারের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে পারিবারিক কলহ চলছিল। এরই জের ধরে স্ত্রীকে ফাঁসাতে স্থানীয় মাদক কারবারিদের সহায়তায় এই পরিকল্পনা করেন মীর হোসেন।
গ্রেফতারকৃত দুই আসামিকে বৃহস্পতিবার আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিঃ) মোঃ আরিফ হোসাইন।

মোঃ মাসুদ রানা