প্রকাশের সময়: বুধবার, ১৯ নভেম্বর, ২০২৫ । ৮:৫৩ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহ্ মাহমুদপুরে খাদ্যবান্ধব চাল বণ্টনে ডিলারের প্রকাশ্য অনিয়ম

অনলাইন ডেস্ক

চাঁদপুর সদর উপজেলার শাহ্ মাহমুদপুর ইউনিয়নের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতাভুক্ত হতদরিদ্র কার্ডধারীদের কাছ থেকে স্থানীয় ডিলার মেসার্স কামাল স্টোরের বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়ম ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে।

উপকারভোগীদের অভিযোগ- নির্ধারিত দিনে উপস্থিত থেকেও চাল না পাওয়া, ৩০ কেজির স্থলে মাত্র ২৫–২৭ কেজি চাল দেওয়া, ৩০ কেজির টাকা নেওয়া, অতিরিক্ত টাকা আদায়, চাল বিতরণের সময় গোপন রাখা এবং দুর্ব্যবহার করা। তাদের দাবি প্রতিবার চাল কিনতে গেলে এসব ধরনের কর্মকাণ্ড ঘটান ডিলার কামাল হাওলাদার।

এই বিষয়ে শাহ্ মাহমুদপুর ইউনিয়নের জাফরবাড়ী এলাকার কার্ডধারীরা বলেন, প্রতিমাসে নির্ধারিত দিনে চাল বিতরণ শুরু হলেও আগে থেকেই সময় বা দিন জানানো হয় না। এতে বহু উপকারভোগী সময়সূচী না জানায় বঞ্চিত হন, আবার কেউ কেউ উপস্থিত থেকেও চাল পান না।

ভুক্তভোগী রাব্বি হোসেন জানান, যেদিন চাল বিতরণ করা হয় সেদিন আমাদের জানানো হয়নি। পরেরদিন গিয়ে দেখি ডিলার বলছে চাল শেষ। জিজ্ঞেস করলাম আমার চাল কাকে দিয়েছেন, এই বিষয়ে তিনি কোন উত্তর দেননি। আর ৪৫০ টাকার চাল ৪৮০ টাকায় কিনতে হয় প্রতিমাসেই। ৩০ কেজি চাল পাওয়ার কথা থাকলেও দেন ২৫–২৭ কেজি, তার উপর অতিরিক্ত টাকা নেন তিনি।”

কার্ডধারী আক্তার পাটোয়ারী ও গিয়াস উদ্দিন জানান, গুদাম বন্ধ থাকায় ডিলারকে জিজ্ঞেস করলে তিনি অপমানজনক আচরণ করেন এবং চাল শেষ বলে জানান। তাদের অভিযোগ- ইউনিয়নে কোনো ঘোষণা বা মাইকিং না থাকায় অনেকেই কখন চাল বিতরণ হচ্ছে তা জানতেই পারেন না।

ঘটনার পর কয়েকজন ভুক্তভোগী চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা-ইউএনওকে ফোনে বিষয়টি জানালে তিনি ইউনিয়ন পরিষদের সচিবকে বিষয়টি জানানোত পরামর্শ দেন। পরে সচিব অভিযোগ যাচাই করে সংশ্লিষ্ট ডিলারকে বার্তা দিলে তিনি জানান, এই মাসের চাল পরের মাসে দেওয়া হবে।

শাহ্ মাহমুদপুর ইউনিয়নের ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ কুদ্দুস আখন্দ রোকন বলেন, “উপকারভোগীদের অভিযোগ পেয়ে তালিকা যাচাই করি। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। পরে আমরা ডিলারকে চাল দিতে নির্দেশনা দিয়েছি।”

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ডিলার কামাল হাওলাদার স্বীকার করেন যে স্থানীয় চাপের মুখে কার্ডধারীদের বাইরে কয়েকজনকে চাল দিতে হয়েছে, যার ফলে কিছু উপকারভোগী তাদের প্রাপ্য চাল পাননি। তিনি আশ্বাস দেন, বঞ্চিতদের চাল পরে দেওয়া হবে।

এই বিষয়ে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) কর্মকর্তা মো. আব্দুর রহমান খান জানান, ডিলার যদি প্রতি কার্ডধারীর জন্য ৩০ কেজির কম চাল দেন বা ৪৫০ টাকার বেশি নেন, তাহলে এটি অনিয়ম হিসেবে গণ্য হবে। তবে ভোক্তাকে চালসহ বস্তা দেওয়া হয়, তাই কম দেওয়ার সুযোগ নেই। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ডিলারের ডিলারশীপ বাতিল এবং অর্থ জরিমানা করা হবে।

তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো ভুক্তভোগীকেই তাদের পাওনা চাল প্রদান করা হয়নি।

স্থানীয়দের দাবি, পরিমাণ কম দেওয়া, অতিরিক্ত টাকা নেওয়া, মাইকিং বা ঘোষণা ছাড়া বিতরণ এবং বিতরণে গাফিলতি- এসব সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করছে। যথাযথ তদারকি ও কঠোর নজরদারি ছাড়া এসব অনিয়ম বন্ধ হবে না বলে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

Editor and Publisher: Mohammad Abdul Qayyum Khan. Acting Editor: Saiful Islam Sifat. Executive Editor: Md. Masud Rana.

Editorial and Commercial Office: Bhuiyan Bhaban, (2nd Floor), Adjacent to Chandpur Government College, Chandpur. News Room: Medina Super Market (2nd Floor), Ramganj Road, Bishwa Road, Hajiganj, Chandpur.

প্রিন্ট করুন