১৬ ঘণ্টার আগুনে নিঃস্ব রাজধানীর কড়াইল বস্তির হাজারো পরিবার। পুড়ে ছাই হয়েছে অন্তত দেড় হাজার বসতঘর ও দোকানপাট।
সব হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে বস্তিবাসী। সামনের দিন নিয়ে শঙ্কায় তারা। কড়াই বস্তিতে এখন শুধু হাহাকার। আগুনের ঘটনার তদন্তে কাজ করছে বিশেষ কমিটি।
এই বিলাপ সর্বস্ব হারানোর, নিঃস্ব হয়ে যাওয়ার। শত না থাকার মাঝেও বিকেল পর্যন্ত তাদের সব ছিল। এখন সম্বল বিশাল আকাশ, আর সামনে থাকা পোড়া ধ্বংসস্তূপ। সর্বস্ব হারানো এক ব্যক্তি বলেন, আমরা তো অসহায়, অসহায় ছাড়া আর কিছু না।
ভুক্তভোগীদের একজন মিনারা বেগম, খুঁজছেন মা হোসনে আরাকে। সব কিছু হারিয়ে তার চোখে মুখে এখন কেবলই এক রাশ বেদনা।
মিনারা বলেন, আমার মাকে খুঁজতেছি এই জায়গায়। সবাই আসতেছে, আমার মা আসে নাই। একটু দেখেন, আমার মাকে খুঁজে দেন।
ভয়াবহ আগুনের স্বর্বস্ব হারিয়ে এখন টিকে থাকার লড়াইয়ে রাজধানীর কড়াইল বস্তির বাসিন্দারা। দিন কাটছে তাদের খোলা আকাশের নিচে। পুড়ে যাওয়া মালামাল থেকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন অবশিষ্ট কিছু।
এক ভুক্তভোগী নারী বলেন, কিচ্ছু বাঁচাতে পারিনি। বউ-ঝি নাতি এক কাপড়ে বের হয়েছে।
রাজধানীর গুলশান ও বনানী লাগোয়া প্রায় ৯০ একর জায়গায় কড়াইল বস্তি। আগুনের লেলিহান শিখায় চোখের সামনেই পুড়ে যায় সেখানে বসবাসকারীদের শেষ সম্বল। মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) বিকেল ৫টা ২২ মিনিটে আগুন লাগে। এখনো ফায়ার সার্ভিসের ১৬টা ইউনিট ঘটনাস্থলে কাজ করছে।
আগুনে পুড়ে যায় কড়াইল বস্তির অন্তত দেড় হাজার বসতবাড়ি ও দোকানপাট। ঘটনার কারণ জানতে গঠন করা হয়েছে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি। এরই মধ্যে শুরু হয়েছে কাজ। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও কোন হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তা বলেন, উদ্ধার অভিযান শেষ হলে তদন্তের পর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যাবে।

অনলাইন ডেস্ক