প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২৫ । ১২:৪৭ এম প্রিন্ট এর তারিখঃ শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুরের শাহমাহমুদপুরে জরাজীর্ণ ঘরে অসহায় পরিবারের ঝুকিপূর্ণ বসবাস

মাসুদ হোসেন
ঘরের টিনের চাল মরিচা ধরে জরাজীর্ণ হয়ে বৃষ্টির পানি পড়ে ভিতরে, চারপাশের বেড়া ও দরজা-জানালাগুলো ভাঙাচোরা। বৃষ্টির পানি ঠেকাতে দেওয়া হয়েছে পলিথিন ও কম্বলের ছাউনি। একই অবস্থা শৌচাগারের। এমনই জরাজীর্ণ ও বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে চাঁদপুর সদর উপজেলার ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের একটি পরিবারে।
বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড কৃষ্ণপুর গ্রামের বাসিন্দা লোকমান খলিফার ছেলে বাবু খলিফার ভাঙ্গাচোরা একই বসতঘরে খুব কষ্টে বসবাস করছেন পুরো পরিবারের সদস্যরা। মাথা গোঁজার ঠিকানা পৈত্রিক ভিটার চৌচালা এই ঘরটি। জরাজীর্ণ, ভাঙা ও ঝুঁকিপূর্ণ ঘরটিতে মানবেতর জীবনযাপন করছে পরিবারটি। রোদে শুকিয়ে আর বৃষ্টিতে ভিজে আতঙ্ক নিয়ে তারা বসবাস করেন ওই ভাঙা ঘরে।
বৃষ্টি পড়লে বসবাসের অনুপযোগী হয়ে যায়। বাসিন্দাদের অনুরোধ, এবারের বর্ষার আগেই ঘরগুলো মেরামত করে দিলে তারা নিশ্চিন্তে বসবাস করতে পারবেন। তার ঘরটি দীর্ঘ অনেক বছর যাবত জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
অসহায় পরিবারটির পাশে কেউই নেই। একটি ঘরে এলোমেলো পুরনো কাপড়-চোপড়। ঘরের এককোণে লাকড়ি, আর চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা পাতিল সহ ঘুমানোর জন্য দুইটি চৌকি। পুরো ঘরটি বাঁশ দিয়ে ঠাই দিয়েও দুঃচিন্তায় আছে পরিবারটি। এসব নিয়েই তাদের সংসার। সামান্য অর্থ দিয়ে কখনো খেয়ে আবার কখনো না খেয়েই কোন মতে চলছে চার সদস্যের সংসার।
বাবু খলিফার স্ত্রী শান্তা বেগম বলেন, সন্তানদের নিয়ে খুব কষ্ট করে জীবন চলছে। আয়-উপার্জন কম তাই ২২ বছর ধরে এই ঘরেই কোন মতে বসবাস করছি। আমার দাদী শাশুড়ীও এই ঘরে থেকে গেছেন। বিগত বছরগুলোতে অনেকেই বিভিন্ন আশ্বাস দিয়েছিলেন কিন্তু কোন সমাধান পাইনি। এমনকি সরকারি কোন সহযোগিতাও আমাদেরকে দেয়া হয়নি।
তিনি আরো বলেন, ঘরে থাকার মতো কোনো পরিবেশ নেই। সামান্য বৃষ্টি হলেই ঘরের ওপরের ছাউনি থেকে পানি পড়ে, ঘরের ভেতরের সব কিছু ভিজে যায়। স্বামীর উপার্জন কম, তাই ভালো একটা ঘর বাঁধতে পারছি না। কত মানুষ কত সুযোগ-সুবিধা পায় আমরা কি কিছুই পাবনা? যদি সরকারিভাবে অথবা বর্ণাঢ্য ব্যক্তিদের সহায়তায় একটা ঘর করে দিত তাহলে একটু শান্তিতে থাকতে পারতাম।
শান্তা বেগমের শশুর বলেন, অভাবের সংসারে এখন দিশেহারা আমার ছেলের পরিবারটি। সামান্য কিছু জায়গা থাকলেও নতুন ঘর তুলবেন সেই সামর্থ্য নেই তার। একসময় ব্যবসা বাণিজ্য ও ২টি সিএনজি ছিল। চুরি হয়ে সবকিছু হারিয়ে সে এখন নিঃস্ব হয়ে ঢাকার একটি কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করছেন। স্বল্প এ আয়ে কোন কিছুই যেন কুলিয়ে উঠতে পারছেন না। আমি আমার ছেলের পরিবারটির জন্য সকলের কাছে সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করছি।
ঘটনাস্থলে গিয়ে অত্র এলাকার বাসিন্দা ও শাহমাহমুদপুরের বিএনপি নেতা শাহজালাল দেওয়ান ও কামাল হাওলাদার বলেন, আমি অসহায় পরিবারটির বুকফাটা আর্তনাদ দেখেছি। তারপরও হাসিমুখে যেন সবকিছু মেনে নিচ্ছেন তারা। আমরা আমাদের নেতা চাঁদপুর-৩ আসনের মাটি ও মানুষের নেতা শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক ভাইকে বিষয়টি অবগত করে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার চেষ্টা করবো।

Editor and Publisher: Mohammad Abdul Qayyum Khan. Acting Editor: Saiful Islam Sifat. Executive Editor: Md. Masud Rana.

Editorial and Commercial Office: Bhuiyan Bhaban, (2nd Floor), Adjacent to Chandpur Government College, Chandpur. News Room: Medina Super Market (2nd Floor), Ramganj Road, Bishwa Road, Hajiganj, Chandpur.

প্রিন্ট করুন