প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২৫ । ৯:০৭ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

কবি বুদ্ধদেব বসু স্মরণে প্যাপিরাস পাঠাগারের সাহিত্য আড্ডা ও আলোচনা সভা

নিজস্ব প্রতিনিধি

ত্রিশোত্তর বাংলা সাহিত্যের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তি, ঐতিহাসিক কবিতা পত্রিকার সম্পাদক কবি বুদ্ধদেব বসু স্মরণে সাহিত্য আড্ডা ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছে প্যাপিরাস পাঠাগার।

শুক্রবার ২৮ নভেম্বর বিকেল সাড়ে ৪টায় চাঁদপুর শহরের জেএম সেনগুপ্ত রোডস্থ চাঁদ টাওয়ারে অবস্থিত প্যাপিরাস পাঠাগার কার্যালয়ে এ আড্ডার আয়োজন করা হয়। আড্ডার শুরুতে সদ্য প্রয়াত চাঁদপুর সংগীত নিকেতনের অধ্যক্ষ স্বপন সেনগুপ্তের মৃত্যুতে শোকপ্রস্তাব আনা হয়।

পাঠাগারের উপদেষ্টা মোহাম্মদ শাহ আলমের সভাপতিত্বে ও প্রধান পরিচালক মিজানুর রহমান স্বপনের সঞ্চালনায় কবি বুদ্ধদেব বসুর ‘জীবন ও সাহিত্য’ সম্পর্কে আলোচনা করেন, পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা অ্যাডভোকেট রফিকুজ্জামান রণি, উপদেষ্টা দিলীপ ঘোষ, উপ-সভাপতি ফেরারী প্রিন্স, নির্বাহী সদস্য নাজমুল ইসলাম, চাঁদপুর খেলাঘর আসরের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাহাঙ্গীর কবির কাঞ্চন, আবৃত্তিশিল্পী আমির হোসেন বাপ্পি, ভাসানী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংঘের কর্ণধার সাইফুল ইসলাম রাজিব, সাহিত্যানুরাগী আকবর হোসেন লিটন, শিক্ষক নেতা ও খেলাফত মজলিশ চাঁদপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, বংশিবাদক বেলাল শেখ ও সাংবাদিক জামাল আখন্দ।

পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা অ্যাডভোকেট রফিকুজ্জামান রণি বলেন, বুদ্ধদেব বসু ছিলেন বাংলাসাহিত্যের পঞ্চপাণ্ডবের অন্যতম এক পাণ্ডব। তিরিশের কবিতা আন্দোলনের অন্যতম প্রাণপুরুষ ছিলেন তিনি। রবীন্দ্রবলয় থেকে বেরিয়ে এসে সাহিত্যের নতুন ধারা তৈরিতে তিনি আমৃত্যু লড়াই করে গেছেন। সাহিত্য সমালোচক ও সাহিত্য সম্পাদক হিসেবে তার জনপ্রিয়তা এখনও কেউ ছাড়িয়ে যেতে পারেনি।

তিনি আরও বলেন, বুদ্ধদেব বসুদের গ্রুফ তথা তিরিশের কবিরা রবীন্দ্রসাহিত্যের ধারার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে কখনই অশ্রদ্ধা করেননি।

সভাপ্রধান মোহাম্মদ শাহ আলম, কবি বুদ্ধদেব বসু সবসময় রবীন্দ্র প্রভাবমুক্ত পথ নির্মাণের দিকে হেঁটেছেন। তার সম্পাদিত কবিতা পত্রিকা বাংলাসাহিত্যের যুগ বদলে দিয়েছে। আমাদের গৌরবের বিষয় যে, তিনি আমাদেরই পাশবর্তী জেলা কুমিল্লায় জন্মগ্রহণ করেছেন।

অনুষ্ঠানে কিংবদন্তি কবি বুদ্ধদেব বসু জীবন ও সাহিত্য সম্পর্কে প্রাণবন্ত আলোচনায় অংশ নেন বক্তারা। সব শেষে চা-চক্রের আয়োজন করা হয়।

উল্লেখ্য, বুদ্ধদেব বসু ৩০ নভেম্বর ১৯০৮ সালে কুমিল্লায় জন্মগ্রহণ করেন। বিংশ শতাব্দীর একজন প্রভাবশালী বাঙালি কবি, প্রাবন্ধিক, নাট্যকার, কথাসাহিত্যিক, অনুবাদক, সম্পাদক ও সাহিত্য-সমালোচক ছিলেন তিনি। ত্রিশের দশকে আধুনিক কবিতার যারা পথিকৃৎ তিনি তাদের একজন। তিনি বাংলা সাহিত্য সমালোচনার দিকপাল ও কবিতা পত্রিকার প্রকাশ ও সম্পাদনার জন্য তিনি বিশেষভাবে সমাদৃত।

তরুণ বয়সে কবিতা রচনাসহ নাট্যদল গঠনে দক্ষ ভূমিকা রাখেন। তিনি প্রগতি ও কল্লোল নামে দু’টি পত্রিকায় লেখালেখিতে যুক্ত ছিলেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবদ্দশাতেই রবীন্দ্রনাথ প্রভাবের বাইরে এসে যারা লেখালেখি করেছেন তিনি তাদের মধ্যে অন্যতম। ইংরেজি ভাষায় কবিতা, গল্প, প্রবন্ধাদি রচনা করে তিনি ইংল্যান্ড ও আমেরিকায়ও প্রশংসা অর্জন করেছিলেন। ১৯৭০ সালে তিনি পদ্মভূষণ পুরস্কার লাভ করেন। ১৮ মার্চ ১৯৭৪ ভারতের কলকাতায় তিনি দেহত্যাগ করেন।

Editor and Publisher: Mohammad Abdul Qayyum Khan. Acting Editor: Saiful Islam Sifat. Executive Editor: Md. Masud Rana.

Editorial and Commercial Office: Bhuiyan Bhaban, (2nd Floor), Adjacent to Chandpur Government College, Chandpur. News Room: Medina Super Market (2nd Floor), Ramganj Road, Bishwa Road, Hajiganj, Chandpur.

প্রিন্ট করুন