চাঁদপুর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসকে ঘিরে দালাল চক্রের পাশাপাশি এখন সক্রিয় হয়ে উঠেছে ছিনতাইকারী দলও। তাতে করে পাসপোর্ট করতে আসা সাধারন মানুষ প্রতিদিনই এই ছিনতাইকারীদের খপ্পরে পড়তে হচ্ছে। ছিনতাইকারীদের মারধোর খেয়ে সাধারন মানুষ জিম্মি হয়ে দিতে হচ্ছে মোটা অংকের টাকা, দামি মোবাইল, মূল্যবান কাগজ পত্র।
তবে অভিযোগ রয়েছে পাসপোর্ট অফিসের সামনে গড়ে উঠা স্থানীয় কম্পিউটার দোকানদার ও মোবাইল ব্যাংকিরা পাসপোর্ট অফিসের দালালী এবং এই ছিনতাই কাজের সাথে জড়িত। পাসপোর্ট করতে আসা লোকজন যদি দালাল মারফত চারা আসে তাহলে তাদের মধ্যে অধিকাংশ সহজ সরল লোকজন পড়তে হয় তখন ছিনতাইকারীদের কবলে। সুযোগ বুঝে টার্গেট করে ছিনতাইকারীরা দলবেঁধে ঝাপিয়ে পড়ে সহজ সরল এই মানুষদের উপর।
পাসপোর্ট অফিসেন সামনে থেকে কৌশলে নিয়ে যাওয়া হয় গুচ্ছগ্রাম রোড, রেললাইনে অথবা মডেল মসজিদের নিকট। নির্জন জায়গায় পাসপোর্ট করতে আসা সহজ সরল মানুষদের মাইরধোর করে, অস্ত্রের ভয়ভীতি দেখিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় মূল্যবান মোবাইল ফোন, নগদ টাকা, দামি গড়ি, আংটি, এমনকি বিকাশের টাকাও। এভাবেই প্রতিনিয়ত প্রতারনার শিকার হচ্ছে পাসপোর্ট করতে আসা সাধারন লোকজন। এই সব দালাল ও ছিনতাই কাজে স্থানীয় কম্পিউটারের দোকান ও মোবাইল ব্যাংকি এর দোকানদারা জড়িত বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
১লা ডিসেম্বর সোমবার মতলব দক্ষিণ উপজেলার বরদিয়া আড়ৎ থেকে নূর-ই-আলম নামে এক যুবক তার বন্ধু বাদল কে নিয়ে পাসপোর্ট করার জন্য চাঁদপুর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে আসে। নূর-ই- আলম পাসপোর্ট এর জন্য সকল কাগজপত্র ও ব্যাংক ড্রাফ চেয়ারম্যানগার্ড এলাকা থেকে সম্পূর্ণ করে পাসপোর্ট অফিসের দিকে আসেন।
এই সময় ওত পেতে থাকা দালালরা দেখে তার কাগজ গুলো সম্পূর্ণ। পরে তারাই একদল ছিনতাইকারিদের তাদের পিছনে লেলিয়ে দেয়। পাসপোর্ট অফিসের সামনে থেকে ছিনতাই কারীর প্রধান সরকার এন্টারপ্রাইজ এর ব্যবসায়ীক পার্টনার নবীন মিজি তাদেরকে কৌশলে সকাল ১১.৩০ ঘটিকায় এন এস আই অফিস এর পশ্চিম দিকে গুচ্ছ গ্রামের নির্জন জায়গায় নিয়ে যায়।
সে খানে ছিল ৭/৮ জন যুবক, তারা নবীন মিজির নেতৃত্বে পাসপোর্ট করতে আসা ২ যুবকের উপর হামলা করে করে, এলোপাথাড়ি ছর থাপ্পর দিতে থাকে পরে ছুরি ধরে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের সাথে থাকা ৮ হাজার ২শত টাকা এবং পাসপোর্ট করতে আসা যুবকদের বিকাশে থাকা ২ হাজার টাকা ১১টা ৩৭ মিনিটের সময় নবীন মিজি সরকার এন্টারপ্রাইজ’র এয়ারটেল বিকাশ এজেন্ট নাম্বারে ও ১১টা ৫০ মিনিটে জিপি নাম্বারে ৩০৪৫ টাকা সেন্ট মানি করে নিয়ে যায়।পরে তাদের মাইরধোর করে ছেড়ে দেয়।
জানাযায় এই নবীন মিজি পাসপোর্ট অফিসের বড় মাপের একজন দালাল। পাসপোর্ট করে দেওয়ার নাম করে মানুষ থেকে হাতিয়ে নেন হাজার হাজার টাকা। মোবাইল ব্যাংকি ব্যবসার আড়ালে করেন হুন্ডির ব্যবসাও। তার নেতৃত্বে রয়েছে বিশাল একটা দালাল চক্রের টিম। আগেও আওয়ামীলীগের আমলে ছাত্রলীগের পরিচয়ে দিয়ে জোর জুলুম করে মানুষ থেকে নগদ অর্থ, মূলবান জিনিস পত্র হাতিয়ে নিত।
আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে জুলাইয়ে ছাত্র জনতার আনন্দলে অস্ত্র নিয়ে হামলা করে বলেও জানা যায়। মূলত তার নেতৃত্বেই বেশিরভাগ ছিনতাই করার ঘটনা ঘটে। এছাড়াও অফিসকে ম্যানেজ করে পাসপোর্টের সকল সমস্যা সমাধান করে দিবে বলেও কন্টাক্ট করে। পাসপোর্ট সংশোধনের ক্ষেত্রে মোটা অংকের টাকা কন্টাক্ট করে, এভাবেই সে দিনের পর দিন এই কাজ করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।তার সাথে কন্টাক্ট কারা সরকার এন্টারপ্রাইজে সব সময় ৪০/৪৫ টা করে পাসপোর্ট ডেলিভারি স্লিপ ,পাসপোর্ট বিভিন্ন প্রকার মূল্যবান নথি থাকে।
বিগত ২০২২ সালের ৩১ জানুয়ারী এই সরকার এন্টারপ্রাইজ দোকানে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে পাসপোর্ট দালাল চক্রের ৪ জন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১১। ঐ সময় গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে ১২টি পাসপোর্ট, নগদ ৬২,৫০০ টাকা, ১২০টি পাসপোর্টের ব্যক্তিগত ডেলিভারি স্লীপ এবং মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন নথিপত্র উদ্ধার করে। এরপরেও নবীনের নেতৃত্বে থাকা দালাল চক্র ও ছিনতাই চক্র এখন সক্রিয় ভাবে এই অপরাধ মূলক কাজ করে যাচ্ছে। এইভাবে প্রতিনিয়ত পাসপোর্ট করতে আসা লোকজন তাদের কারনে সর্বস হারিয়ে দিশে হারা হচ্ছে।
পাসপোর্ট অফিসের সামনে যে দোকানগুলোতে আবেদন করা হয় সেগুলোকে সাধারণত দালাল চক্রের দোকান বলা হয়। এই দোকানগুলো মূলত কম্পিউটারের মাধ্যমে পাসপোর্টের ফরম পূরণ এবং ব্যাংক ড্রাফট করে দেওয়ার কাজ করার কথা থাকলেও এরাই সরাসরি দালালি ও ছিনতাইকারী সাথে জড়িত।
পাসপোর্ট অফিস থেকে এই সকল কম্পিউটার দোকানে আবেদনের জন্য বিশেষ একটা সংকেত দেওয়া থাকে। কেউ যদি এই দোকান গুলো থেকে আবেদন না করে তাহলে তাদের অফিসের মধ্যে পরতে হয় বিভিন্ন সমস্যায়। অফিসের বাহিরে পরতে হয় ছিনতাইকারীর খপ্পরে। আবার আবেদন করলে পড়তে হয় তাদের দালালির খপ্পরে। এরা একটা সিন্ডিকেট গড়ে তোলছে। এতে করে অতিষ্ঠ পাসপোর্ট করতে আসা লোকজন। পাসপোর্ট করতে আসা লোকদের একটাই দাবি তারা যেন দ্রুত এই সকল দালাল ও ছিনতাই কারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করে।

নিজস্ব প্রতিনিধি