চাঁদপুরে লাইসেন্সপ্রাপ্ত বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে প্যাথিডিন, মরফিন ও ন্যালবুফাইন ইনজেকশনের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত ও অপব্যবহার রোধে এক সচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) বিকেল ৪টায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর চাঁদপুর কার্যালয়ের হলরুমে এ সভা হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন, অর্থ ও পরিকল্পনা অতিরিক্ত দায়িত্ব: চিকিৎসা ও পুনর্বাসন) উপ-সচিব আবুল কালাম আজাদ।
তিনি বলেন, “প্যাথিডিন, মরফিন বা ন্যালবুফাইনের মতো নিয়ন্ত্রিত ওষুধ গুলো রোগীর জীবন রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সামান্যতম অসতর্কতা বা ভুল ব্যবহারের সুযোগ নিলে এগুলো নেশাজাতীয় মাদকে পরিণত হয়ে সমাজে ভয়াবহ ক্ষতি ডেকে আনে। তাই লাইসেন্সভুক্ত প্রতিটি হাসপাতালে ড্রাগ স্টোরেজ, ব্যবহারের রেজিস্টার সংরক্ষণ এবং ডোজিং প্রটোকল কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে।”
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, “কোনো হাসপাতালে এসব ইনজেকশনের অপব্যবহার প্রমাণিত হলে শুধু লাইসেন্স বাতিল নয়, সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দয়া করে চিকিৎসার নামে কেউ যেন অপব্যবহারের সুযোগ না পায় এই দায়িত্ব আপনাদেরই নিতে হবে।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, চাঁদপুরের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ মিজানুর রহমান।
বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ প্রাইভেট হসপিটাল ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক এসোসিয়েশন চাঁদপুর জেলার সিনিয়র সহ-সভাপতি ডাঃ মোবারক হোসেন চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক জি এম শাহীন।
সভায় উপস্থিত বেসরকারি হাসপাতাল মালিকরা ন্যালবুফাইন সংগ্রহের ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতা, অতিরিক্ত সময়ক্ষেপণ এবং হয়রানির বিষয় তুলে ধরেন। তারা বলেন,
“নিয়ন্ত্রিত ওষুধ ব্যবহারে আমরা নিয়ম মেনে চলি। কিন্তু ন্যালবুফাইন সংগ্রহ করতে গিয়ে অতিরিক্ত কাগজপত্র, ধাপে ধাপে অনুমোদন এবং বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরতে হয়। এতে রোগীর সেবা ব্যাহত হয়। আবেদন প্রক্রিয়া অনলাইনে চালু হলে হয়রানি কমবে এবং সেবা সহজ হবে।”

প্রধান অতিথি মোঃ আবুল কালাম আজাদ মালিকদের এসব অভিযোগ মনোযোগ দিয়ে শোনেন।
তিনি বলেন, “আপনাদের সমস্যাগুলো বাস্তব এবং সমাধানযোগ্য। আমরা প্রয়োজনে আবেদন প্রক্রিয়া অনলাইনে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নেব। হয়রানিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।”
তিনি দ্রুত প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে আরও জানান, “স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে নিয়ন্ত্রিত ওষুধ ব্যবস্থাপনার বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। তাই প্রশাসনিক বাধাগুলো দূর করে ন্যায়সঙ্গত, স্বচ্ছ ও দ্রুতসেবা নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করবো।”
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ প্রাইভেট হসপিটাল ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক এসোসিয়েশন চাঁদপুর জেলা সভাপতি ডাঃ এস এম সহিদ উল্যাহ প্রধান অতিথির উদ্যোগকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানান।
তিনি বলেন, “একজন শীর্ষ কর্মকর্তা জেলা পর্যায়ে এসে হাসপাতাল মালিকদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন, এমন দৃশ্য আমার পেশাজীবনে এই প্রথম দেখলাম। এটি নিঃসন্দেহে ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত।”
তিনি আরও বলেন, চিকিৎসাসেবা উন্নত করতে মাঠপর্যায়ের প্রতিষ্ঠানগুলোর অভিজ্ঞতা, সমস্যা ও প্রস্তাব শুনে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে সেবার মান আরও দ্রুত বৃদ্ধি পাবে।
ডাঃ মোবরাক হোসেন চৌধুরী অতিথিকে ধন্যবাদ জানিয়ে আশা প্রকাশ করেন যে ন্যালবুফাইনসহ অন্যান্য নিয়ন্ত্রিত ওষুধের আবেদনপ্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং হয়রানি রোধে গৃহীত পদক্ষেপগুলো অচিরেই বাস্তবায়িত হবে।
সভায় উপস্থিত মালিকরা প্রধান অতিথির আশ্বাসকে ইতিবাচক হিসেবে দেখেন এবং দ্রুত বাস্তবায়নের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
সভায় চাঁদপুর জেলার ৮টি উপজেলার বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের স্বত্বাধিকারী এবং পরিচালকেরা অংশ নেন।
চাঁদপুরে স্বাস্থ্যসেবা খাতে নিরাপদ ও দায়িত্বশীল ওষুধ ব্যবহারের ওপর জোর দিয়ে সভা সমাপ্ত হয়।

সাইফুল ইসলাম সিফাত