রংপুরের সদর উপজেলার মমিনপুর ইউনিয়নে পারিবারিক কলহের জেরে নুরুল মিয়া (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার নিজের ছেলের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ছেলের নাম মাসুদ। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের পর ঘাতক ছেলে নিজেই থানায় গিয়ে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন।
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) দুপুরে মমিনপুর ইউনিয়নের মহেশপুর এলাকায় এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে পারিবারিক কোনো একটি বিষয় নিয়ে বাবা নুরুল মিয়ার সাথে ছেলে মাসুদের তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে রাগ সামলাতে না পেরে মাসুদ ঘর থেকে ধারালো অস্ত্র এনে বাবার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নুরুল মিয়া গুরুতর জখম হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
পরে স্থানীয়রা চিৎকার শুনে এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে পথেই তার মৃত্যু হয়।
হত্যাকাণ্ড ঘটানোর পরপরই এলাকা ছেড়ে পালিয়ে না গিয়ে মাসুদ সরাসরি রংপুর সদর কোতয়ালী থানায় উপস্থিত হন। সেখানে কর্তব্যরত ডিউটি অফিসারের কাছে নিজের অপরাধ স্বীকার করে তিনি আত্মসমর্পণ করেন। পুলিশ তাৎক্ষণিক তাকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
রংপুর সদর কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল গফুর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “পারিবারিক কলহ থেকেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে আমরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি। অভিযুক্ত যুবক থানায় এসে আত্মসমর্পণ করেছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।”
তিনি আরও জানান, এই ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে অভিযুক্তকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।
এই ঘটনায় পুরো মহেশপুর এলাকায় শোক ও আতঙ্কের ছায়া নেমে এসেছে।

অনলাইন ডেস্ক