চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলায় নতুন শিক্ষাবর্ষের পুনঃভর্তি শুরু হলেও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো মারাত্মক আর্থিক চাপে পড়েছে। ভর্তি ফি, বই-খাতা, ইউনিফর্ম, পরীক্ষার ফি ও পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় বহু শিক্ষার্থী পুনঃভর্তির ঝুঁকিতে রয়েছে। কিছু পরিবার সন্তানদের স্কুলে ফেরাতে ধার-দেনার পথ বেছে নিচ্ছে, আবার কেউ কেউ ভর্তিই পিছিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে।
উপজেলার বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ঘুরে দেখা গেছে, অনেক অভিভাবক এখনো নাম রেজিস্ট্রেশন করতে পারেননি। দৈনন্দিন পণ্যের দাম বাড়া, কাজের অনিশ্চয়তা এবং আয়ের কমে যাওয়ায় অনেকেই শিক্ষাব্যয়ের চাপে দিশেহারা।
হাজীগঞ্জ–শাহরাস্তি সীমান্ত এলাকার দিনমজুর রহমান হোসেন বলেন, “তিন সন্তানকে একসঙ্গে ভর্তি করানোর কথা ভাবলেই ভয় লাগে। কাজ কমে গেলে খাওয়াই ঠিক থাকে না, স্কুলের খরচ দেব কীভাবে?”
একই দুশ্চিন্তা সেলিনা আক্তারের। তিনি বলেন, “মেয়েটা ক্লাসে ভালো করে। কিন্তু ইউনিফর্ম, বই আর ফি দিতে না পারলে তার পড়াশোনা থেমে যাবে।”
বিদ্যালয়গুলোর পক্ষ থেকেও চাপের কথা শোনা যায়। শাহরাস্তির একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “অনেক শিক্ষার্থীকে আমরা ছাড় বা আংশিক সহায়তা দিই। কিন্তু প্রতিষ্ঠানের সীমিত বাজেটে সবাইকে সাহায্য করা সম্ভব হয় না।”
উপজেলা শিক্ষা অফিস জানায়, প্রাথমিক পর্যায়ে উপবৃত্তি থাকলেও মাধ্যমিকে তা নেই। নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরাই সবচেয়ে বেশি আর্থিক চাপে পড়ছে।
পুনর্মিলনীতে লক্ষ লক্ষ টাকা, শিক্ষার্থীরা উপেক্ষিত এ সময়ে এলাকায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী আয়োজন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বড় ভেন্যু, শো, ব্যয়বহুল আয়োজন—একটি পুনর্মিলনীতে কয়েক লক্ষ টাকা ব্যয় হচ্ছে। স্থানীয় অনেকের প্রশ্ন, এই বিপুল অর্থের সামান্য অংশও যদি পুনঃভর্তিতে ব্যয় করা হতো, তাহলে বহু পরিবার সংকট থেকে বাঁচতে পারত।
স্থানীয় এক সমাজকর্মী জানান, “একটি বড় পুনর্মিলনীর খরচেই কয়েক শ শিক্ষার্থীর পুরো বছরের শিক্ষা ব্যয় নির্বিঘ্নে মেটানো সম্ভব।”
শিক্ষকরা বলছেন, সহায়তার অভাবে অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনার বদলে দোকান, ওয়ার্কশপ বা অস্থায়ী আয়ের কাজে যুক্ত হচ্ছে। ঝরে পড়ার হার বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সচেতন নাগরিকরা মনে করছেন, প্রাক্তন শিক্ষার্থী, সচ্ছল ব্যক্তিরা, প্রবাসী সমাজ ও উপজেলা প্রশাসন চাইলে পুনঃভর্তি সহায়তার জন্য বিশেষ তহবিল গঠন করা যায়। তালিকাভুক্ত দরিদ্র শিক্ষার্থীদের নিয়মিত সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নিলে পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে পারে।
তাদের দাবি, “পুনঃভর্তি কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি দরিদ্র পরিবারের সারা বছরের সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি। শাহরাস্তির কোনো শিশুই যেন অর্থের অভাবে শিক্ষার বাইরে না পড়ে—এখনই সবার এগিয়ে আসার সময়।”

রাফিউ হাসান হামজা