ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ–শাহরাস্তি) আসনে বিএনপির নির্বাচনী প্রচারণা দিন দিন তীব্রতর হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বিকেলে শাহরাস্তি পৌরশহরের নোয়াগাঁও, রাজা খাঁ, দেবকরা ও ভোলদিঘী এলাকায় বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মোঃ মমিনুল হকের সমর্থনে এক বিশাল জনসভা ও একাধিক পথসভা অনুষ্ঠিত হয়।
জনসভাকে কেন্দ্র করে শাহরাস্তি পৌরসভা ও আশপাশের এলাকা থেকে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীসহ সর্বস্তরের সাধারণ মানুষের ঢল নামে। এতে পুরো এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। বিশেষ করে নোয়াগাঁও ও ভোলদিঘী এলাকায় আয়োজিত জনসভায় নারীসমাগম ছিল চোখে পড়ার মতো। শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধা নারীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে।
জনসভাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন নারী তাদের দৈনন্দিন সমস্যার কথা সরাসরি প্রধান অতিথির কাছে তুলে ধরেন। তাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক এবং নির্বাচিত হলে পর্যায়ক্রমে এসব সমস্যার বাস্তবসম্মত সমাধানের আশ্বাস দেন।স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বিপুল জনসমাগম, বিশেষ করে নারী ভোটারদের অংশগ্রহণ, চাঁদপুর-৫ আসনে বিএনপির নির্বাচনী প্রচারণায় নতুন গতি ও মাত্রা যোগ করেছে।জনসভায় সভাপতিত্ব করেন শাহরাস্তি উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব আয়েত আলী ভূঁইয়া। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও চাঁদপুর জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব লায়ন ইঞ্জিঃ মমিনুল হক।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক বলেন, “চাঁদপুর-৫ আসনের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত। এই এলাকার মানুষ এখন পরিবর্তন চায়। ধানের শীষে ভোট দিয়েই জনগণ তাদের হারানো অধিকার পুনরুদ্ধার করবে। জনগণই রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক—এই নির্বাচন তারই প্রমাণ দেবে।”
তিনি আরও বলেন, “বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেশনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি মানবিক ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গড়ে তোলা হবে। এই রাষ্ট্রে নারীরা সবচেয়ে বেশি সুফল পাবে। ফ্যামিলি কার্ড পেতে কোনো তদবির করতে হবে না। সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় থাকা সব ভাতা অব্যাহত থাকবে এবং প্রকৃত কৃষকদের হাতে সরাসরি কৃষি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। পাশাপাশি ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের জন্য সম্মানজনক ভাতার ব্যবস্থা করা হবে।”
ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক বলেন, “গত ১৬ বছরে বিএনপির অসংখ্য নেতা-কর্মী মিথ্যা মামলা, নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। কিন্তু বিএনপি প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। বিএনপি সরকার গঠন করলে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং জোরপূর্বক দোকান দখল, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের সংস্কৃতি কঠোর হাতে বন্ধ করা হবে।”
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উদ্দেশে তিনি বলেন, “বিএনপির শাসনামলে সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ নিরাপদে ও সম্মানের সঙ্গে বসবাস করবে। কোনো সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জমি বা সম্পদ দখলের সুযোগ দেওয়া হবে না। মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করার রাজনীতিরও অবসান ঘটানো হবে।
শাহরাস্তি উপজেলার নোয়াগাঁও ও ভোলদিঘী এলাকায় আয়োজিত পথসভায় তিনি আরও বলেন, “দেশ একটি মানবিক নেতৃত্বের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গড়তে তারেক রহমান ইতোমধ্যে সুস্পষ্ট পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছেন। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও অনিয়ম বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ডসহ সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় পর্যায়ক্রমে সব পরিবারকে সহায়তা দেওয়া হবে। এসব সুবিধা পেতে কোনো দলীয় পরিচয়ের প্রয়োজন হবে না—বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবেই সবাই উন্নয়নের সুফল পাবে।অন্যান্য বক্তারা বলেন, দেশে বর্তমানে গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের চরম সংকট চলছে। এই সংকট থেকে উত্তরণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিতে হবে।
জনসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব আয়েত আলী ভূঁইয়া, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ আক্তার হোসেন পাটোয়ারী, শাহরাস্তি পৌরসভার সাবেক মেয়র মোস্তফা কামাল, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান পাটওয়ারী, কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের যুগ্ম সম্পাদক নুরে আলম, বাংলাদেশ জামিয়াতুল ইসলাম কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন ফরায়েজি, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ইকবাল হোসেন, শাহরাস্তি পৌরসভার যুগ্ম আহ্বায়ক বেলায়েত হোসেন সেলিম, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আলী আজগর মিয়াজী, সাবেক সভাপতি সাইফুল করিম মিনার, সদস্য সচিব এহতেশামুল হক গণি, উপজেলা প্রবাসী কল্যাণ সম্পাদক ফখরুল ইসলাম বিলাস, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম মন্টু, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক আলী আজগর মোল্লা, সদস্য সচিব জাকির হোসেন নয়ন, মাহবুব হাসান বাবলু, আদনান নোমান, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক এবিএম পলাশ, সদস্য সচিব আজগর হোসেন মিয়াজী, পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাজহারুল ইসলাম জুয়েল, সদস্য সচিব মো. সোলেমান, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মাসুদ হোসেন, মাসুদ কবির, ওলামাদলের সভাপতি মাওলানা মোস্তাফিজুর রহমানসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন শাহরাস্তি উপজেলা বিএনপির সাবেক অর্থ বিষয়ক সম্পাদক কাজী মো. জাহাঙ্গীর আলম, মেহের দক্ষিণ ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. লুৎফর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মো. তাফাজ্জল হোসেন, ইতালি ভেনিস বিএনপি নেতা মো. আঃ মান্নান, কৃষক দলের সভাপতি মো. আবু ইউসুফ মেম্বার, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. জাহাঙ্গীর আলম, ইতালি ভেনিস বিএনপি নেতা মো. জসিমউদ্দিন, যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী এমদাদুল হক সুমন, সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. ফয়েজ আহম্মেদ, সহ-সভাপতি মো. মাকসুদুর রহমান, স্বেচ্ছাসেবক দলের টিপু ও সভাপতি মো. নাইম আহম্মেদ, ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. ফরহাদুল ইসলাম সুজন, ১নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. মোস্তফা কামাল, ২নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব সার্জেন্ট শাহজাহান, ৩নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ডা. মো. ফারুকুল ইসলাম, ৪নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. আবুল হাসেম, ৫নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. মনির হোসেন এবং মেহের দক্ষিণ ইউনিয়ন যুবদলের প্রচার সম্পাদক মো. সোহাগ হোসেন।

মোঃ মাসুদ রানা