ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত চাঁদপুর–৪ আসনে ভিন্ন এক রাজনৈতিক বার্তা দিয়েছেন ভোটাররা। দলীয় সিদ্ধান্তে বহিষ্কৃত প্রার্থী আলহাজ্ব এম এ হান্নান শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠে উল্লেখযোগ্য জনসমর্থন পেয়ে আলোচনায় উঠে এসেছেন।
স্থানীয় রাজনীতিতে এটি ‘দল বনাম জনমতের’ এক বিরল দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। নির্বাচনের আগে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ওই প্রার্থীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
দলীয় সূত্রে তখন দাবি করা হয়েছিল, বিদ্রোহী অবস্থান নেওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়া উপায় ছিল না। তবে নির্বাচনী প্রচারণার শুরু থেকেই মাঠের চিত্র ছিল ভিন্ন। দলীয় পরিচয়ের বাইরে ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা, দীর্ঘদিনের সামাজিক যোগাযোগ এবং স্থানীয় উন্নয়ন কাজ এবং প্রতিশ্রুতিকে সামনে রেখে তিনি ভোটারদের কাছে সমর্থন চান।
নির্বাচনী প্রচারণার পুরো সময়জুড়ে এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ, উঠান বৈঠক ও ছোট ছোট জনসভা করেন তিনি । স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি বড় অংশ তাঁকে ‘নিজেদের মানুষ’ হিসেবে বিবেচনা করে প্রকাশ্যে সমর্থন দেন। ফলে ভোটের দিন কেন্দ্রে কেন্দ্রে তাঁর সমর্থকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
ভোটারদের অনেকে বলেন, দলীয় সিদ্ধান্তের চেয়ে প্রার্থীর ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতাই তাঁদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। একজন ভোটার বলেন, “দল তাকে বাদ দিয়েছে, কিন্তু আমরা দেখেছি তিনি এলাকায় কাজ করেছেন। তাই আমরা ভোট দিয়ে আমাদের মতামত জানিয়েছি।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই ফলাফল স্থানীয় রাজনীতিতে দলীয় নিয়ন্ত্রণের বাইরে ব্যক্তিনির্ভর ভোটের প্রবণতা আরও স্পষ্ট করেছে। বিশেষ করে বড় দল নির্বাচনের বাইরে থাকায় ভোটের সমীকরণ বদলে গেছে এবং প্রার্থীর ব্যক্তিগত ইমেজ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ দেখা যায়। সমর্থকেরা এটিকে ‘জনগণের রায়’ হিসেবে উল্লেখ করছেন। তাঁদের ভাষায়, “দল তাকে শাস্তি দিয়েছে, কিন্তু জনগণ পুরস্কার দিয়েছে।”
স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ফলাফল ভবিষ্যতে দলগুলোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা—সংগঠনের সিদ্ধান্তের পাশাপাশি তৃণমূলের জনমতকেও গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে চাঁদপুর–৪ আসনের রাজনীতিতে এটি নতুন সমীকরণের সূচনা বলেও মনে করা হচ্ছে।
এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আবারও প্রমাণ হলো, শেষ পর্যন্ত ভোটের মালিক জনগণই। বাংলাদেশ এর নির্বাচনী রাজনীতিতে চাঁদপুর–৪ আসনের এই ফলাফল তাই বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।

এস. এম ইকবাল