প্রকাশের সময়: রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ । ৯:৫৩ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

চাঁদপুরে স্বামী-স্ত্রীসহ দুই কন্যা শিশু থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত, বাঁচাতে সহায়তার আবেদন

নিজস্ব প্রতিনিধি

চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার খলাগাঁও গ্রামের দরিদ্র কৃষক কাউছার মিয়ার পরিবারে নেমে এসেছে এক অসহনীয় দুঃসহ বাস্তবতা। অভাবের মধ্যেই জীবনযুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া এই পরিবারে জন্ম নেওয়া দুই কন্যা শিশু এখন থ্যালাসেমিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে।

ছয় বছর আগে আছমা আক্তারের সঙ্গে সংসার শুরু করেন কাউছার মিয়া। তাদের ঘর আলো করে জন্ম নেয় ইকরা ইসলাম (৪) ও ইফতিহা ইসলাম ইভা (২)। যে বয়সে শিশুদের খেলাধুলা আর হাসি-আনন্দে মেতে থাকার কথা, সেই বয়সেই নিয়মিত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ছুটতে হচ্ছে তাদের। বর্তমানে সপ্তাহে দুইবার ঢাকার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিতে হয় শিশু দুটিকে রক্ত নেওয়ার জন্য।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা চললেও অর্থাভাবে ঠিকমতো চিকিৎসা করানো সম্ভব হচ্ছে না। এতে শিশু দুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে—বিশেষ করে ভারতে নেওয়া গেলে তাদের সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে।

শিশুদের বাবা কাউছার মিয়া ও মা আছমা আক্তার জানান, তারা নিজের অসুস্থতার কথাও ভুলে গেছেন সন্তানদের বাঁচানোর চিন্তায়। চিকিৎসকদের ধারণা, বাবা-মা দুজনই থ্যালাসেমিয়া বাহক হওয়ায় শিশুদের শরীরেও রোগটি দেখা দিয়েছে। সন্তানদের চিকিৎসার ব্যয় বহন করা তাদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

কাউছার মিয়া বলেন, “আমরা গরিব মানুষ। জমিজমা কিছুই নেই। মেয়েদের চিকিৎসা করাতে গিয়ে সব শেষ হয়ে গেছে। সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষের সাহায্য ছাড়া ওদের বাঁচানো সম্ভব নয়।”

এদিকে পরিবারের স্বজনেরা জানান, অসুস্থ সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে পুরো পরিবার মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। কীভাবে চিকিৎসার ব্যয় জোগাড় করবেন, তা ভেবে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তারা।

স্থানীয় বাসিন্দা ও সাবেক ইউপি সদস্য মো. ছফিউল্লাহ বলেন, কাউছার মিয়া অত্যন্ত নিরীহ ও অসহায় মানুষ। নিজের কোনো সহায়-সম্পত্তি নেই। কুঁড়েঘরে স্ত্রী ও অসুস্থ সন্তানদের নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে এলে পরিবারটি নতুন করে বাঁচার আশা পেতে পারে।

থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত শিশু ইকরা ও ইভাকে বাঁচাতে কেউ আর্থিক সহায়তা করতে চাইলে তাদের বাবা কাউছার মিয়ার সঙ্গে ০১৬৩৬-৭১৩৯৩৩ নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে পরিবারটি।

Editor and Publisher: Mohammad Abdul Qayyum Khan. Acting Editor: Saiful Islam Sifat. Executive Editor: Md. Masud Rana.

Editorial and Commercial Office: Bhuiyan Bhaban, (2nd Floor), Adjacent to Chandpur Government College, Chandpur. News Room: Medina Super Market (2nd Floor), Ramganj Road, Bishwa Road, Hajiganj, Chandpur.

প্রিন্ট করুন