ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ্ব এম এ হান্নান সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন।
মঙ্গলবার দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের শপথ কক্ষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন অন্যান্য সংসদ সদস্যদের সঙ্গে তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান। শপথ শেষে তিনি শপথ বইয়ে স্বাক্ষর করেন।
এর আগে বেলা পৌনে ১১টার দিকে প্রথম ধাপে তারেক রহমান-সহ নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নেন। পরে দুপুর সাড়ে ১২টায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং দুপুর ১টায় জাতীয় নাগরিক পার্টি-এর নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেন।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে চিংড়ি প্রতীক নিয়ে এম এ হান্নান ৭৪ হাজার ১৭৫ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী লায়ন মো. হারুনুর রশিদ পান ৬৯ হাজার ১৫৫ ভোট এবং ১১ দলীয় জোটের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা বিল্লাল হোসেন মিয়াজী পান ৬৬ হাজার ৬৯২ ভোট। প্রায় পাঁচ হাজার ভোটের ব্যবধানে বিজয় নিশ্চিত করেন তিনি।
স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় নির্বাচনের সময় উপজেলা বিএনপির সভাপতিসহ সব দলীয় পদ থেকে তাঁকে বহিষ্কার করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল। নির্বাচনে জয়ের পর গত শনিবার ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন, দল আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ না করা পর্যন্ত সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন না। তিনি জানান, ছাত্রজীবন থেকে জিয়াউর রহমান-এর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে রাজনীতি করে আসছেন এবং দলীয় আদর্শের প্রতি তাঁর অঙ্গীকার অটুট থাকবে।
তবে পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Facebook-এ দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে শপথ নেওয়ার ঘোষণা দেন।
এর আগে বিএনপির মনোনয়নে ধানের শীষ প্রতীকে দুইবার নির্বাচন করতে চাইলেও ঋণখেলাপি সংক্রান্ত আইনি জটিলতায় তাঁর মনোনয়ন বাতিল হয়। এ বিষয়ে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হারুনুর রশিদকে দায়ী করে আসছেন।
তিন দশকের রাজনৈতিক জীবনে এম এ হান্নান এলাকায় ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। ধানের শীষের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে জয়লাভ করে সেই জনপ্রিয়তার প্রমাণ দিয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচনে সাতটি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন—যাঁদের সবাই বিএনপির নেতা বলে জানা গেছে। ২৯৯টি আসনের মধ্যে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ২১২টি, ১১ দলীয় জোট পেয়েছে ৭৭টি এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পেয়েছে একটি আসন।

এস. এম ইকবাল