প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ । ১১:১৩ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

কচুয়ায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ২ পরিবারের স্বপ্ন ছাই: অক্ষত আল কোরআন

মোঃ রাছেল, কচুয়া

চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার ডুমুরিয়া গ্রামে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে দুটি বসতঘর ও একটি রান্নাঘরসহ মোট তিনটি ঘর পুড়ে ছাই ।

শুক্রবার সন্ধ্যায় ইফতারের সময় কড়ইয়া ইউনিয়নের ডুমুরিয়া গ্রামের মালেক কোম্পানির বাড়িতে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে। এতে প্রায় ১০ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার। এদিকে অগ্নিকাণ্ডের সব পুড়ে ছাই হয়ে গেলেও মুসলমানদের ধর্মীয় গ্রন্থ আল কুরআন অক্ষত অবস্থায় ছিলো। যা স্থানীয় জনমনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ডুমুরিয়া গ্রামের মহুরম আলীর পুত্র সেলিম ও আবু তাহেরের পুত্র ফয়েজ আহমেদের বসতঘরে হঠাৎ আগুনের লেলিহান শিখা মুহুর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে । ইফতারের সময় হওয়ায় গ্রামবাসী দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে আগুন নেভানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেন। তবে আগুনের তীব্রতা বেশি থাকায় ফায়ার সার্ভিস পৌঁছানোর আগেই সবকিছু ভস্মীভূত হয়ে যায়।

ফয়েজ আহমেদ এর চাচাতো ভাই সাইফুল ইসলাম জানান, ​ঘটনার সময় সেলিম ও ফয়েজ আহমেদসহ তাদের পরিবারের সদস্যরা বাড়ির বাইরে ছিলেন। ঘরে কেউ না থাকায় অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ এখনও জানা সম্ভব হয়নি। ​অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত সেলিম পেশায় একজন অটোচালক। প্রতিদিনের আয়ে কোনোমতে তার সংসার চলত। মাথা গোঁজার শেষ সম্বলটুকু হারিয়ে তিনি এখন দিশেহারা।

ক্ষতিগ্রস্ত সেলিম জানান, আমি পেশায় একজন অটোচালক। দিনরাত হাড়ভাঙ্গা খাটুনি দিয়ে উপার্জিত অর্থে কোনোমতে চলত আমার সংসার। অগ্নিকাণ্ডের সময় পরিবারের কেউ ঘরে না থাকায় কোনো কিছুই রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। নিজের শেষ আশ্রয়টুকু হারিয়ে আমি এখন নির্বাক।

​অন্যদিকে, দিনমজুর ফয়েজ আহমেদ বলেন, মাত্র কয়েক মাস আগে আমি বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে এবং আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে ধারদেনা করে নিজের স্বপ্নের ঘরটি তৈরি করেছিলাম। ঋণের কিস্তি এখনো শেষ হয়নি, অথচ সেই ঘরটি এখন কয়লার স্তূপ। ফয়েজ আহমেদ কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন,​”আমি এখন ঋণের টাকা দেব নাকি পরিবার নিয়ে খাব? আমার সব শেষ হয়ে গেছে, আমি এখন পথে বসে গেলাম।”

​বর্তমানে পরিবার দুটি খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন যাপন করছে। পরনের কাপড় ছাড়া তাদের আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। ​অসহায় এই পরিবার দুটিকে পুনরায় মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দিতে এবং মানবেতর জীবন থেকে রক্ষা করতে স্থানীয় বিত্তবান শ্রেণি, প্রবাসী সমাজ এবং সরকারি প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ ও আর্থিক সহযোগিতা কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

Editor and Publisher: Mohammad Abdul Qayyum Khan. Acting Editor: Saiful Islam Sifat. Executive Editor: Md. Masud Rana.

Editorial and Commercial Office: Bhuiyan Bhaban, (2nd Floor), Adjacent to Chandpur Government College, Chandpur. News Room: Medina Super Market (2nd Floor), Ramganj Road, Bishwa Road, Hajiganj, Chandpur.

প্রিন্ট করুন