প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ, ২০২৬ । ৯:৩৬ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জে সাংবাদিকদের সঙ্গে শিক্ষকের অসদাচরণ, তদন্ত কমিটি গঠন

এস. এম ইকবাল
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার গৃদকালিন্দিয়া হাজেরা হাসমত ডিগ্রি কলেজে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফরম ফিলাপকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে তথ্য জানতে গিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত এক শিক্ষকের অসদাচরণের শিকার হয়েছেন দুই সাংবাদিক। ঘটনাটি নিয়ে উপজেলা প্রশাসন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
জানা গেছে, কলেজটির ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ফি’র অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে-এমন তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সংবাদ সংগ্রহে কলেজে যান দৈনিক নয়াদিগন্তের ফরিদগঞ্জ প্রতিনিধি শাকিল হাসান এবং মোহনা টেলিভিশনের প্রতিনিধি মো. ফাহাদ। তারা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পান।
পরে এ বিষয়ে কলেজের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি জানান, বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ৩ হাজার টাকার পরিবর্তে ৪ হাজার ৫০০ টাকা এবং ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকার পরিবর্তে ৪ হাজার টাকা করে নেয়া হচ্ছে। তার দাবি, কলেজের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেটু কুমার বড়ুয়ার অনুমতিক্রমেই এই অর্থ আদায় করা হচ্ছে।
তবে বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হলে তিনি এ বিষয়ে অবগত নন বলে নিশ্চিত করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শিক্ষক মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়া সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। একপর্যায়ে তিনি অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল, হুমকি প্রদান এবং মারমুখী আচরণ করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
ঘটনার পর দৈনিক নয়াদিগন্তের প্রতিনিধি শাকিল হাসান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন এবং শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কলেজের সভাপতি সেটু কুমার বড়ুয়া বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বলেন, “কলেজের সভাপতি হিসেবে আমার নাম ব্যবহার করে ফরম ফিলাপের অতিরিক্ত অর্থ আদায় অনৈতিক। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণও দুঃখজনক।” তিনি জানান, অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষক মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়া এর আগেও অসদাচরণের অভিযোগে দীর্ঘদিন সাময়িক বরখাস্ত ছিলেন। পরে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর পুনরায় কলেজে নিয়মিত শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন।
প্রশাসনের তদন্তে ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে বলে আশা করছেন স্থানীয় অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।

Editor and Publisher: Mohammad Abdul Qayyum Khan. Acting Editor: Saiful Islam Sifat. Executive Editor: Md. Masud Rana.

Editorial and Commercial Office: Bhuiyan Bhaban, (2nd Floor), Adjacent to Chandpur Government College, Chandpur. News Room: Medina Super Market (2nd Floor), Ramganj Road, Bishwa Road, Hajiganj, Chandpur.

প্রিন্ট করুন