আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। বিশেষ করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর একাধিক নেতার নাম ঘিরে তৃণমূল নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে সামাজিক আড্ডা সবখানেই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু আগামী দিনে কে হচ্ছেন হাজীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান।
রাজনৈতিক সূত্রে জানা যায়, বিএনপি থেকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন কেন্দ্রীয় ওলামা দলের সাবেক সদস্য সচিব ও শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ মাওলানা নজরুল ইসলাম তালুকদার। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা বিস্তার, সমাজসেবা এবং ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রাখায় তাকে একজন গ্রহণযোগ্য ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতা হিসেবে দেখছেন অনেকেই। বিশেষ করে শিক্ষাঙ্গন ও ধর্মভিত্তিক সামাজিক কার্যক্রমে তার সম্পৃক্ততা তাকে সাধারণ মানুষের কাছে পরিচিত মুখে পরিণত করেছে।
এছাড়াও বিএনপি থেকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন হাজীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব এম. এ. রহিম পাটওয়ারী। দীর্ঘদিন ধরে দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা, তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়তার কারণে তিনিও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আছেন। স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের একটি বড় অংশ তাকে দলীয় মনোনয়নের দৌড়ে এগিয়ে রাখছেন বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী থেকেও একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ঘুরছে। তাদের মধ্যে অন্যতম উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর মাওলানা মোজাম্মেল হোসেন মজুমদার (পরান)। দীর্ঘদিন ধরে সংগঠন পরিচালনা, দাওয়াতি কার্যক্রম এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকায় তার নামও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে।
এছাড়া সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি এবং ৬নং বড়কুল পূর্ব ইউনিয়নের সাবেক স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মাওলানা আবু জাফর। ছাত্ররাজনীতি থেকে শুরু করে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা থাকায় তার একটি শক্ত সমর্থনভিত্তি রয়েছে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা আরও বাড়বে। দলীয় মনোনয়ন, রাজনৈতিক সমীকরণ, তৃণমূল নেতাকর্মীদের সমর্থন এবং ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতার ওপরই অনেকটা নির্ভর করবে শেষ পর্যন্ত কে হচ্ছেন হাজীগঞ্জ উপজেলার আগামীর উপজেলা চেয়ারম্যান।
এদিকে সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও নির্বাচন নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে। অনেকেই মনে করছেন, আগামীর নেতৃত্ব এমন একজনের হাতে যেতে হবে, যিনি উন্নয়ন, সুশাসন ও জনকল্যাণমূলক কাজের মাধ্যমে হাজীগঞ্জ উপজেলাকে এগিয়ে নিতে পারবেন।
ফলে এখন সবার নজর দলগুলোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও সম্ভাব্য প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রস্তুতির দিকে। সময় যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই স্পষ্ট হতে শুরু করবে হাজীগঞ্জ উপজেলার রাজনীতির নতুন সমীকরণ।

মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন