চাঁদপুর পৌর ১৪নং ওয়ার্ডের বাবুরহাটে রুনিয়া বেগম(২৬) নামে এক অন্তঃস্বত্তা নারীর ওপর হামলার ঘটনায় থানায় অভিযোগ করা হয়েছে।
৩১ মার্চ মঙ্গলবার সকালে মাল বাড়িতে ওই গৃহবধূর ওপর এই হামলা চালানো হয়।
অভিযোগ প্রসঙ্গে ভুক্তভোগী রুনিয়া বেগম জানান, আমার স্বামী প্রবাসী। আমি ৯ মাসের অন্তঃস্বত্তা। আমার স্বামীদের জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। কিন্তু আইনি লড়াইয়ে পরাস্ত হবার ভয়ে প্রতিপক্ষরা নানা অযুহাতে আমার শশুড় শাশুড়ির ওপর মানসিক ও শারিরীক নির্যাতন চালাচ্ছে। আজ আমার শশুড়কে মারধর করছে দেখে আমি এগিয়ে গেলে ওরা আমাকেও মারধর করে এবং আমার শরীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে।এলাকার লোকজন আমাকে এসে উদ্ধার করে। এখন আমি ও আমার শশুড় শাশুড়ি চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
রুনিয়ার শশুড় আব্বাস মাল বলেন, আমার দখলি জমিতে আমার স্ত্রী নানান জাতের গাছ গাছালি লাগিয়েছে। হঠাৎ আজ সে গাছগুলো সব আমাদের প্রতিপক্ষরা এসে কেটে ফেলে। যা দেখে আমার স্ত্রী ওদেরকে কেনো কেটেছে তা জিগ্গেস করতে তারা আমার স্ত্রীকে মারধর শুরু করে। আমি এগিয়ে গেলে আমাকেও নানা গালমন্দ করে মারধর শুরু করে এবং এমনকি আমার ছেলের অন্তঃস্বত্তা স্ত্রীর স্পর্শকাতর স্থানেও মারধর করে তাকে আহত করেছে। আমরা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছি।
তিনি আরও বলেন, চাঁদপুর জেলা আদালতে জমি সংক্রান্ত একটি মামলা চলমান রয়েছে। সেই মামলায় আদালত রায় দেন আমাদের উভয় পক্ষকে শান্তি বজায় রাখার জন্য। কিন্তু প্রতিপক্ষরা আদালতের সে রায় অমান্য করে জমিতে বালি ফেলা শুরু করে এবং গাছ পালা কেটে বসত বাড়ী নির্মাণ কাজ শুরু করেছে। আমরা দুর্বল অসহায় হওয়ায় আইনের দারস্ত হয়েছি।
এদিকে থানায় দেয়া লিখিত অভিযোগপত্র অনুযায়ী হামলাকারীরা হচ্ছেন কাদির মাল(৫০), শাহ আলম(৩০), শাহাদাৎ মাল(২৮), জাবেদ মাল(৩৭)। অভিযোগ প্রসঙ্গে দাম্ভোক্তি দেখিয়ে এরা তাৎক্ষণিক গণমাধ্যমকর্মীদের কোন বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
এ বিষয়ে চাঁদপুর সদর মডেল থানার ওসি ফয়েজ আহমেদ বলেন, আমরা বাবুরহাটের ওই মারধরের ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। ঘটনার পর পরই আমরা ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি এবং উত্তপ্ত পরিস্থিতি এড়াতে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিনিধি