প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬ । ৮:৩২ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে সাবেক চেয়ারম্যানের প্রতারণার ফাঁদে অসহায় মানুষ

রাফিউ হাসান হামজা
চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার রায়শ্রী দক্ষিণ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সাত্তারের বিরুদ্ধে প্রতারণা, অর্থ আত্মসাৎ, সন্ত্রাসী হামলা এবং দরবার-সালিশের নামে অসহায় মানুষদের হয়রানির অভিযোগ ক্রমশ বেড়েই চলেছে। গত ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়েও এসব অভিযোগের শেষ নেই। তবে অভিযোগ থাকার পরও স্থানীয় থানা প্রশাসন থেকে এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
একের পর এক অভিযোগ, থানায় মীমাংসার দরবারে সাবেক চেয়ারম্যান
এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীরা জানান, আব্দুস সাত্তার দীর্ঘদিন ধরে সরল ও অসহায় মানুষের দুরবস্থার সুযোগ নিয়ে তাদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। কোনো বিরোধ নিষ্পত্তির আশ্বাস দিয়ে সালিশি দরবারের নামে টাকা নেওয়া, নির্বাচনে অর্থ ধার নিয়ে না ফেরানো, এমনকি জমিজমা সংক্রান্ত দ্বন্দ্বে হামলার ঘটনাও ঘটছে। মজার ব্যাপার হলো—একাধিক অভিযোগ থাকার পরেও তাকে প্রায়ই থানায় মীমাংসার দরবারে দেখা যায়, যা স্থানীয়দের মধ্যে বিস্ময় ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
আব্দুল মালেকের অভিযোগ: নির্বাচনের টাকা এখনো ফেরত দেননি
উপজেলার বিজয়পুর গ্রামের আব্দুল মালেক (পিতা: মৃত হাজি অসমান আলি) জানান, ২০১১ সালে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য আব্দুস সাত্তার তার কাছ থেকে ২ লক্ষ টাকা ধার নেন। নির্বাচনের তিন মাসের মধ্যে টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও আজ পর্যন্ত তা ফেরত দেননি। বরং উল্টো তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি ও এড়িয়ে চলছেন। আব্দুল মালেক সম্প্রতি থানায় লিখিত অভিযোগ করলেও এখনো কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
মোশাররফ হোসেন ও শাহিন বেগমের অভিযোগও ঝুলছে
এর আগে গত বছর রায়শ্রী দক্ষিণ ইউনিয়নের নাহারা গ্রামের মোশাররফ হোসেন (৬৫) এবং একই এলাকার শাহিন বেগম (৪৭) নামের এক অসহায় বিধবা সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।
মোশাররফ হোসেন অভিযোগ করেন, জমি কিনতে দেওয়া ২ লাখ ৯০ হাজার টাকা ও দরবারের নামে নেওয়া আরও ৫০ হাজার টাকা না ফেরত দিয়ে তাকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় আদালতে মামলা হলেও তদন্ত প্রতিবেদন এখনো জমা হয়নি।
শাহিন বেগম বলেন, স্বামীর সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল করে রাখা হয়েছে। সম্পত্তি ফেরত ও ঋণ পরিশোধে সহায়তার আশ্বাস দিয়ে আব্দুস সাত্তার তার কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা নিয়ে কোনো সমাধান না করে তাকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন।
এলাকায় শতশত অভিযোগ, থানা প্রশাসন কেন নীরব?
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আব্দুস সাত্তারের বিরুদ্ধে শুধু এই কয়েকটি নয়—এলাকায় শতশত অভিযোগ থাকার পরেও তিনি স্বাচ্ছন্দ্যে বিচরণ করছেন। ৫ আগস্ট পরবর্তী দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলালেও তার কার্যক্রমে কোনো ভাটা পড়েনি বলে অভিযোগ। থানায় ডাক পড়লে তিনি হাজির হন, অভিযোগ মীমাংসার নামে দরবার করেন, কিন্তু কারোরই প্রকৃত বিচার হয় না।
উপজেলা বিএনপির সভাপতির বক্তব্য
শাহরাস্তি উপজেলা বিএনপির সভাপতি আয়াত আলী ভূঁইয়া বলেন, “আব্দুস সাত্তারের বিরুদ্ধে কয়েকটি অভিযোগ আমরা পেয়েছি। দলীয়ভাবে বিষয়টি দেখা হচ্ছে।” তবে অভিযোগের সত্যতা ও থানায় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে তিনি সরাসরি মন্তব্য করতে রাজি হননি।
আব্দুস সাত্তারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আব্দুস সাত্তারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তিনি কল রিসিভ করেননি বা কোনো প্রতিক্রিয়া দেননি।
থানা প্রশাসন যা বলছে
শাহরাস্তি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি৷ বিষয়টি তদন্ত চলমান।
ভুক্তভোগীদের আহবান
ভুক্তভোগীরা দ্রুত তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থার জন্য জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও মানবাধিকার সংস্থার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা বলেন, “আমরা সরল মানুষ। এই প্রতারকের কারণে আমরা নির্যাতিত। তাকে আইনের আওতায় আনতে প্রশাসনের সাহায্য চাই।”

Editor and Publisher: Mohammad Abdul Qayyum Khan. Acting Editor: Saiful Islam Sifat. Executive Editor: Md. Masud Rana.

Editorial and Commercial Office: Bhuiyan Bhaban, (2nd Floor), Adjacent to Chandpur Government College, Chandpur. News Room: Medina Super Market (2nd Floor), Ramganj Road, Bishwa Road, Hajiganj, Chandpur.

প্রিন্ট করুন