প্রকাশের সময়: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬ । ১২:৩৫ এম প্রিন্ট এর তারিখঃ শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রতিজ্ঞা করেছিলেন বিএনপি ক্ষমতায় না এলে ভাত খাবেন না, ১৭ বছর পর ভাত খেলেন সেই ইনু মিয়া!

অনলাইন ডেস্ক

পহেলা বৈশাখ (১৪ এপ্রিল) বিকেলে পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী, কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব-কুলিয়ারচর) আসনের এমপি মো. শরীফুল আলম ১৭ বছর ধরে ভাত না খাওয়া ইনু মিয়ার গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলার কুলিয়ারচর উপজেলার রামদী ইউনিয়নের পশ্চিম জগৎচর গ্রামে যান। নিজ হাতে ইনু মিয়াকে ভাত খাইয়ে দেন প্রতিমন্ত্রী।

ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকারের প্রতিমন্ত্রী ও নিজের এলাকার প্রিয় নেতা নিজের হাতে প্লেটে ভাত তুলে দেন। আর হাসি মুখে ভাত খাওয়া শুরু করেন ইনু মিয়া। এর আগে তিনি শুধু কলা, রুটি, বিস্কুটসহ শুকনা খাবার খেয়েই কাটিয়েছেন ১৭ বছরেরও বেশি সময়।

বিএনপি ক্ষমতায় না এলে ইনু মিয়া ভাত খাবেন না-এমন খবরটি এলাকার সবার জানা ছিল। বিএনপি নেতা শরিফুল আলম তাকে কথা দিয়েছিলেন- দল ক্ষমতায় এলে নিজের হাতে ইনু মিয়াকে ভাত খাওয়াবেন।

এবার শুধু বিএনপির ক্ষমতায় আসেনি-শরীফুল আলম প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। তাই তিনি নিজের হাতে ভাত খাইয়ে ইনু মিয়ার অভিমান ভাঙান শরীফুল আলম ‌

প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বলেন, ‘যে ব্যক্তি দলকে ভালোবেসে এত বড় ত্যাগ স্বীকার করতে পারেন আমাদের উচিত তার পাশে থাকা। ভাত না খেয়ে বয়োবৃদ্ধ ইনু মিয়া প্রতীকী প্রতিবাদ করে গেছেন। আমরা দলীয় নেতাকর্মীরা তার যেকোনো প্রয়োজনে পাশে থাকবো ইনশাল্লাহ।’ তিনি প্রতিশ্রুতি দেন অচিরেই ইনু মিয়াকে একটি নতুন ঘর করে দেবেন এবং একটি বয়স্ক ভাতার কার্ড করে দেয়ার ব্যবস্থা করে দেবেন।

এ সময় প্রতিমন্ত্রীর সাথে ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট মশিউর রহমান, উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. কিতাব আলী, সাধারণ সম্পাদক এম.এ হান্নান, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মো. শাহ্ আলম, কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দিন প্রমুখ।

এর আগে ইনু মিয়া প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলমের হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে তাকে বরণ করে নেন। প্রতিমন্ত্রীও ইনু মিয়াকে ফুলের মালা পড়িয়ে শুভেচ্ছা জানান।

জানা যায়, জগৎচর পশ্চিমপাড়া গ্রামের মৃত সুলায়মান মিয়ার ছেলে ইনু মিয়া কৃষি শ্রমিক হিসেবে মানুষের জমিতে কাজ করতেন। কয়েক বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় তার বাম পায়ে আঘাত পাওয়ার পর থেকে লাঠি ভর করে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলেন। তাই এখন আর কাজ করতে পারেন না। শুয়ে-বসে ও ভিক্ষাবৃত্তি করেই দিন কাটছে তার। ইনু মিয়া তিন সন্তানের জনক। স্ত্রী জোছনা খাতুন। বড় ছেলে ইকবাল হোসেন সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালান। ছোট ছেলে জাকির হোসেন জুতা তৈরির দোকানে কাজ করেন। মেয়ে মার্জিয়া খাতুনের বিয়ে দিয়েছেন।

২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্থানীয় পশ্চিম জগৎচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোট কেন্দ্রে ভোট দিতে গিয়ে আওয়ামী লীগ কর্মীদের দ্বারা লাঞ্ছিত হন। সেদিন আর ভোট দিতে পারেননি তিনি। তারপর প্রতিজ্ঞা করেন, যতদিন না বিএনপি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসবে, ততদিন তিনি ভাত খাবেন না। পরিবার ও স্বজনরা নানাভাবে চেষ্টা করেও ভাত খাওয়াতে পারেননি ইনু মিয়াকে।

ইনু মিয়ার স্ত্রী জোছনা খাতুন বলেন, ‘অনেক চেষ্টা করেছি ভাত খাওয়ানোর জন্য কিন্তু পারিনি। আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে নিয়ে এসেও ভাত খাওয়াতে পারিনি। উনার একটাই কথা ছিল- যতদিন না বিএনপি ক্ষমতায় আসবে ততদিন ভাত খাবেন না। রুটি, পুরি, বিস্কুট, চা এগুলো খেয়ে বেঁচে ছিলেন এত দিন।

Editor and Publisher: Mohammad Abdul Qayyum Khan. Acting Editor: Saiful Islam Sifat. Executive Editor: Md. Masud Rana.

Editorial and Commercial Office: Bhuiyan Bhaban, (2nd Floor), Adjacent to Chandpur Government College, Chandpur. News Room: Medina Super Market (2nd Floor), Ramganj Road, Bishwa Road, Hajiganj, Chandpur.

প্রিন্ট করুন