চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলায় প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে চলা একটি ভূমি বিরোধ অবশেষে মীমাংসার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়েছে। জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের দীর্ঘ প্রচেষ্টায় এ বিরোধের অবসান ঘটায় সংশ্লিষ্ট পরিবারে ফিরে এসেছে স্বস্তি ও শান্তি।
জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মেঘনা নদীর তীরবর্তী দক্ষিণ দূর্গাপুর গ্রামের বাসিন্দা মনু মিয়া, আব্দুল কাদির ও সোনা মিয়া—এই তিন ভাইয়ের মধ্যে পৈত্রিক ও ক্রয়কৃত জমি নিয়ে প্রায় ৫০ বছর ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে তারা একাধিক দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলায় জড়িয়ে পড়েন। দীর্ঘদিনের এই বিরোধে এক পর্যায়ে সোনা মিয়া মারা যান। পরবর্তীতে তাঁর সন্তানরাও এ বিরোধে যুক্ত হন।
সর্বশেষ বিরোধ সংশ্লিষ্ট দুটি ফৌজদারি মামলা চাঁদপুরের চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারাধীন ছিল। আদালতের বিচারক মুজাহিদুর রহমান পারিবারিক সম্পর্ক ও দীর্ঘদিনের বিরোধ বিবেচনায় নিয়ে মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে আপস-মীমাংসার জন্য পাঠান।
এরপর জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার মো. আবদুল আলীম মামলার বাদী-বিবাদী, আইনজীবী, পুলিশ ও সার্ভেয়ারদের নিয়ে সরেজমিনে বিরোধপূর্ণ জমি পরিদর্শন করেন। একাধিক দফায় বৈঠক ও আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সার্ভেয়ারদের মাধ্যমে জমির ছাহাম চিটা নকশা প্রস্তুত করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষদের মধ্যে সমঝোতার ভিত্তি তৈরি হয়।
দীর্ঘ আলোচনার পর এক পর্যায়ে বিরোধমান পক্ষগুলো আপসে রাজি হয়। তারা নিজেদের মধ্যে জমি বণ্টনসংক্রান্ত একটি লিখিত চুক্তি সম্পাদন করেন, যাতে ভোগদখল, খাজনা পরিশোধ ও নামজারি সংক্রান্ত বিষয়গুলোও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
গত ২০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে আদালতে ওই চুক্তির ভিত্তিতে মামলা দুটি আপসের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়। পরে উভয় পক্ষই সন্তুষ্টি প্রকাশ করে হাসিমুখে বাড়ি ফিরে যান। দীর্ঘদিনের বিরোধের অবসানে পরিবারগুলোতে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
জেলা লিগ্যাল এইড অফিস জানায়, তারা সাধারণ মানুষের জন্য বিনামূল্যে আইনগত পরামর্শ ও আপস-মীমাংসা সেবা প্রদান করে থাকে। পাশাপাশি দরিদ্র ও অসহায় ব্যক্তিদের সরকারি খরচে মামলা পরিচালনার জন্য আইনজীবী নিয়োগসহ প্রয়োজনীয় সহায়তাও দেওয়া হয়।
চাঁদপুর জেলা জজ আদালত ভবনের দ্বিতীয় তলার ৩৫ নম্বর কক্ষে অবস্থিত এ অফিসের হটলাইন নম্বর ০১৭১০-২৬৭৩৮১।

নিজস্ব প্রতিনিধি