প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬ । ৪:৩৮ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

মতলব উত্তরে মোমবাতি-চার্জার লাইটের আলোয় এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা

মনিরুল ইসলাম মনির
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়, বজ্রসহ ভারী বর্ষণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ঝড়ের তাণ্ডবে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গাছপালা উপড়ে বিদ্যুতের মূল লাইনের ওপর পড়ায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। অনেক স্থানে বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে পড়ায় পুরো এলাকা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে চলমান এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায়। বিদ্যুৎ না থাকায় অন্ধকারাচ্ছন্ন কক্ষে মোমবাতি ও চার্জার লাইটের আলোয় পরীক্ষা দিতে বাধ্য হচ্ছে শত শত পরীক্ষার্থী।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকালে ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষার সময় উপজেলার কয়েকটি কেন্দ্রে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকায় কক্ষগুলোতে পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলো ছিল না। এর সাথে বিদ্যুৎ না থাকায় বৈদ্যুতিক পাখা বন্ধ হয়ে গুমোট পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, যা পরীক্ষার্থীদের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
অনেক কেন্দ্রে দেখা গেছে, অসহনীয় গরম আর অন্ধকারে শিক্ষার্থীরা প্রশ্নপত্র পড়তেই হিমশিম খাচ্ছে। পরীক্ষার্থীরা জানায়, এমন বৈরী পরিবেশে মনোযোগ ধরে রাখা তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছিল, যা পরীক্ষার ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
এদিকে অভিভাবকদের মধ্যে এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা গেছে। এক অভিভাবক বলেন, ‘পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা যেমন—জেনারেটর বা আইপিএস না থাকাটা কর্তৃপক্ষের গাফিলতি। সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা যথেষ্ট চিন্তিত।’
ছেংগারচর সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র সচিব বেনজুর আহমেদ মুন্সী জানান, তারা আগে থেকেই কিছু এলইডি লাইটের ব্যবস্থা করেছিলেন, ফলে শিক্ষার্থীরা তুলনামূলক নির্বিঘ্নে পরীক্ষা দিতে পেরেছে।
নিশ্চিন্তপুর স্কুল কেন্দ্র সচিব মো. আরিফুল্ল্যা জানান, বৈরী আবহাওয়ায় কক্ষগুলো অন্ধকার হয়ে গিয়েছিল। পরে তারা দ্রুত শতাধিক মোমবাতির ব্যবস্থা করেন। যাতে পরীক্ষা ব্যাহত না হয়।
দশানী মোহনপুর উচ্চ বিদ্যালয় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সজীব চন্দ্র বলেন, মোমবাতি ও চার্জার লাইটের ব্যবস্থা করা হলেও দীর্ঘস্থায়ী লোডশেডিং সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।
চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ (মতলব উত্তর জোনাল অফিস) সূত্রে জানা গেছে, ঝড়ে লাইনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ায় মেরামত করতে সময় লাগছে। তবে পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল আলম বলেন, ‘আমরা সকল কেন্দ্র সচিবকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছি, যাতে কোনো অবস্থাতেই পরীক্ষা ব্যাহত না হয়। যেখানে বিদ্যুৎ সমস্যা রয়েছে, সেখানে বিকল্প আলোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চলছে। শিক্ষার্থীদের স্বার্থই আমাদের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।’
তিনি আরও বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ কারও নিয়ন্ত্রণে নেই, তবে এমন পরিস্থিতিতেও যেন পরীক্ষার্থীরা মানসিকভাবে ভেঙে না পড়ে, সেদিকে আমরা বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছি।

Editor and Publisher: Mohammad Abdul Qayyum Khan. Acting Editor: Saiful Islam Sifat. Executive Editor: Md. Masud Rana.

Editorial and Commercial Office: Bhuiyan Bhaban, (2nd Floor), Adjacent to Chandpur Government College, Chandpur. News Room: Medina Super Market (2nd Floor), Ramganj Road, Bishwa Road, Hajiganj, Chandpur.

প্রিন্ট করুন