চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার কাদলা ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের একমাত্র পুরোনো খালটি দখল ও ভরাট হয়ে যাওয়ায় অন্তত ২০০ হেক্টর ইরি–বোরো জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে ফসলহানির শঙ্কায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, গুলবাহার, মহদ্দিরবাগ, দেবিপুর, কাপিলাবাড়ি, মনপুরা ও কাদলাসহ আশপাশের অন্তত ১০টি গ্রামের প্রায় ৫০০ হেক্টর ফসলি জমির পানি চলাচলের একমাত্র মাধ্যম ছিল প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো এই খালটি। কিন্তু বছরের পর বছর দখল ও ভরাটের কারণে এখন খালটির অনেক অংশে আর কোনো চিহ্নই নেই। কোথাও বাড়িঘর নির্মাণ করা হয়েছে, কোথাও ভরাট করে বানানো হয়েছে চলাচলের রাস্তা।
খালটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিলের পানি নিষ্কাশন বন্ধ হয়ে পড়েছে। এতে সারা বছরই জলাবদ্ধতায় ভোগে ফসলি জমি। কৃষকেরা জানান, প্রতি বছর এ এলাকায় ৬০ থেকে ৭০ হাজার মণ ইরি–বোরো ধান উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। চলতি মৌসুমে কালবৈশাখীর ঝড় ও ভারী বৃষ্টিতে জমে থাকা পানির কারণে অনেক জমির ধান হাঁটুপানি ডুবে গেছে।
কৃষক মো. আলমাছ উদ্দিন বলেন, “একটি প্রভাবশালী মহল খালটি ভরাট করে দুই পাশে বাড়িঘর তুলেছে, এমনকি খালের ওপর দিয়ে রাস্তা বানিয়েছে। ফলে বিলের পানি বের হতে পারছে না। প্রতি বছর আমাদের বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।”
আরেক কৃষক মিজান মোল্লা বলেন, “বর্ষা মৌসুমে খালের পানি বের হতে না পেরে আশপাশের বাড়িঘর ও সড়কে উঠে আসে। এতে চলাচলেও ভোগান্তি হয়। আমরা একাধিকবার অভিযোগ দিয়েছি, কিন্তু কোনো সমাধান পাইনি।”
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ২০২২ সালে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও তখন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। উল্টো হয়রানির শিকার হয়েছেন তাঁরা। তাঁদের দাবি, খালটি দখলমুক্ত করে দ্রুত পুনঃখনন করা হোক।
এ বিষয়ে কচুয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান রাসেল বলেন, “উপজেলার কয়েকটি খাল খননের কাজ চলমান রয়েছে। অন্যান্য খাল খননের প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে। খাল দখলের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ইসমাইল হোসেন বিপ্লব, কচুয়া