চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের দুই পাশ থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছে প্রশাসন। পর্যায়ক্রমে চাঁদপুর জেলা সদর থেকে কুমিল্লার লালমাই খাজুরিয়া পর্যন্ত প্রায় সবগুলো অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে বলে জানিয়েছে সড়ক ও জনপদ বিভাগ।
উচ্ছেদের দ্বিতীয় দিন সোমবার (৪ মে) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে চাঁদপুর সদর উপজেলার মহামায়া পশ্চিম বাজার থেকে এ অভিযান শুরু হয়।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সড়ক বিভাগ থেকে সংশ্লিষ্ট এলাকায় মাইকিং করে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে রোববার (৩ মে) সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মহামায়া পশ্চিম বাজার থেকে পূর্ব বাজার পর্যন্ত সড়ক বিভাগের একোয়ারকৃত সম্পত্তিতে গড়ে ওঠা সকল অবৈধ স্থাপনাগুলো দখলদাররা নিজ দায়িত্বে সরিয়ে নেন।
এসব দোকানগুলোর বাকী অংশটুকু দুটি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়া হয়। তবে এখানকার হকাররা হঠাৎ করে কর্মহীন হয়ে পড়ায় পরিবার পরিজন নিয়ে বড় ধরনের দুঃচিন্তায় পড়ে যান। তারা কিভাবে জীবিকা নির্বাহ করবেন, এই ভেবে অনেকে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
উচ্ছেদ অভিযানের প্রথমদিন গত রোববার (৩ মে) চাঁদপুর পুলিশ সুপারের বাসভবনের উত্তর পাশ, ওয়ারলেস বিআরডিবি অফিসের সামনে, ইকরা মডেল একাডেমি সংলগ্ন এলাকা, ওয়ারলেস সবজি বাজার, গোশতের বাজার এবং ওয়ারলেস মোড়ের বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনের অবৈধ স্থাপনা ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়া হয়।
এছাড়াও এদিন বাবুরহাট বাজারের দুই পাশেও উক্ত অভিযান পরিচালনা করা হয়।
চাঁদপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইউনুছ আলী জানায়, এটি নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযানের অংশ এবং সপ্তাহব্যাপী এ কার্যক্রম চলবে।
চাঁদপুর জেলা শহর থেকে কুমিল্লার লালমাই খাজুরিয়া পর্যন্ত আঞ্চলিক সড়কের দুই পাশের ২৭০টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের আওতায় আনা হয়েছে। তিনি আরো জানায়, উচ্ছেদের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের তালিকা প্রস্তুত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।
এসময় চাঁদপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেহের আফরোজ, চাঁদপুর সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইউনুছ আলী সহ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও সড়ক বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তাগণ এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। মহামায়া বাজারের এই উচ্ছেদ অভিযানকালে হাজারো উৎসুক জনতা ভিড় জমায়। পরে এদিন বিকেলে বাকিলা বাজারেও অবৈধভাবে গড়ে ওঠা স্থাপনা উচ্ছেদ করেন সড়ক বিভাগ।

মাসুদ হোসেন