শাহরাস্তি উপজেলাতে প্রশাসনের তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপে এক কিশোরীর বাল্যবিবাহ বন্ধ করা হয়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক সচেতনতা সৃষ্টি হয়েছে এবং স্থানীয়রা প্রশাসনের মানবিক ও দায়িত্বশীল ভূমিকাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।
জানা যায়, গত দুই দিন আগে রাত প্রায় ১০টার দিকে উপজেলার ঠাকুর বাজার এলাকায় এক এডভোকেটের পরামর্শ নিতে আসে পার্শ্ববর্তী রামগঞ্জ থানার এক যুবক ও শাহরাস্তির রাগৈ এলাকার ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীর পরিবার। পরে স্থানীয় এলাকাবাসী ও মেয়ের স্বজনদের অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজিয়া হোসেনর নির্দেশে ঘটনাস্থলে দ্রুত উপস্থিত হন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হিল্লোল চাকমা। এসময় শাহরাস্তি থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মীর মাহবুবুর রহমান পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।
প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে বাল্যবিবাহ দিতে আসা ছেলেপক্ষ ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে মেয়েটির বয়স ১৮ বছর পূর্ণ না হওয়ায় তাকে তার মামার জিম্মায় দেওয়া হয় এবং বাল্যবিবাহের আয়োজন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এসময় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মেয়ের পরিবারকে সতর্ক করে বলা হয়, মেয়ের প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগে যেন কোনোভাবেই বিয়ের উদ্যোগ না নেওয়া হয়। একই সঙ্গে কিশোরীকেও সচেতন করা হয়, যেন সে ভবিষ্যতে আইনবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত না হয়।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজিয়া হোসেন বলেন,বাল্যবিবাহ শুধু একটি সামাজিক অপরাধ নয়, এটি একটি মেয়ের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও স্বাভাবিক ভবিষ্যৎকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেয়। সরকার বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে। সমাজের সবাইকে এ বিষয়ে আরও সচেতন হতে হবে।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হিল্লোল চাকমা বলেন, আইনের দৃষ্টিতে ১৮ বছরের নিচে কোনো মেয়ের বিয়ে সম্পূর্ণ অবৈধ। বাল্যবিবাহ একটি শিশুর মানসিক ও শারীরিক বিকাশে মারাত্মক প্রভাব ফেলে। প্রশাসন নিয়মিতভাবে এ ধরনের ঘটনায় কঠোর অবস্থানে রয়েছে। সচেতনতা বৃদ্ধি ছাড়া এ সামাজিক ব্যাধি নির্মূল সম্ভব নয়।

মোঃ মাসুদ রানা