প্রকাশের সময়: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬ । ৭:৪৫ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

কচুয়া পরানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রকৃতির মাঝে দৃষ্টিনন্দন

ইসমাইল হোসেন বিপ্লব, কচুয়া

প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়ন ও প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষাকে আরো সমৃদ্ধিশীল এবং মানসম্মত করার লক্ষ্যে ক্ষুদে শিশুদের স্কুলমুখী ও আনন্দদায়ক পাঠদান কার্যক্রম চালু করার লক্ষ্যে কচুয়া উপজেলার কড়ইয়া ইউনিয়নের পরানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় করা হয়েছে সুসজ্জিতকরণ।

বিদ্যালয়ের প্রবেশ মুখ ও দেওয়ালে দেওয়ালে শোভা পাচ্ছে বাংলা-ইংরেজি বর্ণ,বিভিন্ন দিবসের তারিখ। শ্রেণিকক্ষ ও ভবনের চারপাশে ফলমূল,দেশ-প্রকৃতি,কার্টুনসহ নানা মনীষীদের ছবি ও বাণী ।

বিদ্যালয়ের ভবনের ছাদে ও দেয়ালে লেখা আছে শিক্ষামূলক নানা নীতিবাক্য। দৃষ্টিনন্দন শ্রেণি কক্ষগুলো কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করছে। এতে শিক্ষার্থীরা যেমন ছোটবেলা থেকেই শিল্পমনা মানুষ হিসেবে গড়ে উঠছে, জানবে দেশ-প্রকৃতি সম্পর্কে, তেমনি শিশু মনে শ্রেণিপাঠ সহজবোধ্য হচ্ছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বিদ্যালয়ে রঙিন করে সাজানো হয়েছে। রংতুলির ছোঁয়ায় বিদ্যালয় এখন যে কারও দৃষ্টি কাড়ে। বিদ্যালয়ের দেওয়াল যেন রংধনুর সাতরঙে রাঙানো। মাঝে মাঝে বিভিন্ন মনীষীর ছবি ও বাণী। শিক্ষার্থীরা স্কুলে প্রবেশের আগে এসব ছবির মনীষীদের সঙ্গে পরিচিত হচ্ছে।

পরানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানান, সকালে স্কুলে এসেই তাদের আনন্দ লাগে। তারা ছবি দেখে অনেক কিছু শিখতে পারছে। এখন শিক্ষকরা অনেক উপকরণসহ পাঠ দেন। এতে তাদের ভালো লাগে। স্কুলটি এখন তাদের কাছে আনন্দের। এখন স্কুলে এসে আর বিরক্ত লাগে না। সাজানো গোছানো বিদ্যালয়, এটা তাদের জন্য খুব আনন্দের। এখন শিক্ষকরা যতক্ষণ ছুটি না দেন ততক্ষণ তারা স্কুলে থাকে।

বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক মোশারফ হোসেন জানান, আগের চেয়ে এখন সুসজ্জিত বিদ্যালয় ভবন পেয়ে শিশুরা খুশি, তারাও খুশি। স্কুলকে দৃষ্টিনন্দন করে তোলায় স্কুলের প্রতি শিশুদের আগ্রহ তৈরি হচ্ছে। পড়াশোনার প্রতি শিশুদের আগ্রহ বাড়ছে বলেও তিনি জানান।

পরানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খোরশেদ আলম মজুমদার জানান, সুন্দর মন, সুস্থ পরিবেশ খুব বেশি প্রয়োজন। স্কুলের পরিবেশ সুন্দর হওয়ায় পড়াশোনায় মনযোগী হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। এতে শিশুরা বেশি করে স্কুলমুখী হচ্ছে। শুধু তাই নয়, আনন্দের সঙ্গে পড়াশোনা করছে তারা। স্কুলের দেওয়ালে যেসব ছবি আঁকা হয়েছে তা সবই পাঠ্যবই সংশ্লিষ্ট। এতে করে ছবি দেখেই শিশুরা পাঠ সম্পর্কে ভালো ধারণা লাভ করছে। এতে তাদের অনুধাবন ক্ষমতা, সৃজনশীলতা বাড়ছে। পাঠ আনন্দদায়ক হয়ে উঠছে।

তিনি আরো জানান, আমি বিদ্যালয়ে যখন যোগদান করেছি, ওই সময় বিদ্যালয়ে মাঠ গর্ত থাকায় সব সময় বৃষ্টির পানি জমে থাকতো । শিক্ষার্থীরা চলাচলের দূরের কথা, আমরা শিক্ষকরা অনেক চলাচল করতে অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। বিদ্যালয়ের আঙ্গিনায় ময়লা আবর্জনায় ও দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পড়তো শিক্ষার্থীরা। আমি উপজেলা শিক্ষা অফিসারের বিভিন্ন অনুদান ও স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতা নিয়ে বর্তমান বিদ্যালয়টি সুসজ্জিতকরণ,প্রকৃতির মাঝে দৃষ্টি নন্দন করেছি।

বিদ্যালয় মাঠটি ভরাট করে সবুজ ঘাসের গালিচার মতো বিস্তৃত মাঠ,পূর্ব ও পশ্চিম পাশে ফুলের বাগান। বর্তমানে মাঠে শিশুরা মনের আনন্দে খেলা করে। সবুজ দুর্বা ঘাস আর সবুজ পাতার ফাঁকে তারা যেন শৈশবকে হাসি, ঠাট্টা আর আনন্দ উপভোগ করে কাটিয়ে দিচ্ছে এখন শিক্ষার্থীরা।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস জানান, সরকারিভাবে প্রাপ্ত বরাদ্দ দ্বারা বিদ্যালয়গুলোকে স্মার্ট ও দৃষ্টিনন্দন বিদ্যালয়ে পরিণত করার চেষ্টা চলছে। বিদ্যালয়গুলোকে দৃষ্টিনন্দন করতে দেওয়ালে নানা রঙের ছবি ও কার্টুন আঁকা হয়েছে। যাতে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়মুখী হয়। পাঠের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নানা উপকরণ ব্যবহারে শিশুদের একঘেয়েমি দূর হবে। স্কুলগুলো হয়ে উঠেছে শিশুদের জন্য আনন্দমুখর।

Editor and Publisher: Mohammad Abdul Qayyum Khan. Acting Editor: Saiful Islam Sifat. Executive Editor: Md. Masud Rana.

Editorial and Commercial Office: Bhuiyan Bhaban, (2nd Floor), Adjacent to Chandpur Government College, Chandpur. News Room: Medina Super Market (2nd Floor), Ramganj Road, Bishwa Road, Hajiganj, Chandpur.

প্রিন্ট করুন