প্রাথমিক শিক্ষা পদক–২০২৬ এর জেলা পর্যায়ের চূড়ান্ত মূল্যায়নে শ্রেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন শাহরাস্তি উপজেলার পারভীন সুলতানা লাভলী। তিনি উপজেলার নিজমেহের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি (ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা পদক যাচাই-বাছাই কমিটির চূড়ান্ত মূল্যায়নে তার দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবন, পাঠদানের মান, সহশিক্ষা কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা এবং বিদ্যালয় উন্নয়নে অবদানের ভিত্তিতে তাকে জেলার শ্রেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
এর আগে ১৯ মে উপজেলা পর্যায়ের যাচাই-বাছাই কার্যক্রম উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিরা খাতুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আট সদস্যের বোর্ডে সম্পন্ন হয়। মৌখিক পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও শিক্ষকতার অভিজ্ঞতার মূল্যায়নের মাধ্যমে তিনি উপজেলা পর্যায়েও শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেন।
উপজেলা প্রশাসন ও শিক্ষা বিভাগ সূত্রে জানা যায়, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়ায় প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের দক্ষতা, শিক্ষার্থীবান্ধব কার্যক্রম এবং বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনায় অবদান মূল্যায়ন করে এ ফলাফল নির্ধারণ করা হয়। নিজ প্রতিক্রিয়ায় পারভীন সুলতানা লাভলী বলেন, এই অর্জন আমার দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আমি সবসময় চেষ্টা করেছি শিক্ষার্থীদের জন্য আনন্দমুখর ও কার্যকর শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করতে। এই স্বীকৃতি আমাকে ভবিষ্যতে আরও আন্তরিকভাবে কাজ করতে অনুপ্রাণিত করবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিরা খাতুন বলেন, যোগ্য ও নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষকদের মূল্যায়ন করাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য। স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার ভিত্তিতেই শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচন করা হয়েছে। পারভীন সুলতানা লাভলীর এই অর্জন অন্য শিক্ষকদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ জহিরুল ইসলাম বলেন, শিক্ষাদান দক্ষতা, বিদ্যালয়ে সক্রিয় ভূমিকা এবং মৌখিক পরীক্ষার পারফরম্যান্সসহ সব সূচকে তিনি সর্বোচ্চ মান অর্জন করেছেন। এজন্যই তাকে জেলার শ্রেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে।এদিকে তার এ অর্জনে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য ও পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক বেলায়েত হোসেন সেলিম। তিনি বলেন, “দীর্ঘদিনের নিষ্ঠা, সততা ও শিক্ষার্থীদের প্রতি দায়িত্ববোধের স্বীকৃতি এটি। একজন শিক্ষক হিসেবে তিনি সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন।
পারভীন সুলতানা লাভলী ২০০৩ সালের ৯ জুন নিজমেহের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা জীবন শুরু করেন। প্রায় দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি আধুনিক ও আনন্দমুখর পাঠদান, বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষায় গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। তার এই অর্জনে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় সুধীজনের মধ্যে আনন্দ ও গর্বের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
শিক্ষাক্ষেত্রে এই স্বীকৃতি শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং শাহরাস্তি উপজেলা ও চাঁদপুর জেলার জন্যও একটি গৌরবজনক মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মোঃ মাসুদ রানা