দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রাম, প্রত্যাশা ও দাবির অবসান ঘটিয়ে চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মেহের ডিগ্রি কলেজ সরকারিকরণের পথে বড় ধরনের অগ্রগতি অর্জন করেছে। কলেজটি সরকারিকরণের লক্ষ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সানুগ্রহ সম্মতি প্রদান করেছেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনার পর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ এ-সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক চিঠি জারি করেছে। এ খবরে শাহরাস্তিজুড়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সাবেক শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। জানা গেছে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গত ১৯ মে ২০২৬ খ্রিস্টাব্দের পত্রের প্রেক্ষিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের বেসরকারি কলেজ-৬ শাখা থেকে ২১ মে ২০২৬ তারিখে একটি চিঠি জারি করা হয়। সিনিয়র সহকারী সচিব মনজুরুল আলিম স্বাক্ষরিত ওই চিঠির স্মারক নম্বর ৩৭.০০.০০০০.০৭০.৩৮.৬২.২০২৬-১২৪।
চিঠিতে মেহের ডিগ্রি কলেজ সরকারিকরণের লক্ষ্যে পরবর্তী প্রশাসনিক কার্যক্রম গ্রহণের জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। নির্দেশনাগুলোর মধ্যে রয়েছে, কলেজে নতুন নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধ রাখা, স্থায়ী ও অস্থায়ী সম্পদ হস্তান্তরের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ, প্রতিষ্ঠানটি সরজমিনে পরিদর্শন করে প্রতিবেদন প্রেরণ, আর্থিক সংশ্লেষ সংক্রান্ত তথ্য উপস্থাপন, প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কোনো মামলা-মোকদ্দমা রয়েছে কিনা সে বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের আইন উপদেষ্টার মতামত গ্রহণ এবং প্রতিষ্ঠান প্রধানের অঙ্গীকারনামাসহ প্রয়োজনীয় প্রতিবেদন পাঠানো।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চিঠি জারির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর শাহরাস্তিজুড়ে আনন্দ-উচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় শিক্ষাঙ্গন ও সচেতন মহল এ ঘটনাকে উপজেলার শিক্ষা খাতে একটি ঐতিহাসিক অর্জন হিসেবে দেখছেন। কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি আবু ইউসুফ রুপন পাটওয়ারী বলেন, মেহের ডিগ্রি কলেজ শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, এটি শাহরাস্তির মানুষের আবেগ, স্বপ্ন ও শিক্ষার আলোকবর্তিকা। দীর্ঘদিনের দাবির প্রতি সম্মান জানিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কলেজটি সরকারিকরণের জন্য সানুগ্রহ সম্মতি দিয়েছেন। এজন্য তাঁর প্রতি আমরা গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। একই সঙ্গে স্থানীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হকের নিরলস প্রচেষ্টা ও আন্তরিক সহযোগিতার জন্যও কৃতজ্ঞতা জানাই। আমরা আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যেই সরকারিকরণের সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও মেহের ডিগ্রি কলেজ গভর্নিং বডির আজীবন দাতা সদস্য আলহাজ্ব আয়েত আলী ভূঁইয়া বলেন, “মেহের ডিগ্রি কলেজ সরকারিকরণের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সানুগ্রহ সম্মতি শাহরাস্তিবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। এ অঞ্চলের শিক্ষা বিস্তার ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে কলেজটির ভূমিকা অপরিসীম। আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হকের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আশা করছি, দ্রুত সময়ের মধ্যেই সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে কলেজটি পূর্ণাঙ্গভাবে সরকারি কলেজে রূপান্তরিত হবে এবং শিক্ষার্থীরা এর সুফল ভোগ করবে।
কলেজের অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান বলেন, এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের সংবাদ। বহু বছরের প্রত্যাশা বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাওয়ায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং সাবেক শিক্ষার্থীদের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হকের প্রতি আমরা আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। সরকারিকরণ সম্পন্ন হলে এ অঞ্চলের উচ্চশিক্ষার সুযোগ-সুবিধা আরও সম্প্রসারিত হবে এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, পূর্বে দেশের প্রতিটি উপজেলা থেকে একটি করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করা হলেও শাহরাস্তির অন্যতম মেহের ডিগ্রি কলেজ সেই তালিকায় আসে নাই। ২০১৫ সালে করফুলেন্নেছা মহিলা কলেজ জাতীয়করণ করা হলেও মেহের ডিগ্রি কলেজ বাদ পড়ে। এরপর থেকেই কলেজ কর্তৃপক্ষ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী প্রতিষ্ঠানটির জাতীয়করণের দাবিতে ধারাবাহিকভাবে নানা উদ্যোগ ও তৎপরতা চালিয়ে আসছিলেন।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৬ মে ২০২৬ তারিখে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শাহরাস্তি আগমন উপলক্ষে মেহের ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা তাঁর গাড়ির গতিরোধ করেন। নিরাপত্তাজনিত কারণে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বাসের দরজা খোলা না হলেও তিনি বাসের ভেতর থেকেই কলেজটি সরকারিকরণের ঘোষণা দেন এবং সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রীর সেই আশ্বাসের মাত্র ২২ দিনের মাথায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক চিঠি জারি হওয়ায় মেহের ডিগ্রি কলেজের সরকারিকরণ এখন দৃশ্যমান বাস্তবতার পথে এগিয়ে গেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মোঃ মাসুদ রানা