প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার রুপসা শাখায় দিনব্যাপী বিনামূল্যে মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করেছে পল্লী মঙ্গল কর্মসূচী (পিএমকে)।
এ ক্যাম্পে প্রায় ৫ শতাধিক অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত নারী-পুরুষ, শিশু ও প্রবীণ চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেছেন। চিকিৎসার পাশাপাশি রোগীদের বিনামূল্যে ওষুধ, স্বাস্থ্যপরামর্শ এবং চক্ষুসেবাও প্রদান করা হয়।
রবিবার (১৪ জুন) রুপসা শাখা কার্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচিতে সকাল থেকেই রোগীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। ক্যাম্পে মেডিসিন, গাইনি, শিশু, চর্ম ও যৌনরোগ, সার্জারি এবং চক্ষু বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা রোগীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন। সেবাদানকারী চিকিৎসকদের মধ্যে ছিলেন ডা. লিমন আহমেদ, ডা. রাসেল রানা, ডা. ইবরাহিম এবং ডা. জাহিদ।
ক্যাম্পের উদ্বোধন করেন রুপসা শাখার ব্যবস্থাপক মোঃ নূরুন্নবী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন শাখার হিসাবরক্ষক আলতাব হোসেনসহ সংস্থার অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
উদ্বোধনী বক্তব্যে শাখা ব্যবস্থাপক মোঃ নূরুন্নবী বলেন, স্বাস্থ্যসেবা মানুষের মৌলিক অধিকার হলেও আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে এখনও অনেক মানুষ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় পিএমকে নিয়মিতভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
তিনি বলেন, মানব কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিয়ে পরিচালিত এসব উদ্যোগ সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তি সহজতর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তিনি আরও জানান, এ ক্যাম্পে রোগীদের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ওষুধ বিনামূল্যে সরবরাহ করা হয়েছে। পাশাপাশি চক্ষুরোগীদের পাওয়ার অনুযায়ী চশমা ও চোখের ড্রপও প্রদান করা হয়। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
শাখা ব্যবস্থাপক মোঃ নূরুন্নবী বলেন, ১৯৮৭ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে পিএমকে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমের পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা, মা ও শিশু কল্যাণ, চক্ষুচিকিৎসা এবং বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মসূচির মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। মানুষের জীবনমানের টেকসই উন্নয়নই প্রতিষ্ঠানটির প্রধান লক্ষ্য।
চিকিৎসাসেবা নিতে আসা এক নারী উপকারভোগী বলেন, অর্থাভাবে অনেক সময় ভালো চিকিৎসক দেখানো কিংবা প্রয়োজনীয় ওষুধ কেনা সম্ভব হয় না। বিনামূল্যে চিকিৎসা, ওষুধ ও চক্ষুসেবা পেয়ে তারা অত্যন্ত উপকৃত হয়েছেন।
অপর এক প্রবীণ সেবাগ্রহীতা বলেন, একসঙ্গে এতজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সেবা পাওয়ার সুযোগ তাদের জন্য বিরল। চিকিৎসকেরা আন্তরিকতার সঙ্গে রোগীদের সমস্যা শুনে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও চিকিৎসা দিয়েছেন, যা তাদের কাছে অত্যন্ত মূল্যবান। বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পেয়ে উপকারভোগীরা পিএমকের প্রধান নির্বাহী কামরুন্নাহার, উপ-প্রধান নির্বাহী দেওয়ান ফয়সাল এবং পিএমকে হাসপাতালের প্রধান উপদেষ্টা ও হেড অব হেল্থ ডা. কাজী সুদীপ্তা কবিরের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
আয়োজকরা জানান, সমাজের দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে।

নিজস্ব প্রতিনিধি