চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণে চাঁদা না পেয়ে ইউসুফ মিয়াজী নামে এক মাংস ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে মো. শাহআলম হাজী ও জিসান আহমেদ নামে দুই যুবদল নেতার বিরুদ্ধে।
শুক্রবার (৩ জুলাই) ভোর ৪টার দিকে উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের হরিদাসপাড়া এলাকায় এই অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটে। এসময় ইউসুফ মিয়াজীর সাথে থাকা ৩ লক্ষ ১০ হাজার টাকা হামলাকারীরা নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন তার মা। আহত ইউসুফ মিয়াজী ওই এলাকার মৃত আবুল বাসার মিয়াজীর ছেলে। সে স্থানীয় জোড়পুল আড়ং বাজারে গোস্তের ব্যবসা করেন। আহত ইউসুফ বর্তমানে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে তার পরিবার জানায়।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, হরিদাসপাড়া গ্রামের সফিউল্লাহ খন্দকারের ছেলে ইরফান খন্দকার ও ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলার নিগুয়ারী এলাকার পরিমল চন্দ্র ধরের মেয়ে নীপা সূত্রধর দীপা ধর্মান্তরিত হয়ে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে (এভিডেভিড) ইসলাম ধর্মের রীতিরেওয়াজ মেনে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পার্শ্ববর্তী দৌলতপুর গ্রামের মৃত তোফাজ্জল হাজীর ছেলে নারায়ণপুর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড যুবদলের সহ-সভাপতি মো. শাহআলম হাজী ও যুবদলকর্মী জিসান আহমেদ গত ২৬ জুন রাত ৯টার দিকে খন্দকার বাড়িতে গিয়ে ইরফানের পরিবারের কাছে চাঁদা দাবি করে। বিষয়টি নিয়ে তাৎক্ষণিক শাহআলম হাজী ও জিসানের সাথে ইরফানের বাবা সফিউল্লাহ খন্দকার ও বোন জামাই ইউসুফ মিয়াজীসহ হরিদাসপাড়া গ্রামের লোকজনের তর্কবিতর্ক হয়। পরবর্তীতে বিষয়টি স্থানীয় বিএনপি নেতারা বৈঠক করে মীমাংসা করে দিবে বলে আশ্বস্ত করলে বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে আসে।
এই ঘটনার জের ধরে হরিদাসপাড়া গ্রামের মিয়াজী বাড়ির মৃত আবুল বাসারের ছেলে গোস্ত ব্যবসায়ী ইউসুফ মিয়াজী শুক্রবার (৩ জুলাই) ভোর ৪টার দিকে জোড়পুল আড়ং বাজারে গরু জবাইর উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে হরিদাসপাড়া-জোড়পুল রাস্তার মোড়ে আসলে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা যুবদল নেতা শাহআলম হাজী ও জিসান আহমেদ ইউসুফ মিয়াজীকে পিছন থেকে লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে আঘাত করে। এসময় ইউসুফের সাথে থাকা ৩ লক্ষ ১০ হাজার টাকা নিয়ে যায় এবং তার ভাই সাত্তার মিয়াজীকে পাশের ডোবায় পেলে দেয়। এক পর্যায়ে ইউসুফ দৌড়ে পাশের মজুমদার বাড়ির হাবিব মজুমদারের ঘরের সামনে গিয়ে বাঁচানোর জন্য চিৎকার দিলে হাবিব মজুমদার ও এলাকার লোকজন গিয়ে ইউসুফকে রক্তাক্ত জখম অবস্থা উদ্ধার করে প্রথমে মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়।
ভুক্তভোগী ও ইউসুফের শ্বাশুড়ি আছমা বেগম জানান, আমার ছেলে হিন্দু মেয়েকে বিয়ে করায় দৌলতপুর গ্রামের হাজির বাড়ির শাহআলম হাজী ও জিসান আহমেদ আমার বাড়িতে এসে আমার ছেলের বউকে টেনেহিঁচড়ে ঘর থেকে বের করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এসময় তাঁরা আমার কাছে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে না হলে মেয়েকে বের করে দিতে বলে। পরে আমার এলাকার লোকজন আসলে তারা বাড়ি থেকে চলে যায়। এসময় তাদের সাথে আমার স্বামী সফিউল্লাহ খন্দকার ও মেয়ের জামাই ইউসুফ মিয়াজীর সাথে তর্কবিতর্ক হয়। এই ঘটনার জের ধরেই শুক্রবার ভোরে আমার মেয়ের জামাইকে শাহআলম হাজী ও জিসান আহমেদ মারধর করে।
আহত ইউসুফের মা হালিমা বেগম জানান, আমার ছেলের শ্যালক হিন্দু মেয়েকে মুসলিম বানিয়ে বিয়ে করাকে কেন্দ্র করে শাহআলম হাজী ও জিসানের সাথে কথা কাটাকাটি হয়। এই ঘটনার জের ধরে তারা আমার ছেলের উপর অতর্কিত হামলা করে। এসময় আমার ছেলের সাথে থাকা ৩ লক্ষ ১০ হাজার টাকা নিয়ে যায়। আমি এই হামলা ও মারধরের বিচার চাই।
এবিষয়ে অভিযুক্ত শাহআলম হাজী বলেন, আমি কোন চাঁদা দাবি করি নাই এবং ইউসুফকে মারধরের বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা।
নারায়ণপুর ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক সুমন বকাউল বলেন, দলের নাম ভাঙ্গিয়ে যদি কেউ চাঁদাবাজি বা অন্যায় করে। আর তা যদি প্রমানিত হয়। তবে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নিজস্ব প্রতিনিধি