প্রকাশের সময়: রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২৬ । ৮:০৩ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জে যুবকের ঝুলন্ত অ র্ধগ লিত মৃ তদে হ উদ্ধার

এস. এম ইকবাল
বাবা মারা গেছেন তিন বছর আগে। বড় ভাই প্রবাসে। মা-ও দেড় বছর আগে পাড়ি জমিয়েছেন নতুন সংসারে। জনমানবহীন ফাঁকা বাড়িতে একাকী জীবন কাটাত ১৯ বছরের তরুণ রিমন হোসেন। সেই নিঃসঙ্গ ঘরেই অবসান হলো তার জীবনের। গত তিন দিন ধরে আড়ার সঙ্গে ঝুলে ছিল রিমনের নিথর দেহ। অবশেষে ঘর থেকে আসা তীব্র পঁচা দুর্গন্ধে বেরিয়ে এলো এক করুণ ও মর্মান্তিক পরিণতির গল্প।
রোববার (৫ জুলাই) সকালে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের চরমুঘুয়া গ্রামের নূর পাটওয়ারী বাড়িতে এই লোমহর্ষক ঘটনাটি জানাজানি হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে রিমনের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে। মৃত রিমন ওই বাড়ির মরহুম আবুল কাশেমের ছেলে।
স্থানীয় সূত্র ও স্বজনরা জানান, বাবা মারা যাওয়ার পর রিমন বিপথগামী হয়ে পড়ে। মাদকের নেশায় বুঁদ হয়ে থাকতো সে। বড় ভাই সৌদি প্রবাসী হওয়ার পর বাড়িতে রিমন আর তার মা থাকতেন। কিন্তু মাদকের টাকার জন্য মায়ের ওপর প্রায়ই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতো সে। অতিষ্ঠ হয়ে প্রায় দেড় বছর আগে স্বজনদের সিদ্ধান্তে রিমনের মা ফতেমা বেগম অন্যত্র বিয়ে করেন। এরপর থেকে ওই বাড়িতে একাই থাকতো রিমন।
বিলাপ করতে করতে রিমনের মা ফতেমা বেগম বলেন, “রিমন বখাটেদের সাথে মিশে গভীর রাতে বাড়ি ফিরতো। শাসন করতে গেলে আমাকে মারধর করতো। এক পর্যায়ে আমার ভাই ও মা মিলে আমাকে অন্যত্র বিয়ে দেয়। দ্বিতীয় বিয়ের পর আমি সেখানে থাকলেও মনে মনে রিমনের খোঁজ নিতাম। গত বৃহস্পতিবার রাতেও এক প্রতিবেশীর মাধ্যমে জানতে পারি রিমন স্থানীয় বাজারে আছে। আজ সকালে শুনি আমার ছেলেটা আর নেই।”
রিমনের চাচা এমরান হোসেন লিটন জানান, রোববার ভোরে স্থানীয়রা হাঁটতে বেরিয়ে রিমনের ঘর থেকে অসহ্য পঁচা দুর্গন্ধ পায়। রিমনের ঘরের দরজা-জানালা সব ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। এক পর্যায়ে প্রতিবেশীরা জানালার ফাঁক দিয়ে উঁকি দিলে আড়ার সঙ্গে রিমনের অর্ধগলিত লাশ ঝুলতে দেখে আঁতকে ওঠেন। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দিলে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে। ধারণা করা হচ্ছে, গত বৃহস্পতিবার রাতের কোনো এক সময় সে আত্মহত্যা করেছে।
এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ এরশাদ উল্লাহ্ জানান, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রিমনের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে। লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। মাদকের কারণে এই আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।”

Editor and Publisher: Mohammad Abdul Qayyum Khan. Acting Editor: Saiful Islam Sifat. Executive Editor: Md. Masud Rana.

Editorial and Commercial Office: Bhuiyan Bhaban, (2nd Floor), Adjacent to Chandpur Government College, Chandpur. News Room: Medina Super Market (2nd Floor), Ramganj Road, Bishwa Road, Hajiganj, Chandpur.

প্রিন্ট করুন