প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬ । ৭:৩০ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

দুই গোলে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে আর্জেন্টিনা চাঁদপুরে সমর্থকদের বাঁধভাঙ্গা উচ্ছ্বাস

নিজস্ব প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ ফুটবলের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। শ্বাসরুদ্ধকর এই জয়কে ঘিরে চাঁদপুরেও ছিল উৎসবের আমেজ। খেলা শেষ হতেই উল্লাসে ফেটে পড়েন আর্জেন্টিনা সমর্থকরা। করতালি, আনন্দধ্বনি আর প্রিয় দলের জার্সি উড়িয়ে বিজয় উদযাপন করেন তারা।
মোশারফ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে চাঁদপুর শহরের হাসান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বিশাল এলইডি পর্দায় খেলা দেখার আয়োজন করা হয়। রাত বড় হবার সাথে সাথে হাজার হাজার ফুটবলপ্রেমী মাঠে ভিড় করেন। পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের সঙ্গে একসঙ্গে খেলা উপভোগ করতে পেরে দর্শকদের মধ্যে ছিল অন্যরকম আনন্দ।

ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলের আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠে লড়াই। বলের দখল, দ্রুতগতির পাসিং এবং রক্ষণভাগের দৃঢ়তায় দুই দলই নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দেয়। প্রথমার্ধে কোনো দল গোলের দেখা না পেলেও দ্বিতীয়ার্ধে ইংল্যান্ড এগিয়ে যায় ১-০ গোলে। এতে করে মুহূর্তেই মাঠজুড়ে নেমে আসে নীরবতা। চাঁদপুরের আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মুখেও তখন উদ্বেগের ছাপ স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

তবে পিছিয়ে পড়েও দমে যায়নি আর্জেন্টিনা। দুর্দান্ত দলীয় সমন্বয়, নিখুঁত পাসিং এবং আক্রমণভাগের অসাধারণ নৈপুণ্যে ম্যাচের শেষ মুহূর্তে ঘুরে দাঁড়ায় আলবিসেলেস্তেরা। ইংল্যান্ডের দেয়াল তৈরি করা ডিফেন্সভেঙেনির্ধারিত সময়ের শেষদিকে পরপর দুটি গোল করে ম্যাচ নিজেদের করে নেয় আর্জেন্টিনা। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়েন উপস্থিত সমর্থকরা। কেউ একে অপরকে জড়িয়ে ধরেন, কেউ মোবাইলে সেই মুহূর্ত ধারণ করেন, আবার কেউ আনন্দে চিৎকার করে উদযাপন করেন ফাইনালে ওঠার গৌরব।

খেলা দেখতে আসা সমর্থক রিয়াদ হোসেন বলেন, “ইংল্যান্ড গোল করার পর মনে হয়েছিল হয়তো এবার স্বপ্ন ভেঙে যাবে। কিন্তু আর্জেন্টিনা যেভাবে শেষ মুহূর্তে ঘুরে দাঁড়াল, তা সত্যিই অবিশ্বাস্য। এমন ম্যাচ জীবনে অনেক দিন মনে থাকবে।”

আরেক দর্শক সাইফুল ইসলাম বলেন, “বড় পর্দায় শত শত মানুষের সঙ্গে খেলা দেখার অনুভূতিটা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। শেষের দুই গোলের সময় পুরো মাঠ যেন কেঁপে উঠেছিল। এমন আয়োজনের জন্য মোশারফ ফাউন্ডেশনকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।”

দর্শক নুসরাত জাহান বলেন, “পরিবার নিয়ে নিরাপদ পরিবেশে খেলা দেখতে পেরে খুব ভালো লেগেছে। আর্জেন্টিনার জয়ের সঙ্গে সঙ্গে পুরো মাঠে যে আনন্দের বিস্ফোরণ ঘটেছে, সেটি ছিল অসাধারণ একটি অভিজ্ঞতা।”

মোশারফ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা মারজুক মুঈদ ঐশ্বর্য বলেন, চাঁদপুরের ফুটবলপ্রেমীদের একত্রিত করে আনন্দ ভাগাভাগি করার লক্ষ্যেই আমাদের এই আয়োজন।

তিনি বলেন, খেলাধুলা মানুষকে একত্রিত করে, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বাড়ায়। সেই চিন্তা থেকেই আমরা বিশাল এলইডি পর্দায় খেলা দেখার ব্যবস্থা করেছি। দর্শকদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ও উচ্ছ্বাস আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে। ভবিষ্যতেও চাঁদপুরের মানুষের জন্য এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার চেষ্টা থাকবে।”

মোশারফ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এবং চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র পদপ্রার্থী আলহাজ্ব মোঃ মোশাররফ হোসাইন বলেন, “খেলাধুলা মানুষে মানুষে ভ্রাতৃত্ববোধ, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বন্ধন আরও সুদৃঢ় করে। আমাদের প্রত্যাশা, তরুণ সমাজ খেলাধুলার মাধ্যমে মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে থেকে একটি সুস্থ, মানবিক ও সচেতন সমাজ গড়ে তুলবে। মোশারফ ফাউন্ডেশন সেই লক্ষ্য নিয়েই সামাজিক, মানবিক ও ক্রীড়াভিত্তিক নানা আয়োজন করে আসছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা এমন একটি পরিচ্ছন্ন, আধুনিক ও বাসযোগ্য চাঁদপুর গড়তে চাই, যেখানে নাগরিকরা নিরাপদ ও সুন্দর পরিবেশে বসবাস করবে। ক্রীড়া, সংস্কৃতি, শিক্ষা এবং সামাজিক সম্প্রীতির বিকাশ ঘটিয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ ও প্রাণবন্ত শহর গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য। চাঁদপুরের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে আমরা সবসময় কাজ করে যেতে চাই।”

এদিকে খেলা শেষেও দীর্ঘ সময় ধরে মাঠে উৎসবের আবহ বিরাজ করে। অনেকেই প্রিয় দলের পতাকা হাতে বিজয় মিছিল করেন এবং ফাইনালেও আর্জেন্টিনার জয় প্রত্যাশা করেন। আর্জেন্টিনার রোমাঞ্চকর এই জয় শুধু বিশ্বকাপের ফাইনালের টিকিটই নিশ্চিত করেনি, চাঁদপুরের হাজারো সমর্থকের হৃদয়েও এনে দিয়েছে উচ্ছ্বাস, আনন্দ ও নতুন স্বপ্ন।

Editor and Publisher: Mohammad Abdul Qayyum Khan. Acting Editor: Saiful Islam Sifat. Executive Editor: Md. Masud Rana.

Editorial and Commercial Office: Bhuiyan Bhaban, (2nd Floor), Adjacent to Chandpur Government College, Chandpur. News Room: Medina Super Market (2nd Floor), Ramganj Road, Bishwa Road, Hajiganj, Chandpur.

প্রিন্ট করুন