প্রকাশের সময়: রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬ । ১১:৪৩ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জে জমি বিক্রি করে টাকা হজম, এখন দখলেও বাধা; বিক্রেতার দাপটে দিশেহারা প্রবাসী জমির ক্রেতা

এস. এম ইকবাল
টাকা দিয়ে জমি কিনে দলিল সম্পাদন এবং মেপে দখল নেওয়ার পরও চরম বিপাকে পড়েছেন এক প্রবাসী। জমি ফিরিয়ে নিতে বিক্রয়কারী ও তাঁর স্বজনেরা এখন পেশীশক্তি প্রদর্শন করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালত থেকে শুরু করে জল গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। আইনি লড়াইয়ে আদালতের রায় প্রবাসীর অনুকূলে এলেও প্রতিপক্ষের হুমকি ও দাপটে কেনা সম্পত্তি ভোগদখল করতে পারছেন না তিনি।
চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার রূপসা উত্তর ইউনিয়নের গাব্দেরগাঁও গ্রামে।
ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, গাব্দেরগাঁও গ্রামের ক প্রবাসী সবুজ হোসেন ২০২৩ সালের ১৯ জুন প্রতিবেশী আব্দুল মান্নানের কাছ থেকে গাব্দেরগাঁও মৌজার ৪০৮ দাগের ৮ শতক জমি ক্রয় করেন। জমি ক্রয়ের পর তিনি তা শান্তিপূর্ণভাবেই ভোগদখল করে আসছিলেন। তবে জমিটি সরকারি রাস্তার পাশে হওয়ায় এবং সময়ের সাথে সাথে এর বাজারমূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় তা পুনরায় হস্তগত করার চক্রান্ত শুরু করেন বিক্রেতা আব্দুল মান্নান ও তাঁর ওয়ারিশরা। জমি দখলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হলে সবুজ হোসেন বিষয়টি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে জানান। কিন্তু স্থানীয় শালিসে কোনো সুরাহা না হওয়ায় প্রতিকার চেয়ে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন।
সবুজ হোসেন ২০২৩ সালের ৩০ নভেম্বর চাঁদপুর ফরিদগঞ্জ সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে একটি নিষেধাজ্ঞা মামলা (নং- ৩৮০/২০২৩) দায়ের করেন। শুনানি শেষে আদালত প্রবাসীর পক্ষে আদেশ জারি করেন।
এদিকে জমি ফেরত পেতে আব্দুল মান্নানের স্ত্রী ও পাঁচ সন্তান বাদী হয়ে ২০২৪ সালের ২ মে একই আদালতে একটি অগ্রক্রয়/হকশূফা মামলা (নং- ১৩৫/২০২৪) দায়ের করেন। ২০২৫ সালের ২৭ জানুয়ারি আদালত শুনানি শেষে তাদের মামলাটি খারিজ করে দেন।
আদালতে আইনি লড়াইয়ে ব্যর্থ হয়ে আব্দুল মান্নান ও তাঁর সহযোগীরা প্রবাসীর পরিবারের ওপর চড়াও হন। হুমকি-ধমকি ও পেশীশক্তি ব্যবহার শুরু করায় কেনা সম্পত্তি রক্ষা এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন ওই প্রবাসী ও তাঁর স্বজনেরা।
ভুক্তভোগী প্রবাসীর মা খতেজা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমার ছেলে প্রবাসে রক্ত পানি করা কষ্টের উপার্জনের সবটুকু দিয়ে এই জমিটুকু কিনেছিল। মান্নান নিজেই জমি বিক্রি করে টাকা নিয়েছেন, আবার এখন তাঁর ছেলেদের নিয়ে আমাদের নানাভাবে হয়রানি করছেন। বাড়িতে এসে হুমকি দেয়, মারধর করতে আসে। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিক্রেতা আব্দুল মান্নান প্রথমে বিক্রয়কৃত সম্পত্তি হিসেবে স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুকুরের একটি অংশ দেখিয়ে নিজের অপরাধ ঢাকার চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে দলিলের দাগ-খতিয়ান প্রদর্শন করা হলে তিনি তড়িঘড়ি করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
এ বিষয়ে উক্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি কবির হোসেনের সাথে মোবাইল ফোনে কথা হলে তিনি জানান, জমি বিক্রেতা আব্দুল মান্নান একজন প্রতারক। সে বিদ্যালয়ের সম্প্রতি ঐ ছেলেকে বুঝিয়ে দিতে চায়। অথচ তার দেওয়া দলিলের দাগের সাথে বিদ্যালয়ের সম্পত্তির কোন মিল নেই। সে জমি ক্রেতা প্রবাসী সবুজের সাথে খুবই অন্যায় করছে। তার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট সরকার কর্তৃপক্ষ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে স্থানীয় ইউপি সদস্য ইব্রাহিম মৃধা বলেন, সবুজের কেনা জমির দলিল শতভাগ সঠিক। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি মীমাংসার জন্য স্থানীয়ভাবে একাধিকবার বৈঠক করা হয়েছে। কিন্তু রায় নিজের বিপক্ষে গেলেই মান্নান শালিস অমান্য করে উঠে যান।
প্রবাসীর এই ভোগান্তির স্থায়ী অবসান দাবি করেছেন স্থানীয় প্রতিবেশীরাও। একজন রেমিট্যান্স যোদ্ধার কেনা সম্পত্তি উদ্ধারে এবং তাঁর পরিবারের সুরক্ষা নিশ্চিতে প্রশাসনের দ্রুত ও কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন সচেতন এলাকা।

Editor and Publisher: Mohammad Abdul Qayyum Khan. Acting Editor: Saiful Islam Sifat. Executive Editor: Md. Masud Rana.

Editorial and Commercial Office: Bhuiyan Bhaban, (2nd Floor), Adjacent to Chandpur Government College, Chandpur. News Room: Medina Super Market (2nd Floor), Ramganj Road, Bishwa Road, Hajiganj, Chandpur.

প্রিন্ট করুন