নাগরিকদের ওপর নতুন কোনো কর আরোপ ছাড়াই চাঁদপুরের শাহরাস্তি (ক-শ্রেণির) পৌরসভার ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের ৪৬ কোটি ৬০ লাখ ৬১ হাজার ২৯৯ টাকা আয়, ৪৫ কোটি ৫৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা ব্যয় এবং ১ কোটি ৬ লাখ ২১ হাজার ২৯৯ টাকা সমাপনী উদ্বৃত্ত রেখে প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকালে শাহরাস্তি পৌরসভা মিলনায়তনে আয়োজিত উন্মুক্ত বাজেট অধিবেশনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), পৌর প্রশাসক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনিরা খাতুনের সভাপতিত্বে বাজেটের বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করেন পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী ও হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মশিউর রহমান।
ঘোষিত বাজেটের সার-সংক্ষেপে দেখা যায়, রাজস্ব হিসাবে আয় ধরা হয়েছে ১০ কোটি ৮৪ লাখ ৫৪ হাজার ৬৫৮ টাকা, ব্যয় ১০ কোটি ১৫ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং উদ্বৃত্ত ৬৯ লাখ ৩৪ হাজার ৬৫৮ টাকা। পানি রাজস্ব হিসাবের আয় ৩১ লাখ ২০ হাজার টাকা, ব্যয় ২৭ লাখ ৭০ হাজার টাকা এবং উদ্বৃত্ত ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ফলে মোট রাজস্ব বাজেটে আয় ধরা হয়েছে ১১ কোটি ১৫ লাখ ৭৪ হাজার ৬৫৮ টাকা, ব্যয় ১০ কোটি ৪২ লাখ ৯০ হাজার টাকা এবং উদ্বৃত্ত ৭২ লাখ ৮৪ হাজার ৬৫৮ টাকা।
এছাড়া উন্নয়ন হিসাবে আয় ধরা হয়েছে ৩৪ কোটি ৬৯ লাখ ৮৬ হাজার ৬৪১ টাকা, ব্যয় ৩৪ কোটি ৩৭ লাখ টাকা এবং উদ্বৃত্ত ৩২ লাখ ৮৬ হাজার ৬৪১ টাকা। মূলধন হিসাবের আয় ৭৫ লাখ টাকা, ব্যয় ৭৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং উদ্বৃত্ত ৫০ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে বাজেটে মোট আয় ৪৬ কোটি ৬০ লাখ ৬১ হাজার ২৯৯ টাকা, মোট ব্যয় ৪৫ কোটি ৫৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা এবং সমাপনী উদ্বৃত্ত ১ কোটি ৬ লাখ ২১ হাজার ২৯৯ টাকা রাখা হয়েছে।
বাজেট বক্তব্যে পৌর প্রশাসক মনিরা খাতুন বলেন, নতুন কোনো কর আরোপ না করেই নাগরিক সেবার পরিধি বৃদ্ধি, চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমের গতি বাড়ানো এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে এ বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর পৌরসভার দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে সেগুলোর সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যে দখলকৃত খাল পুনরুদ্ধার ও সংস্কার, ড্রেনেজ ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার, পৌরসভার নিজস্ব জায়গায় ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণ ও সংযোগ সড়ক নির্মাণ এবং গরু-ছাগলের হাট, কসাই খানা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
বিশিষ্ট নাগরিকদের বক্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, পৌরবাসীর পানি, সড়ক, ড্রেনেজ ও বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন মৌলিক সমস্যা সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ সচেতন রয়েছে। আর্থিক সীমাবদ্ধতা, জনবল সংকট ও অবকাঠামোগত দুর্বলতার মধ্যেও নাগরিক সেবার মানোন্নয়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
পৌরসভার ব্যয় সম্পূর্ণভাবে নিজস্ব আয় ও সরকারের সীমিত অনুদানের ওপর নির্ভরশীল। সেবারমান বাড়াতে জনগণকে ট্যাক্স পরিশোধে আরো উদ্বুদ্ধ হতে হবে। এ ছাড়া পানির গুণগত মান নিশ্চিত করতে পানি শোধনাগারে ক্লোরিন ও প্রয়োজনীয় রাসায়নিক ব্যবহারের সার্বক্ষণিক তদারকির জন্য সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় প্রকৌশলী ও কারিগরি জনবল নিয়োগ হলে নাগরিক সেবার মান আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
পৌর প্রশাসক আরও বলেন, দায়িত্বে থাকা পর্যন্ত স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে পৌরবাসীর প্রত্যাশা পূরণে কাজ করে যাবেন।
এবারের বাজেটে ক্ষতিগ্রস্ত ভৌত অবকাঠামো, রাস্তাঘাট নির্মাণ ও সংস্কার, ড্রেনেজ ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন, সেতু-কালভার্ট নির্মাণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন নির্মাণ এবং জনস্বাস্থ্য উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়াসহ সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে এবং ভ্যাকসিন কার্যক্রমে পৃথক বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
মশক নিধন কার্যক্রমের জন্যও বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এছাড়া শাহরাস্তি পৌরসভার টেকসই অবকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে আরবান ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচার প্রজেক্ট-২ (UCRIP-II) এবং লক্ষ্মীপুর-চাঁদপুর জেলার পৌরসভাসমূহের অবকাঠামো উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্প পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। যা বাস্তবায়নে আমরা আশাবাদী।
উন্মুক্ত বাজেট অধিবেশনে বক্তব্য রাখেন শাহরাস্তি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান, উপজেলা প্রকৌশলী মাইনুল হোসেন, পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রশীদ, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. ইসহাক, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম, উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. নোমান হোসেন এবং প্রধান সহকারী মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মো. আবুল কালাম, যুগ্ম আহ্বায়ক বেলায়েত হোসেন সেলিম, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ইকবাল হোসেন, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আলী আজগর মিয়াজী, ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জুবায়ের আল নাহিয়ান রাজু এবং পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাজহারুল ইসলাম জুয়েল।
গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন হাবিবুর রহমান ভূঁইয়া, মইনুল ইসলাম কাজল, মো. মাসুদ রানা, নোমান হোসেন আখন্দ, ফয়সাল আহমেদ ও আবু মুসা সিহাব।এছাড়া স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সুধীজন এবং পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
উন্মুক্ত আলোচনা ও বাজেট অধিবেশন শেষে পৌর প্রশাসক উপস্থিত অতিথিদের সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করেন।

মোঃ মাসুদ রানা