শাহরাস্তিতে পৃথক অভিযান চালিয়ে ৪ পিস ইয়াবাসহ তিনজন, অনলাইন জুয়া খেলার অভিযোগে দুজন এবং নিয়মিত চুরি মামলায় একজনকে আটক করেছে শাহরাস্তি মডেল থানা পুলিশ। এছাড়া রাতে অযাচিতভাবে ঘোরাফেরার অভিযোগে চার কিশোরকে আটক করে অভিভাবকদের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।
৯ আগস্ট শাহরাস্তি পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ছিকুটিয়া এলাকায় ওয়াকওয়ে সংলগ্ন কালীবাড়ী-শোরশাকগামী সড়কের পাশে অভিযান চালিয়ে মোবাইলে সাইবার অ্যাপসের মাধ্যমে অনলাইন জুয়া খেলার সময় সোলেমান হোসেন (২০) ও মো. আজমীর হোসেন (২৫)কে আটক করা হয়। তাদের উভয়ের শাহরাস্তি উপজেলার বাসিন্দা। একই দিন পুলিশ অভিযান চালিয়ে নিয়মিত চুরি মামলার এজাহারনামীয় অভিযুক্ত মো. ইয়াছিন (২২)কে আটক করে। তিনি চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার পিপলকড়া গ্রামের মো. আমির হোসেনের ছেলে।
৮ আগস্ট টামটা উত্তর ইউপির বোস্তা গ্রামের মেহের বাড়ির সামনে সড়কে অভিযান চালিয়ে ৪ পিস ইয়াবাসহ আবেদ শাহ মেহেদী (১৯) ও মো. রুবেল (৩২)কে নামে দুই যুবককে আটক করা হয়। আবেদ শাহ মেহেদী বোস্তা গ্রামের শাহ এমরানের ছেলে এবং রুবেল তারালিয়া গ্রামের বাচ্চু মিয়ার ছেলে।
দুজনের টামটা উত্তর ইউপির বাসিন্দা। একই দিন ওই ইউনিয়নের মুড়াগাঁও গ্রামের আড়ং বাজারে আলী আক্কাছের চায়ের দোকানে অভিযান চালিয়ে ৪ পিস ইয়াবাসহ মো. সোহাগ (২৪)কে আটক করা হয়। তিনি কচুয়া থানার ৯ নম্বর কড়াইয়া ইউনিয়নের আকানিয়া নাছিরপুর গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮, জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬ এবং দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করা হয়েছে। মামলাগুলোর এফআইআর নং যথাক্রমে ৮, ৯, ১০ ও ৭ এবং জিআর নং ২৫১, ২৫২, ২৫৩ ও ২৫০। আটককৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
এদিকে ৮ আগস্ট রাত সাড়ে ৯টার দিকে ছিকুটিয়া ব্রিজে অভিযান চালিয়ে রাতে অযাচিতভাবে ঘোরাফেরার অভিযোগে চার কিশোরকে আটক করা হয়। তারা হলো নিজ মেহের (নোয়াবাড়ী) গ্রামের শহীদুল্লাহর ছেলে আব্দুল্লাহ আল নোমান (১৭), আব্দুর নূরের ছেলে আরমান হোসেন (১৬), মো. সাজ্জাদ হোসেনের ছেলে মো. আব্দুল আহাদ (১২) এবং শাহাদাত হোসেনের ছেলে মো. রাসেল হোসেন (১৫)। জিজ্ঞাসাবাদে তারা রাতে ঘোরাফেরার বিষয়ে সন্তোষজনক কারণ জানাতে পারেনি। পরে থানার রেকর্ড ও সিডিএমএসে বিরূপ তথ্য না পাওয়ায় এবং অভিভাবকদের আশ্বাসের পর তাদের জিম্মায় দেওয়া হয়।
শাহরাস্তি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, মাদক, অনলাইন জুয়া ও চুরিসহ অপরাধ দমনে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি কিশোরদের অপরাধ থেকে দূরে রাখতে অভিভাবকদের আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে।

মোঃ মাসুদ রানা