আসন্ন হাজীগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে টোরাগড় দক্ষিণ ৮ নম্বর ওয়ার্ডের নাগরিকদের কাছে দোয়া, ভালোবাসা ও সমর্থন চেয়েছেন জহির আহমেদ জহির। তিনি ওয়ার্ডবাসীর সেবা করার সুযোগ পেলে মাদক, জুয়া ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
এক বক্তব্যে জহির আহমেদ জহির বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি বিভিন্ন মামলার আসামি হয়ে দীর্ঘদিন দেশের বিভিন্ন স্থানে পলাতক ছিলেন। এ সময় জেল, জুলুম ও নির্যাতনের শিকার হওয়ার পাশাপাশি পুলিশের হয়রানিরও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি দাবি করেন, ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম, রামগঞ্জ, দাউদকান্দিসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তাকে আত্মগোপনে থাকতে হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, রেলওয়ে বোমা হামলা মামলাসহ টোরাগড় ও হাজীগঞ্জ বাজারের বিভিন্ন মামলায় তার নাম আসামি হিসেবে ছিল।
জহির আহমেদ জহির আরও দাবি করেন, তৎকালীন হাজীগঞ্জ থানার ওসি শাহ আলমের নেতৃত্বে তার বাসার চারটি দরজা ভাঙচুর এবং দোকানের শাটার ভেঙে মালামাল নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছিল।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া দুটি মামলায় তাকে প্রধান আসামি করা হয়েছিল। ২৬ জুলাই ২০২৪ দুপুরে টোরাগড় স্বর্ণকলি স্কুল সংলগ্ন এলাকায় তার বাড়িতে বিপুলসংখ্যক পুলিশ, সাদা পোশাকের পুলিশ, নারী পুলিশ, ডিবি ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা অভিযান চালায় বলেও দাবি করেন তিনি।
জহির বলেন, “আল্লাহর রহমতে সেদিন মা-বাবা ও এলাকাবাসীর দোয়া এবং ভালোবাসায় আমি বেঁচে যাই। মৃত্যুর মুখোমুখি হয়ে সেদিন আসরের নামাজ পড়ে তওবা করি এবং পরিবারের সবার কাছ থেকে বিদায় নিই।”
নিজের অতীতের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, পুলিশি হয়রানি ও নির্যাতনের অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে চান।
আগামী হাজীগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে টোরাগড় দক্ষিণ ৮ নম্বর ওয়ার্ড থেকে নাগরিকদের সেবা করার সুযোগ প্রত্যাশা করে জহির আহমেদ জহির বলেন, “আমি মাদকের বিরুদ্ধে মাঠে আছি, জুয়ার বিরুদ্ধে মাঠে আছি এবং সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে মাঠে আছি। একবারের জন্য আমাকে সেবা করার সুযোগ দিন। প্রতিশ্রুতি দিয়ে বা লোভ দেখিয়ে নয়, কাজ করে দেখাতে চাই—ইনশাআল্লাহ।”
তিনি টোরাগড় দক্ষিণ ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সব নাগরিকের দোয়া, ভালোবাসা ও সহযোগিতা কামনা করেন।

মেহেদি হাসান রিমেল