প্রকাশের সময়: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ । ৯:৩৬ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

কচুয়ায় স্ত্রীর বিরুদ্ধে শ্বাশুড়িকে মারধর করে তাড়িয়ে দেয়ায় স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে তালাক

কচুয়া প্রতিনিধি

চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার বরুচর গ্রামে কুয়েত প্রবাসী আবু মুসার স্ত্রী মাহমুদা আক্তারকে তালাক দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে। প্রবাসী আবু মুসার অভিযোগ, তার স্ত্রী বৃদ্ধা ও অসুস্থ মা আমেনা বেগমের সঙ্গে খারাপ আচরণ, গালমন্দ ও মারধর করে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছেন। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন বলে দাবি করেছেন। এ ঘটনায় স্থানীয় প্রভাবশালীদের হুমকি-ধমকির ফলে প্রাণভয়ে স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন প্রবাসীর ২ ভাই কবি আল-আমিন ও ইদ্রীস মিয়া।

অন্যদিকে মাহমুদা আক্তারের পরিবার ও স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, কোনো ধরনের পূর্ব আলোচনা বা সামাজিক সমাধানের উদ্যোগ ছাড়াই একতরফাভাবে তাকে তালাক দেওয়া হয়েছে। তারা মাহমুদা ও তার তিন সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। জানা গেছে, প্রায় ২৩ বছর আগে কচুয়া উপজেলার বরুচর গ্রামের মো. নজরুল ইসলামের মেয়ে মাহমুদা আক্তারের সঙ্গে একই গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে আবু মুসার ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক পছন্দের ভিত্তিতে বিয়ে হয়।

দাম্পত্য জীবনে তাদের মনিরা আক্তার, মাকছুদা ও মাহমুদুল হাসান নামে তিন সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর স্ত্রী-সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে আবু মুসা জীবিকার তাগিদে কুয়েতে পাড়ি জমান। সেখানে দীর্ঘদিন কর্মজীবন শেষে উপার্জিত অর্থ দিয়ে বাড়িতে একটি ভবন নির্মাণ করেন বলে তিনি জানান।

প্রবাসী আবু মুসা বলেন, প্রায় দুই বছর আগে তার বাবা মারা যান। এরপর তার বৃদ্ধা ও অসুস্থ মা আমেনা বেগম ওই বাড়ির এক পাশে বসবাস করতেন। তার অভিযোগ,মাহমুদা আক্তার তার মায়ের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার, গালমন্দ ও মারধর করে মাহমুদার পক্ষের কিছু

মাতাব্বরদের সাথে রেখে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছেন। বর্তমানে তার মা নিরুপায় হয়ে নবাবপুর এলাকায় ছোট ভাইয়ের বাড়িতে অবস্থান করছেন বলে দাবি করেন তিনি। তিনি আরও বলেন,“আমি আমার মাকে মাথায় তুলে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে পবিত্র হজ পালন করিয়েছি। যে ঘরে আমার মায়ের জায়গা নেই, সেই ঘরে আমি আমার স্ত্রীকে নিয়ে থাকতে পারি না। তাই আমি মাহমুদা আক্তারকে তালাক দিয়েছি।” আবু মুসার আরও অভিযোগ, এ ঘটনার জের ধরে গ্রামের হারুন, সফিক,কেফায়েত উল্যাহ, আবুল খায়েরসহ কয়েক জন ব্যক্তি মাহমুদা আক্তারের পরিবারের পক্ষ নিয়ে তার ছোট ভাই আল-আমিনকে মারধর করে হাত ভেঙ্গে দেয় এবং আলামিনের স্ত্রী সন্তানদেরসহ মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেন।

এছাড়া আবু মুছার একটি টিভি এবং আল-আমিনের একটি অটোরিকশা ও অপর ছোট ভাই ইয়াকুবের একটি মোটরসাইকেল এবং সবার ছোট ভাই ইদ্রিস এর ঘরের দুইটা খাট এবং দুইটা ফ্রীজ অন্যত্র বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মাহমুদা আক্তারের পরিবার অস্বীকার করে ভিন্ন মিথ্যা বক্তব্য দিয়েছেন, কিন্তু ঘটনা তদন্তে প্রমাণ পাওয়া যায় অভিযোগকারী আবু মুছার সকল অভিযোগ সঠিক ছিলো। আবু মুছা তার স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার পরেও সে লোকজনের মাধ্যমে জোপূর্বক মুছার বাড়িঘর দখল করে থাকতে চায় এবং আবু মুছার ভাইদের সকল আসবাবপত্র বিক্রি করে মাহমুদাকে দিতে চায়।

মাহমুদা তার লোকজনের মাধ্যমে মুসার পরিবারের সকলকে বাড়ি থাকার নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে এবং স্থানীয় লোকদের হুমকি দিয়ে বলেছে যেনো কেউ মুছার পক্ষে কথা না বলে। যদি কেউ মুছার পক্ষে সাক্ষী দেয় তাকেও মারধর করা হবে বলে জানান মাহমুদার পক্ষের লোকজন। মাহমুদা আক্তারের বাবা মো. নজরুল ইসলাম দাবি করেন, গত ১৬ আগস্ট চাঁদপুরের বিজ্ঞ নোটারি পাবলিক

কার্যালয়ের মাধ্যমে আবু মুসা তার মেয়েকে তালাক দিয়েছেন শুনেছি। কিন্তু তালাক দেওয়ার আগে মাহমুদা আক্তার বা তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা করা হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন।

মেয়ে ও নাতি-নাতনিদের শুকের কথা চিন্তা করে আমরা বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সমাধান চাই। তবে প্রবাসী আবু মুসা জানান, আমি আমার সন্তানদের দায়িত্ব অবশ্যই গ্রহন করব।

Editor and Publisher: Mohammad Abdul Qayyum Khan. Acting Editor: Saiful Islam Sifat. Executive Editor: Md. Masud Rana.

Editorial and Commercial Office: Bhuiyan Bhaban, (2nd Floor), Adjacent to Chandpur Government College, Chandpur. News Room: Medina Super Market (2nd Floor), Ramganj Road, Bishwa Road, Hajiganj, Chandpur.

প্রিন্ট করুন