আকাশে মেঘ জমলেই বুক কেঁপে ওঠে সাদ্দাম হোসেনের। বৃষ্টি নামলে ঘরের ভেতরেই বসাতে হয় হাঁড়ি-পাতিল, ফুটো টিনের চাল বেয়ে নামা পানি ঠেকাতে। ঝড়ের রাতে ঘুম হয় না—কখন যেন মাথার ওপরের শেষ আশ্রয়টুকুও ভেঙে পড়ে, এই আতঙ্কে রাত কাটে জেগে জেগে।
চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার নোয়াপাড়া গ্রামের এই বাসিন্দা চার সন্তানের জনক। জরাজীর্ণ টিনের একটি ভাঙা ঘরে পুরো পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন তিনি বছরের পর বছর। সংসারের নুন আনতে পান্তা ফুরানো অবস্থায় ঘর মেরামতের কথা তো দূরের কথা, দুবেলা খাবার জোগাড় করাই তার কাছে রীতিমতো যুদ্ধ।
স্থানীয়রা জানান, সাদ্দাম হোসেন পরিশ্রমী মানুষ, কিন্তু নিয়মিত রোজগারের কোনো নিশ্চিত উৎস নেই তার। এই অনিশ্চয়তার মধ্যেই বেড়ে উঠছে তার চার সন্তান। খেলাধুলা আর খুনসুটিতে তাদের মুখে এখনো হাসি লেগে থাকলেও, ভবিষ্যতের প্রশ্নে সেই হাসির আড়ালে লুকিয়ে আছে গভীর অনিশ্চয়তা।
“একটি ঘর শুধু ইট-পাথরের কাঠামো নয়, একটি পরিবারের নিরাপত্তা, সম্মান ও বেঁচে থাকার শেষ আশ্রয়”—স্থানীয় সমাজকর্মীরা এমন মন্তব্য করে বলছেন, সাদ্দাম হোসেনের পরিবারের এখন সবচেয়ে বড় প্রয়োজন একটি নিরাপদ মাথা গোঁজার ঠাঁই।
পরিবারটির পাশে দাঁড়াতে এগিয়ে এসেছেন এলাকার কিছু উদ্যোগী তরুণ। তারা সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষদের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি টেকসই ঘর নির্মাণ করে দেওয়া যায় এই অসহায় পরিবারকে।
সহযোগিতার জন্য যোগাযোগ করা যাবে— ফয়সাল ফাহিম: 01647118308, মিরাজ হোসেন: 01712305607। ঠিকানা: নোয়াপাড়া, শাহরাস্তি, চাঁদপুর।
একটি পরিবারের জীবনে সামান্য সহযোগিতাই বয়ে আনতে পারে আশার নতুন আলো। সমাজের বিবেকবান মানুষদের এগিয়ে আসার আহবান জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা।

নিজস্ব প্রতিনিধি