প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ । ৬:৪৫ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে প্রাইভেট পড়ানোর সময় শি’শু’কে শ্লীলতাহানি, মাদ্রাসা শিক্ষক আটক

নিজস্ব প্রতিনিধি

চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে এক শিশুকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে আমিনুল ইসলাম (৬৪) নামে এক মাদ্রাসা শিক্ষককে আটক করেছে শাহরাস্তি মডেল থানা পুলিশ। তিনি ধর্মীয় ভিত্তিক একটি রাজনৈতিক দলের সক্রিয় কর্মী বলে স্থানীয়রা  নিশ্চিত করেছেন।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) তাকে যথাযথ পুলিশ স্কর্টের মাধ্যমে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। পুলিশ ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার রায়শ্রী উত্তর ইউপির ৯ নম্বর ওয়ার্ডের উল্লাশ্বর (হাবিবউল্লাহ চেয়ারম্যান বাড়ি) এলাকায় শিশুটিকে প্রাইভেট পড়ানোর সময় বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন, মারধরের হুমকি ও শারীরিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে। তিনি ওই এলাকার মৃত হাসান আহাম্মেদের পুত্র।

শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ করা হলে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ১০ ধারায় নিয়মিত মামলা করা হয়। পরে ওসি মীর মাহবুবুর রহমানের দিকনির্দেশনায় এসআই (নিঃ) মো. আইয়ুব খান সঙ্গীয় ফোর্সসহ অভিযান চালিয়ে আমিনুল ইসলামকে আটক করেন।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, শিশুটি প্রায় দুই বছর ধরে ওই শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট পড়ছিল। গত তিন-চার মাস ধরে বিভিন্ন সময় তাকে ভয়ভীতি দেখানো ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে বলে শিশুটি তার মাকে জানিয়েছে। ভয়ে প্রথমে সে বিষয়টি কাউকে জানায়নি।

ঘটনার দিন বাড়িতে ফিরে শিশুটি কান্নাকাটি করলে স্কুলের শিক্ষিকা সামছুন্নাহার বিষয়টি জানতে চান। পরে শিশুটি তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া বিষয়গুলো জানান। শিক্ষিকা ফোন করে শিশুটির মাকে বিষয়টি অবহিত করেন এবং মেয়েকে ওই শিক্ষকের কাছে আর না পাঠানোর পরামর্শ দেন। শিশুটির মা জানান, মেয়ের কাছ থেকে জানতে পেরেছেন, তাকে বিভিন্ন সময় ভয় দেখানো, বস্তায় ভরে মারধর ও বালিশ দিয়ে চাপা দিয়ে মারার হুমকি দেওয়া হতো। হাত-পা টেনে ধরা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ব্যথা দেওয়ার অভিযোগও করেছে শিশুটি।

একটি ঘটনায় জামাকাপড় খুলে ফেলার অভিযোগ করেছে সে। ওই সময় শিক্ষকের পরিবারের একজন নারী সদস্য উপস্থিত ছিলেন বলেও শিশুটি জানিয়েছে। মা বলেন, “আমার মেয়ে ভয়ে অনেক দিন বিষয়গুলো আমাকে জানাতে পারেনি। ঘটনার দিন স্কুলের ম্যাডাম আমাকে ফোন করে জানান। পরে বিষয়টি জানার পর প্রথমে আত্মীয়স্বজন এবং স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেনসহ কয়েকজনকে অবহিত করি। মসজিদের ইমাম/হুজুরসহ স্থানীয় কয়েকজনকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে। আমি ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা উদঘাটন করে ন্যায়সঙ্গত বিচার চাই।

শিশুটিও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং নিরাপদে পড়াশোনার পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে। তার অভিযোগ, কাউকে জানালে তাকে মারধর ও বালিশ দিয়ে চাপা দেওয়ার ভয় দেখানো হতো। বিভিন্ন সময় হাত-পা টানা, শরীরের বিভিন্ন স্থানে চাপ দেওয়া ও ব্যথা দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে সে জানায়।

একটি ঘটনায় জামাকাপড় খুলে ফেলার অভিযোগের কথাও জানিয়েছে শিশুটি।

এদিকে শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি জানানো হলে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন শাহরাস্তি মডেল থানায় অবহিত করেন।শাহরাস্তি মডেল থানার প্রেস রিলিজ সূত্রে জানা যায়, এ ঘটনায় এফআইআর নম্বর-২৭, তারিখ ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ এবং জিআর নম্বর-৩১০, তারিখ ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬; নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ১০ ধারায় মামলা হয়েছে।ওসি মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, “বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। সংবাদ পেয়েই গুরুত্বের সঙ্গে তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। আসামি আমিনুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে যথাযথ পুলিশ স্কর্টের মাধ্যমে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

Editor and Publisher: Mohammad Abdul Qayyum Khan. Acting Editor: Saiful Islam Sifat. Executive Editor: Md. Masud Rana.

Editorial and Commercial Office: Bhuiyan Bhaban, (2nd Floor), Adjacent to Chandpur Government College, Chandpur. News Room: Medina Super Market (2nd Floor), Ramganj Road, Bishwa Road, Hajiganj, Chandpur.

প্রিন্ট করুন